শিরোনাম
◈ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ বিশ্বকাপ মোবাইলে খেলা দেখবেন যেভাবে ◈ ইরান অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা, আর ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র: রুবিও ◈ স্বামী-সন্তান কানাডা প্রবাসী, সেই মিরপুরেই মিলল আরেক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ ◈ গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের ১০টি পুশইন অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি ◈ অবশেষে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ◈ তাপপ্রবাহে পুড়ছে দেশ, দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ৩৮.৫° সেলসিয়াস, আজও ঝড়-বৃষ্টির আভাস ◈ মার্কিন অবরোধের প্রভাব: ভিসা-মাস্টারকার্ড লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা কিউবার ◈ মেডিকেলের ছাত্রীরা বছরের পর বছর যৌন হয়রানির শিকার, কমপক্ষে ৩০ জনের অভিযোগ ◈ দ‌ক্ষিণ আ‌ফ্রিকার টি-টোয়েন্টিতে খেল‌বেন রিশাদ হো‌সেন! ◈ ১৩ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মা‌টি‌তে ওয়ান‌ডে জ‌য়ের স্বাদ পে‌লো  শ্রীলঙ্কা

প্রকাশিত : ০৪ জুন, ২০২৬, ০৯:২৭ সকাল
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে যে ৫ খাবার একসঙ্গে খাবেন না

আমরা অনেক সময় নানা ধরনের খাবার একসঙ্গে খাই, যা পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর মনে হলেও সব সময় হজমের জন্য উপযোগী না-ও হতে পারে। আয়ুর্বেদ ও আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, কিছু খাবার একসঙ্গে খেলে হজম প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এতে পরে শরীরে অস্বস্তি, গ্যাস, অ্যাসিডিটি বা পেট ফাঁপাভাবের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ফল, দুধ, মাংস ও ভারী খাবারের বিভিন্ন সংমিশ্রণ অনেক সময় পাকস্থলীর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। চলুন, জেনে নিই কোন পাঁচটি খাবারের সংমিশ্রণ একসঙ্গে না খাওয়া ভালো এবং কেন?

১. ভারী খাবারের সঙ্গে ফল

আমাদের শরীরে ফল সাধারণত খুব সহজে হজম হয়। এতে প্রাকৃতিক চিনি ও পানি বেশি থাকে, তাই দ্রুত পাকস্থলী থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু ভারী খাবারের (যেমন ভাত, মাংস, দুগ্ধজাত খাবার) সঙ্গে ফল খেলে পাকস্থলীতে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় ধরে থাকতে পারে। এতে ফারমেন্টেশন শুরু হতে পারে। এতে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা অ্যাসিডিটি হতে পারে। তাই পুষ্টিবিদদের মতে, ফল খালি পেটে খাওয়া উচিত, অথবা অন্তত খাবারের ৩০ থেকে ৪০ মিনিট আগে খাওয়া ভালো। তাই আম-কাঁঠালের এই মৌসুমে ফল খেতে হবে বুঝে শুনে।

২. ঝাল খাবারের সঙ্গে দুধ

দুধে প্রোটিন (কেসিন), ফ্যাট ও ল্যাকটোজ থাকে বলে হজম হতে সময় লাগে। আর ঝাল খাবার পাকস্থলীতে অ্যাসিড নিঃসরণ বাড়াতে পারে। তাই এই দুটি একসঙ্গে খেলে কারও কারও ক্ষেত্রে পেট ভার লাগা, গ্যাস বা অস্বস্তি হতে পারে, তবে এটা সবার ক্ষেত্রে না-ও হতে পারে। তাই দুধ আলাদা করে খাওয়াই ভালো, অথবা খেজুর, কাঠবাদাম কিংবা হোল গ্রেইনজাতীয় খাবারের সঙ্গে খাওয়া ভালো।

৩. মাংস ও দুধ জাতীয় খাবার

প্রোটিন শরীরের জন্য খুবই দরকারি, তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই সঙ্গে একাধিক ভারী প্রোটিন গ্রহণ করলে হজম প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠতে পারে। মাংস ও দুধজাতীয় খাবার—দুটিই প্রোটিন ও ফ্যাটে সমৃদ্ধ হওয়ায় হজম হতে বেশি সময় লাগে। যেমন ক্রিম বা চিজযুক্ত মাংস খেলে পাকস্থলীতে তা হজম হতে আরও সময় লাগে।

যদিও সবার হজম প্রক্রিয়া একরকম নয়। যাঁদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স আছে বা যাঁদের হজমতন্ত্র সংবেদনশীল, তাঁদের ক্ষেত্রে এ ধরনের খাবার খেলে গ্যাস, পেট ভার লাগা বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা বেশি দেখা দিতে পারে। এই ঈদে যেহেতু মাংস খাওয়ার পর্ব বেশি থাকে, তাই এর সঙ্গে সঙ্গে দুধজাতীয় খাবার না খাওয়াই উত্তম। যদি খেতেই হয়, তবে কিছু সময় বিরতি দিয়ে খাওয়া ভালো, যাতে হজম প্রক্রিয়া তার স্বাভাবিক কাজটা করতে পারে।

৪. ফলের সঙ্গে দই

ফল মিশিয়ে দই খাওয়া স্বাস্থ্যকর ও সতেজ খাবার বলে মনে হলেও এই সংমিশ্রণ সব সময় সবার জন্য সহজপাচ্য না-ও হতে পারে। দইয়ে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া ও প্রোটিন তুলনামূলক ধীরে ধীরে হজম হয়। অন্যদিকে প্রাকৃতিক চিনি ও রসালো হওয়ায় ফল সাধারণত দ্রুত হজম হয়। একসঙ্গে খেলে হজমের গতির এই পার্থক্য কিছু সংবেদনশীল ব্যক্তির ক্ষেত্রে অ্যাসিডিটি বা পেটে গাঁজনজাতীয় অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কমলা ও আনারসের মতো বেশি টক ফলের সঙ্গে দই খেলে এ ধরনের সমস্যা কিছুটা বেশি হতে পারে। তবে আপনি যদি দইয়ের সঙ্গে ফল খেতে পছন্দ করেন, তাহলে বেরিজাতীয় ফল বা পাকা আম বেছে নিতে পারেন, এটা পেটের জন্য বেশি আরামদায়ক হতে পারে।

৫. লেবু ও দুধ

আমরা অনেক সময় দুধ খাওয়ার পর লেবু খাই, আবার লেবু খাওয়ার পর দুধও খাই। কিন্তু এই দুটি খাবার একসঙ্গে না খাওয়াই উত্তম। কারণ, লেবু অত্যন্ত অ্যাসিডিক, অন্যদিকে দুধে কেসিন নামক প্রোটিন থাকে, যা শক্তিশালী অ্যাসিডের সংস্পর্শে এলে জমাট বেঁধে যেতে পারে। তাই এই দুটি একসঙ্গে পাকস্থলীতে পৌঁছালে দুধ দ্রুত জমাট বাঁধতে পারে, যাঁদের হজমে সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য এই দুই মিশ্রণ হজম করা কঠিন হতে পারে।এ কারণেই সাইট্রাসজাতীয় ফল বা টক খাবার খাওয়ার পরপরই দুধ না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তাই লেবু ও দুধ খাওয়ার মাঝে অন্তত এক ঘণ্টা বিরতি রাখা ভালো।

সূত্র: এমএসএন ও মিডিয়াম

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়