প্রতিপক্ষ চীনের ঝুলিতে যেখানে রয়েছে মাত্র ৩টি বিমানবাহী রণতরি, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বহরে আছে ১১টি। আপাতদৃষ্টিতে এই সংখ্যা অনেক বড় মনে হলেও বিশ্বজুড়ে সামরিক উপস্থিতি ও ক্রমবর্ধমান প্রয়োজনীয়তা মেটাতে বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনী চরম সংকটে রয়েছে।
এমন পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন নৌবাহিনীর ভাইস অ্যাডমিরাল জন মিলার জানান, বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক যে চাহিদা, সে তুলনায় তাদের নৌবহরের শক্তি মোটেও পর্যাপ্ত নয়।
মিলার বলেন, `১১ সংখ্যাটি শুনতে অনেক বড় মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যেকোনো নির্দিষ্ট সময়ে মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি রণতরি কার্যক্ষম বা মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত থাকে।’
নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণকে এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এই অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তিনি জানান, পরমাণুচালিত এসব রণতরির সাধারণ মেরামত ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য বেশ কয়েকটি বহরের বাইরে থাকে। এছাড়া অন্তত একটি রণতরি সব সময়ই কয়েক বছর মেয়াদি জ্বালানি পুনঃসংযোজন ও ওভারহোলিংয়ের (বিশাল কর্মযজ্ঞ) মধ্যে দিয়ে যায়।
কোনো একটি নৌবহর ঠিক কতটা প্রস্তুত, তা বোঝার জন্য একটি সহজ হিসাব দিয়েছেন মিলার। তার মতে, মোট রণতরির সংখ্যাকে তিন দিয়ে ভাগ করতে হয়।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, `ধরে নিলাম কোনো এক দিনে আমাদের ৯টি রণতরি ব্যবহারের উপযোগী আছে। সে ক্ষেত্রে হিসাব অনুযায়ী ৩টি রণতরি যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন থাকবে, ৩টি সদ্য অভিযান শেষ করে ফিরেছে এবং বাকি ৩টি পরবর্তী অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
এই গণিতই স্পষ্ট করে দেয় কেন সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের একমাত্র বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’ সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে ওয়াশিংটন। মধ্যপ্রাচ্যে ‘ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশ’-এর সঙ্গে যোগ দিতে এবং ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর স্থান পূরণ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
একটি অঞ্চলে অতিরিক্ত শক্তি বাড়ানোর পরিণাম সম্পর্কে জন মিলার সতর্ক করে বলেন, `মধ্যপ্রাচ্যে একই সঙ্গে দুটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন রাখার অর্থ সেখানে বিশাল সামরিক শক্তি প্রদর্শন করা। তবে এর বড় মাশুল অন্য কোনো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দিতে হয়।’