অনেকেই রাতে টক খেতে পছন্দ করেন। বিশেষ করে অনেকেই এই মৌসুমে কাঁচা আম মাখিয়ে খেতে বসেন। এই অভ্যাস কি শরীরের ভালো না ক্ষতিকর? তা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য জানানো হয়েছে ‘টিভিনাইনে’র এক প্রতিবেদনে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টক জাতীয় খাবার প্রকৃতিগতভাবেই অম্লীয় বা অ্যাসিডিক যা পাকস্থলীর ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে । ঘুমানোর ঠিক আগে এ জাতীয় খাবার খেলে পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা হঠাৎ করেই অনেকটা বেড়ে যেতে শুরু করে। এর ফলে বুক জ্বালাপোড়া বা মারাত্মক অ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা দিতে পারে।
প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে, রাতে টক খাবার খেলে শরীরের ভেতরে কফ তৈরির প্রবণতা বেড়ে যায়। এর ফলে হুট করেই সর্দি-কাশি হওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও ভোরের দিকে নাক বন্ধ হয়ে আসা বা ক্লান্তিবোধ হতে পারে।
যারা কঠোর ডায়েট করে ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদের রাতে টক জাতীয় খাবার না খাওয়াই ভালো। টক স্যুপ বা ভিনেগারযুক্ত খাবার শরীরে জলীয় অংশ জমিয়ে ফেলে। তখন ওজন বাড়ার ঝুঁকি দেখা দেয় । এ কারণে রাতের খাবারে টক খাবার না খাওয়াই ভালো।
সূর্যাস্তের পর বিপাক প্রক্রিয়া বা মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়। এই সময়ে পাচক রসগুলো খাবার হজম করার জন্য দিনের মতো অতটা শক্তিশালী হয় না। এর ফলে রাতের টক খাবার পেটে গিয়ে হজমের বদলে অস্বস্তি তৈরি করে।
ঘুমানোর আগে কিছু খেলে শরীর সেই খাবার থেকে হঠাৎ করে প্রচুর পরিমাণে শক্তি বা এনার্জি পেয়ে যায়। ঘুমের সময় শরীরের এই বাড়তি শক্তির প্রয়োজন নেই, বরং এনার্জি লেভেল কম থাকাটাই স্বাভাবিক নিয়ম। এই বাড়তি উদ্দীপনা মস্তিষ্কের শান্ত ভাব নষ্ট করে ঘুমের সমস্যা তৈরি করতে পারে।
টক খাবার খেতে ইচ্ছে হলে অবশ্যই দুপুরের খাবারের সঙ্গে খেয়ে নেওয়া ভালো। সুস্থ শরীর আর ভালো ঘুমের জন্য ঘুমানোর অন্তত তিন ঘণ্টা আগে সব ধরনের ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন।