শিরোনাম
◈ প্রতিটি শিশুর প্রতিভা বিকাশে খেলাধুলা ও সৃজনশীলতার সুযোগ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ◈ রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে জোর করে পদত্যাগে স্বাক্ষরের অভিযোগ ◈ ভিসা আবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য না দিলে অযোগ্য হতে পারেন: মার্কিন দূতাবাস ◈ ভারতীয় ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টে নতুন নির্দেশনা, জেনে নিন বুকিংয়ের নিয়ম ◈ খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ মেট্রোরেল লাইনে কুকুর ঢুকে বন্ধ ট্রেন চলাচল, পরে স্বাভাবিক ◈ ২০২৭ সাল থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে ৪ নতুন বিষয়: শিক্ষামন্ত্রী ◈ হঠাৎ দিল্লি গেছেন দীনেশ ত্রিবেদী ◈ প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণকে ‘যৌক্তিক’ দাবি করা সেই এএসআই প্রত্যাহার ◈ এলপিজির নির্ধারিত দাম নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের নজরদারির নির্দেশ

প্রকাশিত : ০৭ জুলাই, ২০২৬, ০৯:২৯ সকাল
আপডেট : ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:৫৭ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এআই দিয়ে হালাল উপার্জন: ইসলামের দৃষ্টিতে কী বৈধ?

ইসলামে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব অপরিসীম। একজন মুমিনের ইবাদত, দোয়া কবুল হওয়া এবং জীবনের বরকত অনেকাংশে তার উপার্জনের বৈধতার ওপর নির্ভর করে।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘হে মানবকুল, তোমরা পৃথিবীতে হালাল ও পবিত্র বস্তু ভক্ষণ করো। আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কোরো না, নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৬৮)

হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আবু হুরায়রা‌ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, হে লোক সকল! আল্লাহ তাআলা পবিত্র। তিনি পবিত্র জিনিস ছাড়া কিছু কবুল করেন না।

আল্লাহ তাঁর রাসুলদের যেসব বিষয়ের হুকুম দিয়েছেন, মুমিনদেরও সেসব বিষয়ের হুকুম দিয়েছেন। (তিনি বলেছেন) ‘হে রাসুলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু থেকে আহার করো এবং সৎ কাজ করো। তোমরা যা করো সে সম্বন্ধে আমি সবিশেষ অবগত।’ (সুরা : আল-মুমিনূন, আয়াত : ৫১)

Advertisement

তিনি আরো বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমাদেরকে আমি যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে পবিত্র বস্তু আহার করো। (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৭২)

বর্ণনাকারী বলেন, মহানবী (সা.) এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, দীর্ঘ সফরের ক্লান্তিতে যার মাথার চুল বিক্ষিপ্ত, অবিন্যস্ত এবং সারা শরীর ধূলি মলিন। সে আকাশের দিকে হাত দরাজ করে বলে, হে আমার প্রভু! হে আমার প্রতিপালক! অথচ তার খাদ্য ও পানীয় হারাম, তার পোশাক হারাম, তার জীবন-জীবিকাও হারাম। এ অবস্থায় তার দোয়া কিভাবে কবুল হতে পারে। (তিরমিজি, হাদিস : ২৯৮৯)

তাই মুমিনের উচিত উপার্জনের ক্ষেত্রে তা হালাল পন্থায় হচ্ছে কি না, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা। আজকের বিশ্বে প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নতুন কর্মসংস্থান ও ব্যবসার বিশাল ক্ষেত্র তৈরি করেছে।

যার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকার কারণে অনেকেই এই সুযোগ হাতছাড়া করছেন। আবার অনেকে হালাল-হারামের তোয়াক্বা না করে, হারাম পথেও উপার্জন করছেন। তাই প্রথমত আমাদের জানতে হবে, এআইয়ের মাধ্যমে উপার্জন করা জায়েজ কি না? হলে কোন কোন কাজগুলো করা মুমিনের জন্য অধিক নিরাপদ?

প্রথমত এটা জেনে রাখা উচিত এআইকে ঢালাওভাবে হালাল বা হারাম বলার সুযোগ নেই; এটি একটি প্রযুক্তি বা মাধ্যম। এটি যদি ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ কাজ, উপকারী সেবা এবং মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা হয়, তাহলে এর মাধ্যমে উপার্জনও হালাল হবে। তবে কেউ যদি একে প্রতারণা, মিথ্যা প্রচার, কপিরাইট লঙ্ঘন, ভুয়া ছবি বা তথ্য তৈরি কিংবা অন্য কোনো শরিয়তবিরোধী কাজে ব্যবহার করে, তাহলে কাজটা যেমন হারাম হবে, তার মাধ্যমে উপার্জিত অর্থও হারাম হবে।

নিম্নে এআই ব্যবহার করে হালালভাবে আয় করার কয়েকটি উপায় তুলে ধরা হলো—

কাস্টমার সাপোর্ট অটোমেশন : অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন অসংখ্য গ্রাহকের প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। যার জন্য তাদের বহু জনবল নিয়োগ দিতে হয়। বড় অফিস নিতে হয়। তাদের আনুষঙ্গিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বহু টাকা খরচ করতে হয়। তাদের এই কাজকে সহজ করতে বর্তমানে জনপ্রিয় একটি টুল হচ্ছে এআইভিত্তিক অটোমেটিক চ্যাটবট। যার মাধ্যমে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাস্টমার সার্ভিস সহজ করা যায়। ফলে এআই অটোমেশনের ব্যাপারে গভীর দীক্ষা নিয়ে তা তৈরি  করেও একটি স্মার্ট ইনকাম জেনারেট করা সম্ভব। যেখানে হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক কম থাকে।

সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট সার্ভিস : বর্তমানে প্রায় সব ব্যবসারই নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট প্রয়োজন হয়। পোস্টের ইউনিক ক্যাপশন লেখা, স্ক্রিপ্ট তৈরি করা বা নতুন নতুন আইডিয়া তৈরি করে ক্লায়েন্টকে সেবা দেওয়া যায়। যারা খুব সূক্ষ্মভাবে এআই ব্যবহার করে মানসম্মত কনটেন্ট বা স্ক্রিপ্ট তৈরি করতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে নিজের মেধা খাটিয়ে তাকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে, এআইয়ের সাহায্য নিয়ে এই প্ল্যাটফর্ম থেকেও তাদের হালাল আয় করার সুযোগ রয়েছে।

এআই ই-মেইল মার্কেটিং : অনেক প্রতিষ্ঠানের বড় ই-মেইল তালিকা থাকলেও তারা তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে না। এআই ব্যবহার করে আকর্ষণীয় ই-মেইল লেখা, প্রচারণা পরিকল্পনা করা এবং সয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকদের আলাদা আলাদ নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে বার্তা তৈরি করে একটি লাভজনক সেবা গড়ে তোলা সম্ভব। কোনো প্রতারণামূলক ই-মেইলের কাজ না হলে এই সেক্টর থেকেও হালাল উপার্জন করা যেতে পারে।

গ্রাফিক ডিজাইন ও ক্রিয়েটিভ সার্ভিস : বর্তমানে এআই ডিজাইন টুল ব্যবহার করে দ্রুত (প্রাণীর ছবি ছাড়া) হালাল লোগো, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, ব্যানার, বুক কাভার, পোস্টার বা বিজ্ঞাপনের ডিজাইন তৈরি করা যায়, বিশেষ করে যারা অনলাইনে ব্যবসা পরিচালনা করে, তাদের এই সেবা খুব বেশি প্রয়োজন হয়। ফলে যারা এআই টুল ব্যবহার করে হালাল ডিজাইন জেনারেট করতে অভিজ্ঞ, তারা এর মাধ্যমে হালাল উপার্জন করতে পারে।

ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যার তৈরি : বর্তমানে এআইয়ের সহায়তায় খুব কম কোডিং জ্ঞান দিয়েও আধুনিক ওয়েবসাইট ও সহজ সফটওয়্যার তৈরি করা সম্ভব। ছোট ব্যবসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদরাসা কিংবা ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডের জন্য ওয়েবসাইট তৈরি করে বৈধভাবে আয় করা যায়। তবে এ ক্ষেত্রে গ্রাহককে পূর্ণ সাপোর্ট দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেই সেবা প্রদান শুরু করা উচিত। ভাসা ভাসা জ্ঞান নিয়ে কাজ করতে গেলে অনেক সময় কাস্টমারকে পরিপূর্ণ সেবা দেওয়া কঠিন হতে পারে।

এআই এমন একটি টুল, একটু মাথা খাটালেই যার মাধ্যমে আরো বহু হালাল আয়ের পথ বের করা সম্ভব। তবে এর ব্যবহারের সময় কয়েকটি ইসলামী নীতিমালা সব সময় মনে রাখা উচিত। যেমন—হারাম, অশ্লীল বা প্রতারণামূলক কোনো কাজে তা ব্যবহার করা যাবে না। ভুয়া তথ্য, ভুয়া ছবি বা মানুষকে হেয় করার উদ্দেশ্যে কোনো কিছু তৈরি করা যাবে না। কাজে সততা, আমানতদারিতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। মানুষের উপকার হয়, এমন সেবা ও ব্যবসাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সব কথার শেষ কথা হলো এআই বর্তমান যুগের একটি শক্তিশালী প্রযুক্তি। তবে এটি মানুষের বিকল্প নয়; বরং দক্ষতা বাড়ানোর একটি কার্যকর মাধ্যম। একজন মুসলিম যদি শরিয়তের সীমারেখা মেনে, সততা ও নৈতিকতার সঙ্গে এআই ব্যবহার করে মানুষের সমস্যা সমাধান করেন, তাহলে এটি তাঁর জন্য হালাল ও বরকতময় উপার্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে।

মহান আল্লাহ সবাইকে হালালভাবে উপার্জন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সূত্র: কালের কণ্ঠ 

  • সর্বশেষ