শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৪ অক্টোবর, ২০২২, ০৮:১৪ রাত
আপডেট : ০৪ অক্টোবর, ২০২২, ০৮:১৪ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সাহিত্য-সংস্কৃতিতে বিশেষ সম্মাননা পেলেন সাংবাদিক আবদুল অদুদ

সম্মাননা গ্রহণ করছেন আবদুল অদুদ

নিউজ ডেস্ক: ভারত বাংলাদেশ সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদের উদ্যোগে কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্দুমতি হলে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে সাহিত্য ও সংস্কৃতি উৎসব ২০২২। দুই বাংলার কবি সাহিত্যিকদের পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠান কেন্দ্র। ওই উৎসবে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য দৈনিক ইনকিলাবের সিনিয়র সাব এডিটর মোহাম্মদ আবদুল অদুদ পেয়েছেন বিশেষ সম্মাননা।

ভারত বাংলাদেশ সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদের সভাপতি ভারতের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী রানা মুখার্জীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশের জননন্দিত ছড়াকার তৌহিদুল ইসলাম কনক ও সাংগঠনিক সম্পাদক বাচিকশিল্পী ড. দ্যুতি দত্ত গুপ্তের সঞ্চালনায় ওই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. পবিত্র সরকার।

বক্তব্য রাখেন- কলকাতার মেয়র ইন কাউন্সিল রাসবিহারী বিধানসভার এমএলএ স্যার দেবাশীষ কুমার, কবি ও অধ্যাপক ড. বিপ্লব মণ্ডল, কবি আবু হানিফ হৃদয়, কবি তারাশঙ্কর চক্রবর্তী, কবি হরিপদ মাহাতো, বাচিক শিল্পী  অস্মিতা গাঙ্গুলী, কথাসাহিত্যিক আমীর হোসেন, কবি রিনা গিরি, ছড়াকার ওয়ালি জসিম ও শরীফ শাহজী প্রমুখ।

এসময় ভারত ও বাংলাদেশের প্রখ্যাত শিল্পী-সাহিত্যিকদের মিলনমেলায় অসাধারণ ও মনোমুগ্ধকর একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিসহ কলকাতার কবি সাহিত্যিকদের স্মৃতির আয়নায় ভাষাসৈনিক আবদুর রাজ্জাক মাস্টার গ্রন্থটি উপহার দেন সাংবাদিক আবদুল অদুদ। এছাড়া তিনি বিখ্যাত কফি হাউজে অনুষ্ঠিত ও ভারত বাংলাদেশ সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ আয়োজিত বঙ্গমৈত্রী উৎসব ২০২২ এ স্বরচিত কবিতা 'প্রতিবাদ' আবৃত্তি করেন।

বিখ্যাত কফি হাউজের বই চিত্র সাগরে আয়োজিত সাহিত্য আড্ডায় সভাপতিত্ব করেন নজরুল গবেষক দীপা দাশ। সাধারণ সম্পাদক কবি ও অধ্যাপক ড. বিপ্লব মন্ডল এসময় তাকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন ও শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করেন। এসময় কবি কনককান্তি মজুমদারসহ প্রায় অর্ধশত কবি সাহিত্যিক উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া ২৪ পরগনার বারুইপুর রবীন্দ্র ভবনের ললিত রায় চৌধুরী কক্ষে দুটি বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে বিশেষ অতিথি হিসেবে তিনি অংশগ্রহণ করেন।

বই দুটি হলো, প্রান্তজনের আত্মকথন : শ্যামল কুমার প্রামাণিক ও Almond flowers and other stories : Anil Ghorai. বই দুটিতে দলিত শ্রেণির মানুষ জনের দুঃখ বেদনার কাহিনী ফুটে উঠেছে। অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন Institution for development of Puppetry & Mass Awareness প্রধান ড. শুভ জোয়ারদার।

প্রধান অতিথি ছিলেন- বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. ইন্দ্রনীল আচার্য। বক্তব্য রাখেন শ্যামল কুমার প্রামাণিক, ছড়াকার তৌহিদুল ইসলাম কনক, কবি আমীর হোসেন ও সর্বাণী ঘড়াই প্রমুখ।প্রামাণিক ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকে চাকরি করলেও স্বজাতির প্রতি তাঁর কতটা দরদ ও ভালোবাসা তা তার বইয়ের পরতে পরতে উল্লেখ রয়েছে।
 
দলিতদের মূল দাবি, আমাকে আমার কথা বলতে দাও। ফুটে ওঠেছে, নদীর মাঝখানে সাঁতার কেটে গিয়ে নাবিকদের ফেলে দেয়া পাউরুটি কুড়িয়ে খাওয়া, বাবার নির্দেশ ধান কাটা ও বাড়ি আনা আর সেইদিন পরীক্ষা, এমন একটি পরিবেশে দু'কূল রক্ষা করার কষ্টময় সব ঘটনা। আবার অস্পৃশ্য হওয়ায় চাকুরি জীবনে সকলের অসহযোগিতা ও একটি দুঃসাহসিক প্রতিবাদের ঘটনা তুলে ধরেছেন তার বইয়ে।

অন্যদিকে অনীল ঘড়াইয়ের লেখা ১৩টি বই ইংরেজি ভাষায় অনুদিত হয়েছে। তিনি মারা গিয়েছেন। তার সহধর্মিণী সর্বাণী ঘড়াই অনুষ্ঠানে এক তথ্যবহুল বক্তব্য রাখেন। অনীলের প্রতিটি লেখার জন্য তার ফিল্ড ওয়ার্ক ছিল বলে দাবি করেন অধ্যাপক ড. ইন্দ্রনীল আচার্য। বক্তাগণ অনীল ঘরাই ও শ্যামল কুমার প্রামাণিক এর লেখা যে বিশ্বমানের সেটা অকপটে স্বীকার করেছেন। তাঁদের রচনাবলী বিশ্বময় ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সবাইকে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সচেষ্ট থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।
 
কলকাতায় বাংলাদেশি সংসদ সদস্য (নারায়ণগঞ্জ-২) আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম বাবুর সাথে তার সাক্ষাৎ হয় ওবাংলাদেশি লেখক পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা মোশতাক আহমেদ এর ছায়াআত্মা বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। শিয়ালদহ রেলস্টেশন সংলগ্ন সূর্যসেন স্ট্রিটের কৃষ্ণপদ ঘোষ মেমোরিয়াল হলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পুলিশ ডে উপলক্ষে আয়োজিত হয় দুই বাংলা মৈত্রী উৎসবে তিনি প্রধান আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বাচিক সংসদের কর্ণধার রীতেশ ঘোষ ও দুই বাংলা ডট কমের সম্পাদক এসএম মাসুম এর উদ্যোগে আলোচনা সভায়  দেশটির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অন্ততঃ ৬০ জন কবি সাহিত্যিক উপস্থিত হন এবং প্রত্যেকে তাদের স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন। কেউবা গান এবং কেউবা দ্বৈতভাবে পরিবেশন করেন তাদের পারফরমেন্স। পরে কলকাতা পুলিশ ডে'র মেডেল ও উত্তরীয় পরিয়ে দেন আয়োজক রীতেশ ঘোষ ও শরীফ মাসুম।
 
উল্লেখ্য, মোহাম্মদ আবদুল অদুদ কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মরহুম ভাষাসৈনিক আবদুর রাজ্জাক মাস্টারের সন্তান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের তিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলসহ ত্রিপল মাস্টার্স করেছেন। তিনি ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিলের দুদফায় নির্বাচিত নির্বাহী সদস্য ছিলেন। তিনি বুড়িচং আল-হেরা মডার্ণ একাডেমি ও সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত আল-হেরা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনায় সম্পৃক্ত। জীবন গঠনে শিক্ষা তার লেখা জনপ্রিয় একটি গ্রন্থ। এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়