মানুষ জীবনে সুখ, স্বস্তি ও প্রাচুর্যের খোঁজে কত পথই না অবলম্বন করে। কেউ সম্পদের পেছনে ছুটে, কেউ সম্মানের আশায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে, আবার কেউ দুনিয়ার চিন্তায় রাতের ঘুম হারাম করে ফেলে। অথচ প্রকৃত শান্তি, প্রাচুর্য ও অভাবমুক্ত জীবনের চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে আল্লাহর ইবাদতে।
যখন একজন বান্দা একান্তভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, তার ইবাদতে নিজেকে নিয়োজিত করে, তখন আল্লাহ তাআলা শুধু তার রিজিকেই বরকতময় করেন না; বরং তার অন্তরকেও প্রশান্তি ও তৃপ্তিতে ভরে দেন। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি দুনিয়ার মোহে আল্লাহকে ভুলে যায়, তার হৃদয় ভরে যায় অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা ও অপূর্ণতায়। এই সত্যটিই প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী ভাষায় তুলে ধরেছেন এভাবে—
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— মহাপবিত্র আল্লাহ তাআলা বলেন—
يَا ابْنَ آدَمَ تَفَرَّغْ لِعِبَادَتِي أَمْلأْ صَدْرَكَ غِنًى وَأَسُدَّ فَقْرَكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ مَلأْتُ صَدْرَكَ شُغْلاً وَلَمْ أَسُدَّ فَقْرَكَ
‘হে আদম সন্তান! আমার ইবাদতে মগ্ন হও। আমি তোমার অন্তরকে ঐশ্বর্যমন্ডিত করবো এবং তোমার দারিদ্র দূর করবো। তুমি যদি তা না করো, তাহলে আমি তোমার অন্তর পেরেশানী দিয়ে পূর্ণ করবো এবং তোমার দরিদ্রতা দূর করবো না।’ (ইবনে মাজাহ ৪১০৭)
দুনিয়ার প্রাচুর্য সবসময় প্রকৃত সুখ এনে দেয় না; বরং অন্তরের প্রশান্তিই মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ। আর সেই প্রশান্তি আসে আল্লাহর ইবাদত, তাঁর স্মরণ এবং তাঁর ওপর পূর্ণ ভরসার মাধ্যমে। তাই আসুন, আমরা দুনিয়ার অস্থায়ী মোহে হারিয়ে না গিয়ে আল্লাহর ইবাদতের দিকে মনোযোগী হই। কারণ যে হৃদয় আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে, আল্লাহ তাআলা সেই হৃদয়কে অভাবহীন করে দেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তার ইবাদতে মগ্ন থাকার এবং দুনিয়া-আখেরাতের প্রকৃত সফলতা অর্জনের তৌফিক দান করুন। আমিন।