শাহীন খন্দকার: রাজধানীসহ সারাদেশে টানা বৃষ্টি ও অতি বৃষ্টির ফলে রাজধানীর কাচাঁবাজারগুলোতে সবজির সরবাহ কমে গেছে। এ কারনে সবজির বাজারে দাম বেড়েছে ৩০-৪০ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে কলমিশাক ও হেলেঞ্চা শাকের দাম ছাড়া সকল সবজির দাম কেজে প্রতি ১০০-২০০ শত টাকা কওে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি মুরগীর ডিম ও মাছের দাম বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, অতি বৃষ্টির ফলে দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে সবজি আসতে বিলম্ব হচ্ছে। কোন কোন ব্যবসায়ী বলছেন, বৃষ্টির কারনে অনেক এলাকায় কৃষকের সবজি ক্ষেত ও বীজতলা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় শাক-সবজি আসছেনা শহরে। মূলত বৃষ্টির কারণেই শাকসবজীর দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ, যে জমিতে অথাৎ এক বিঘা জমিতে সবজি চাস হয় ১০ হাজার মুঠা শাক। সেই জমিতে বৃষ্টির কারনে বর্তমানে দুইহাজার মুঠা হচ্ছে।
রায়ের বাজার কাচাঁবাজারের সবজি ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম বলেন, অতি বৃষ্টির ফুটায় শাক ও সবজি গাছের গোড়া পজে যাচ্ছে, এতে ফলন হচ্ছে না। নতুন করে কৃষককে নতুন করে বীজতলা ক্ষেত তৈরী করে চাষ করতে হচ্ছে। ফলে একদিকে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে বাজারে সবজি সংকট হওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি বলেন, পাইকারি ডাটাশাক ও লালশাক বিক্রি হচ্ছে ১০-১৫ টাকায়, কলমি ৭-৮ টাকা ও হেলেঞ্চা শাক ৫ টাকা, পুইশাক ২০-৩০ টাকা, ছোট কচুর হালি ৭০ টাকা বড় কচু একপিচ ৭০-৭৫ টাকা কেজি করে। পেঁপে প্রতি কেজি ২০-২৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া কেজি ৩০-৩৫ টাকা, চাল কুমরা ২০-২৫ টাকা প্রতি পিচ। দুনধুল ৫০-৬০ টাকা কেজি, ঝিঙা ও চিচিঙ্গা একদামে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচ ২৫০ টাকা করে। ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম আরো বলেন আগামী তিন মাস সবজির দাম বৃদ্ধি থাকবে। নতুন সবজি বাজারে না আসা পর্যন্ত সবজির দাম কমবেনা বলে জানান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শীতের আগে সবজির দাম কমছেনা। আরো বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকারের বা বানিজ্য মন্ত্রীর করার কিছুই নেই।
কারণ প্রাকৃতিক দূর্যোগ অতি বৃষ্টিতে সবজির বিজতলা এবং সবজি ক্ষেত সম্পন্নভাবে নষ্ট হয়ে গেছে, এতে সরকারের করার কিছুই নেই। তবে অতি বৃষ্টির হাত থেকে সবজি ক্ষেত রক্ষা করতে হলে গ্রীনহাউসের মাধ্যমে সবজি চাষ করলে কখনো নষ্ট হয় না। তিনি বলেন, ঝড় বৃষ্টিতে , খামারের ওপরে মুটা প্লাস্টিকের ছাদ করে দিলে তবেই এই সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তবে এই পদ্ধতি খুবই ব্যয় বহুল প্রকল্প হওয়ায় বাংলাদেশে সম্ভব না দরিদ্র কৃষকদের।
এদিকে খুচরা বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে চাহিদার চেয়ে আমদানি কম থাকায় দাম বেড়েছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার, আদাবরসহ টাউন হল বাজার ঘুরে দেখা গেছে বর্তমানে লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১০০ টাকা দরে , গফরগাঁয়ের গোল বেগুন ১৪০-১৫০ টাকায়, করলা লম্বা ১০০ টাকা ছোট সাইজের করলা ১২০ টাকা করে, পটল ও ঢেরস ৮০ টাকা, ঝিঙা, দুনদুল, চিচিঙ্গা ৯০-১০০ টাকা, শশা সে মাথায় হাত ১৫০-২০০ টাকায়।
গত কয়েকদিন আগেও যে লাউ ৪০-৫০ টাকায় পাওয়া যেতো সেই লাউ কিনতে হচ্ছে ৯০-১০০ টাকায়। কাচাঁ মরিচের ঝাল যেনো বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে! ভারতীয় আমদানি কাচাঁমরিচের দাম ছিলো ১৩০০-১৫০ টাকা কেজী আর বর্তমানে কাচাঁমরিচের দাম ১৮০-২০০ টাকা এবং নাগাকাচাঁ মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০০-১০০০ টাকা কেজিতে। এছাড়া গাজর বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা টমেটো ১৩০-১৭০ টাকা কেজীদরে। সেই সঙ্গে পিয়াঁজ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা কেজিতে আর রসুন দেশীটা ৮০ টাকা আর চায়না রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা দরে।