রোমানিয়ার পানিসীমায় একটি শস্যবাহী জাহাজে রাশিয়ার ড্রোন হামলার অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। হামলায় জাহাজটিতে আগুন ধরে সেটি ডুবে গেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার (৫ অক্টোবর) কৃষ্ণসাগরে রোমানিয়ার পানিসীমায় ওই জাহাজে আগুন লাগার পর দুইজন নিহত এবং ১১ জনকে উদ্ধার করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলেনস্কি লিখেছেন, তুরস্কের মালিকানাধীন এবং ভুট্টা বহনকারী একটি বেসামরিক জাহাজে নিরপেক্ষ পানিসীমায় দুটি রুশ ড্রোন ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে।
রোমানিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে জাহাজটিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে কোস্টগার্ডকে সতর্ক করা হয়। ওই সময় জাহাজটি রোমানিয়ার ‘এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে’ ছিল। তবে আগুনের কারণ সম্পর্কে মন্ত্রণালয় কোনো তথ্য দেয়নি।
জাহাজটিতে আজারবাইজান ও ভারতের নাগরিকরা ছিলেন বলে জানা গেছে। অগ্নিকাণ্ডের পর জাহাজটি ডুবে যায় এবং উদ্ধার অভিযান শুরু করে রোমানিয়ার কর্তৃপক্ষ।
ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তে বাড়ছে উদ্বেগ
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রোমানিয়াসহ ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় কয়েকটি দেশে রুশ ড্রোনের অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। ফলে যুদ্ধ ইউক্রেনের সীমান্ত ছাড়িয়ে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে, এমন আশঙ্কা বাড়ছে।
চলতি বছরের মে মাসে রোমানিয়ায় একটি রুশ ড্রোন আবাসিক ভবনে আঘাত হানে। জুনে ইউক্রেনের একটি সামুদ্রিক ড্রোন কৃষ্ণসাগরের কনস্টানতা বন্দরের কাছে বিস্ফোরিত হয়। জুলাইয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে তিনটি অনুপ্রবেশকারী ড্রোন প্রতিহত করার পর রোমানিয়া রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করে।
রাশিয়া ও ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে। এর মধ্যে পূর্ব ইউরোপের আকাশসীমায় রুশ ড্রোনের অনুপ্রবেশকে কেউ কেউ ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন।
বাল্টিক অঞ্চলের দেশগুলোতেও যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে পোল্যান্ড তার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করে। এদিকে মলদোভায়ও সন্দেহভাজন ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা ঘটেছে।
রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কৃষ্ণসাগরে ভেসে থাকা ৯টি সমুদ্র মাইন ধ্বংস করেছে দেশটির নৌবাহিনী।