শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১১:২৬ দুপুর
আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ০৪:১২ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আফ্রিকায় বেড়েছে রুশ ভাড়াটে সেনা ওয়েগনারের তৎপরতা: বিশ্লেষণ

সাজ্জাদুল ইসলাম: [২] ফিলিস্তিনের গাজায় চার মাসের বেশি সময় ধরে চলছে নৃশংস ইসরায়েলি হামলা ও গণহত্যা। ইউক্রেন যুদ্ধও চলছে। বিশ্ববাসীর বেশির ভাগেরই নজর এখন মূলত গাজার দিকে। এরই মাঝে আফ্রিকায় রাশিয়া নিজের প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছে। সূত্র : আল জাজিরা

[৩] রাশিয়ার ভাড়াটে যোদ্ধা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওয়েগনারকে কাজে লাগিয়ে ২০১৮ সাল থেকে আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় নিজেদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে মস্কো। তবে বড় ধাক্কা আসে গত বছর। এ বছর ওয়েগনারের বিদ্রোহ এবং বাহিনীটির প্রতিষ্ঠাতা ইয়েভগেনি প্রিগোশিনের মৃত্যু। রাশিয়ায় বেশ কয়েকটি ভাড়াটে যোদ্ধা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে ওয়েগনারের মতো ক্রেমলিনের কাছাকাছি কোনোটি যেতে পারেনি। ওয়েগনারের মাধ্যমে লিবিয়া এবং আফ্রিকার অন্য অর্থনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ধরে রেখেছে মস্কো। এতে ক্রেমলিনের খুব একটি খরচও হয়নি। 

[৪] বর্তমানে লিবিয়ায় ওয়েগনার বা বর্তমান ‘এক্সপিডিশনারি কোরের’ আনুমানিক ৮০০ যোদ্ধা মোতায়েন রয়েছেন। এ ছাড়া আফ্রিকার সাব-সাহারা এলাকায় বাহিনীটির আরও প্রায় ৪ হাজার ৬০০ যোদ্ধা রয়েছেন। লিবিয়ায় এই বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে তিনটি বিমানঘাঁটিও রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে সুদানসহ সাব-সাহারার অন্যান্য অঞ্চল থেকে মিত্রদের কাছ থেকে পণ্য আনা- নেওয়া করে হাফতার ও ‘এক্সপিডিশনারি কোর’। এর পাশাপাশি লিবিয়ার তবরুক বন্দরে রুশ যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। 

[৫] গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটির ইভান ক্লিসজকজ বলেন, ভূমধ্যসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চল ইউরোপ ও ন্যাটোর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। ইতিমধ্যে এ সাগরে সিরিয়ার তারতোউস বন্দরে রাশিয়ার উপস্থিতি রয়েছে। এরপর আবার তবরুক বন্দরে রুশ যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের অনুমতি দেওয়া হলে এ অঞ্চলে রাশিয়ার উপস্থিতি আরও জোরদার হবে। ফলে এ অঞ্চলে ইউরোপের সঙ্গে মস্কোর প্রতিযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

[৬] সম্প্রতি লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (আরইউএসআই) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রিগোশিনের মৃত্যুর পর তার বাণিজ্যিক ও সামরিক স্বার্থগুলো রক্ষার ভার রাশিয়ার বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। আর বিদেশে অবস্থান করা ওয়েগনার যোদ্ধাদের নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউকে। বলতে গেলে এ দায়িত্ব পেয়েছেন রুশ জেনারেল আন্দ্রেই আভেরিয়ানভ। ইউক্রেনে এখন ওয়েগনারের যোদ্ধারা লড়াই করছেন ‘ভলান্টিয়ার কোরের’ অধীনে। অন্য দেশগুলোতে তাদের এ বাহিনীর নাম দেওয়া হয়েছে ‘এক্সপিডিশনারি কোর’।

[৭] খনিজ সম্পদ ও জ্বালানির দিক দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধ মহাদেশগুলোর একটি আফ্রিকা। এই মহাদেশে লিবিয়ার সবচেয়ে বেশি জ্বালানি তেল ও সোনার মজুত রয়েছে। এ ছাড়া ভৌগোলিক দিক দিয়ে দেশটির সঙ্গে নাইজার, শাদ, সুদান ও ইউরোপের সংযোগ রয়েছে। কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ লিবিয়া। জেনারেল আভেরিয়ানভ গত বছরের সেপ্টেম্বরে মালি, বুরকিনা ফাসো, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র ও নাইজার সফরের পর লিবিয়ায় গিয়ে লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির প্রধান ফিল্ড মার্শাল খলিফা হাফতারের সঙ্গে দেখা করেন।

[৮] সব ক্ষেত্রেই তিনি যে প্রস্তাবটা দিয়েছেন, তা হলো, নিরাপত্তার বিনিময়ে সম্পদ। ইউরোপভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অব ফরেন রিলেশনসের গবেষক তারেক মেগেরিসি বলেন, ওয়েগনার শুধু সামরিক সহায়তাই দিচ্ছে না, লিবিয়াকে ব্যবহার করে অবৈধ মাদক ও সোনা চোরাচালানও করছে। সম্পাদনা: রাশিদ 

এসআই/আর/আইএফ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়