শিরোনাম
◈ ঘুষের টাকা দিয়ে পোশাক লাগিয়েছি ঘুষ খাব না তো কি বায়তুল মোকাররমের ইমাম হব: এএসআইর বক্তব্যে তোলপাড় ◈ দুর্গাপূজায় রাত ১০টা পর্যন্ত শপিংমল-দোকান খোলা রাখা যাবে ◈ ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ◈ ৬ দিন বন্ধ থাকছে একাধিক ব্যাংকের অনলাইন-এটিএম-কার্ডসহ নানা সেবা ◈ বিমানবন্দরে লাগেজ হ্যান্ডলিং লাইভ সিসিটিভিতে দেখানোর দাবিতে আইনি নোটিশ ◈ দুর্গাপূজায় টানা পাঁচ দিনের ছুটি, আগের শনিবার খোলা থাকবে অফিস ◈ খাদ্য নিরাপত্তায় বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৩০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি ◈ নির্মাণকাজে সংকুচিত হচ্ছে চুনতি অভয়ারণ্যের হাতির চলার পথ, বাড়ছে ট্রেন সংঘর্ষের ঝুঁকি ◈ এক কূপে মিলল গ্যাস, এবার যমুনার ওপারেও অনুসন্ধানের ভাবনা ◈ আ‌র্জেন্টিনার জা‌র্সিতে বুধবার ভোর ৫টায় মেসির বিদায়ী ম্যাচ 

প্রকাশিত : ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৮ দুপুর
আপডেট : ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৭ রাত

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

আ‌মে‌রিকা কে‌নো সৌদি আরব ও কাতারে নতুন প্যাট্রিয়ট ‌ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করলো? বি‌শ্লেষণ

আন্তর্জা‌তিক ডেস্ক : সৌদি আরব ও কাতারের জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী আরও দুটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে। সৌদি আরব ও কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর নতুন দুটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন, ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা এবং পশ্চিম এশিয়া নিয়ে ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা নীতির প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করতে হবে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর একটি ব্যবস্থা সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা এবং অন্যটি কাতারের একটি প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনা সুরক্ষার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে। --- পার্সটু‌ডে

এই পদক্ষেপ থেকে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষাকে একটি কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করে বিভিন্ন পক্ষের কাছে, বিশেষ করে ইরানের প্রতি, স্পষ্ট রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক বার্তা দিতে চাইছে ওয়াশিংটন।

এই মোতায়েনের প্রথম কারণ খুঁজতে হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কার মধ্যে। অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ব্যবস্থা পাঠানোর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল সৌদি আরব ও কাতারকে আশ্বস্ত করা- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের বিরুদ্ধে আবারও হামলা শুরু করেন, তাহলে ওয়াশিংটন তাদের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষায় সহযোগিতা করবে।

এটি ইঙ্গিত করে যে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য আঞ্চলিক সংকটের বিভিন্ন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং মিত্রদের বিমান প্রতিরক্ষা জোরদার করে আগাম প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে চাইছে। কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে সৌদি আরব ও কাতারের তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলো শুধু এই দেশগুলোর অর্থনীতির জন্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এসব স্থাপনার ওপর যেকোনো হামলার ব্যাপক অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণেই ওয়াশিংটন এগুলোর সুরক্ষাকে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে।

advertisement

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে মজুত কমে যাওয়া এবং প্রতিরক্ষা সরবরাহব্যবস্থার ওপর চাপ বৃদ্ধি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের জন্য পেন্টাগন লকহিড মার্টিনের সঙ্গে ৫ হাজার ৮৬০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি করেছে।

এটি এখন পর্যন্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সবচেয়ে বড় চুক্তি বলে জানা গেছে। ২০২৬ অর্থবছর থেকে ২০৩২ অর্থবছর পর্যন্ত সাত বছরের এই চুক্তি আগের ৪৭০ কোটি ডলারের চুক্তির স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।

লকহিড মার্টিন জানিয়েছে, এই বিনিয়োগের মাধ্যমে ২০৩০ সালের শেষ নাগাদ উন্নত PAC-3 MSE প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন সক্ষমতা তিন গুণ করা হবে। একই সঙ্গে আরকানসাসে অবস্থিত তাদের কারখানায় কর্মীর সংখ্যা ৫০ শতাংশ বাড়ানো হবে।

এই পরিসংখ্যানগুলো থেকে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্র প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ঘাটতির মুখে রয়েছে। পশ্চিম এশিয়া ও ইউক্রেনের সংঘাত তার মজুতের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের হিসাব অনুযায়ী, মার্কিন সেনাবাহিনীর হাতে এক হাজারেরও কম প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর এবং ২৫০টিরও কম থাড ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।

তাই সৌদি আরব ও কাতারে নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনকে স্বল্পমেয়াদে এই ঘাটতি সামাল দেওয়া এবং মিত্রদের আশ্বস্ত করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন বাড়ানোর ফলে পরিস্থিতির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে।

এই মোতায়েনের সম্ভাব্য প্রভাব

এই মোতায়েনের প্রভাব কয়েকটি স্তরে বিশ্লেষণ করা যায়। আঞ্চলিক পর্যায়ে, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ছাতা শক্তিশালী করার অন্যতম লক্ষ্য হলো ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের অনুকূলে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখা এবং ইরানের সম্ভাব্য পদক্ষেপের ঝুঁকি কমানো।

তবে একই পদক্ষেপ ইরানের প্রতিক্রিয়াও উসকে দিতে পারে। তেহরান এটিকে ওয়াশিংটনের সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে উত্তেজনা আরও বাড়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক অস্ত্র প্রতিযোগিতাও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলো হয়তো নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে আরও আশ্বস্ত হবে। তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাদের প্রতিরক্ষা-নির্ভরতা বাড়তে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের কৌশলগত স্বাধীনতাকে সীমিত করতে পারে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এই ঘটনাপ্রবাহ জ্বালানি বাজার এবং তেল ও গ্যাসের দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। জ্বালানি অবকাঠামোর সুরক্ষা সরবরাহের স্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে এবং মূল্যবাজারে অস্থিরতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। কিন্তু কোনো ধরনের সংঘাত শুরু হলে এসব স্থাপনাই হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও তীব্র করতে পারে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ত্র উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যে বড় অঙ্কের সামরিক চুক্তিগুলো দেশটির পররাষ্ট্রনীতি ও সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সের গভীর সম্পর্ককেও তুলে ধরে। এই সম্পর্ক ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে, সৌদি আরব ও কাতারে নতুন প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনকে প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি, অস্ত্রের ঘাটতি ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক বার্তা—এই তিনটির সমন্বিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যায়।

এ থেকে বোঝা যায়, ট্রাম্প প্রশাসনের নিরাপত্তা কৌশলে পশ্চিম গোলার্ধকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনও পশ্চিম এশিয়াকে একটি কৌশলগত অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করে এবং সেখানে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে বড় ধরনের সামরিক ব্যয় করতেও প্রস্তুত।

তবে এর ফলাফল দুই ধরনের হতে পারে। একদিকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের নিরাপত্তা জোরদার এবং জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতায় সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। আগামী দিনের পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে ইরানের প্রতিক্রিয়া, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি এবং যুক্তরাষ্ট্র কতটা স্থায়ীভাবে প্রয়োজনীয় ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে তার ওপর।

  • সর্বশেষ