শিরোনাম
◈ মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশজুড়ে বাড়তে পারে বৃষ্টি ◈ ‘ভারত কেন প্রতিবেশীদের সঙ্গে শান্তিতে থাকতে পারে না?’ : ইয়েনি শাফাকের প্রতিবেদন ◈ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ছে, দেশে কতটা প্রভাব পড়বে? ◈ ৯ বছরেও প্রত্যাবাসন হয়নি, রোহিঙ্গা সংকটে নতুন কৌশলের আহ্বান ◈ কোচিং সেন্টারে জড়াতে পারবেন না জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যরা: সুপ্রিম কোর্টের পরিপত্র জারি ◈ প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ◈ সম্পাদকদের সঙ্গে জামায়াত আমিরের বৈঠক, যা নিয়ে আলোচনা হলো ◈ ইরানের সব ‘অর্থনৈতিক লাইফলাইন’ ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা ◈ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি, দেশে প্রভাব পড়ার শঙ্কা কতটা? ◈ যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসার ফি বাড়িয়ে ১ লাখ ডলার করার প্রস্তাব

প্রকাশিত : ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৪৬ সকাল
আপডেট : ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:২২ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‘ভারত কেন প্রতিবেশীদের সঙ্গে শান্তিতে থাকতে পারে না?’ : ইয়েনি শাফাকের প্রতিবেদন

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পররাষ্ট্রনীতি এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে এর দ্বন্দ্বমূলক সম্পর্ক নিয়ে একটি তীব্র সমালোচনামূলক সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তুর্কিভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ইয়েনি শাফাক’। সংস্থাটির অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া পেজে "হোয়াই কান্ট ইন্ডিয়া এভার বি অ্যাট পিস উইথ ইটস নেইবারস?" শিরোনামে ৯টি ভিজ্যুয়াল ইনফোগ্রাফিক ও ফটো কার্ড শেয়ার করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে অভিযোগ করা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি এবং 'আঞ্চলিক মোড়ল' মনোভাবের কারণেই প্রতিবেশীদের সাথে নয়াদিল্লির দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হচ্ছে না।

সচিত্র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভারতের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি বহুলাংশে প্রাচীন কূটনীতিবিদ কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্র’ দ্বারা প্রভাবিত। অর্থশাস্ত্রের মূল নীতি অনুযায়ী—"প্রতিটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রই শত্রু এবং শত্রুর শত্রু হলো মিত্র।" এই কৌশলগত কাঠামোর ওপর ভর করেই নয়াদিল্লি তার প্রতিবেশীদের (বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চীন) কখনো সুহৃদ বা বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করেনি এবং ভবিষ্যতেও তেমন সম্ভাবনা ক্ষীণ।

বাংলাদেশের ওপর আধিপত্য ও সীমান্ত হত্যা

ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ১৫ বছরের দীর্ঘ শাসনকালকে ইঙ্গিত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময় বাংলাদেশ কার্যত ভারতের একটি ‘অনুগত রাষ্ট্রে’ পরিণত হয়। মোদি সরকারের সমালোচনা বাংলাদেশে একপ্রকার নিষিদ্ধ ছিল এবং ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হাজার হাজার মানুষ গুম ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

পাশাপাশি, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কঠোর অবস্থানের সমালোচনা করে জানানো হয়, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অন্তত ২৯৬ জন সাধারণ বাংলাদেশী নাগরিক বিএসএফ-এর হাতে প্রাণ হারিয়েছেন। বিচারহীনতা ও নির্যাতন চালিয়ে ভারতের এই তথাকথিত ‘বন্ধুত্ব’ রক্ষা করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।

কাশ্মীর ইস্যু ও পাকিস্তানের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈরিতা

প্রতিবেদনে কাশ্মীরকে একটি "দেয়ালহীন কারাগার" হিসেবে অভিহিত করা হয়। ১৯৮৯ সালের পর থেকে প্রায় ৯৬ হাজার কাশ্মীরি হত্যা, ৮ হাজারের বেশি গুম এবং সামরিক বাহিনীর হাতে হাজার হাজার নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে তথ্য দেওয়া হয়।

পাকিস্তানের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, ভারতের অভ্যন্তর ও পররাষ্ট্রনীতি টিকিয়ে রাখতে ‘পাকিস্তানকে শত্রু হিসেবে উপস্থাপন করা’ নয়াদিল্লির একটি কৌশলগত প্রয়োজন। ফলে পারমাণবিক হুমকি, পানিবণ্টন বিতর্ক ও কাশ্মীর সমস্যাকে সমাধান না করে জিইয়ে রাখা হয়।

আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন ও রাষ্ট্রীয় নীতি

ভারতের বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বার্থের ব্যাঘাত ঘটলেই নয়াদিল্লি সুনির্দিষ্ট সমঝোতা উপেক্ষা করে। নেপালের সাথে সুগৌলি চুক্তি, পাকিস্তানের সাথে সিন্ধু পানি চুক্তি কিংবা বাংলাদেশের সাথে দীর্ঘদিনের নদী কেন্দ্রিক আলোচনাগুলোতে ভারতের অটল বা সুবিধাবাদী অবস্থান এর উদাহরণ।

হিন্দুত্ববাদ, জিয়নবাদ ও গাজা প্রসঙ্গ

সচিত্র প্রতিবেদনটির শেষ অংশে ভারতের বর্তমান হিন্দুত্ববাদী নীতি এবং ইসরায়েলের জিয়নবাদের মধ্যে আদর্শিক মিল তুলে ধরা হয়। ভূখণ্ডের ওপর ধর্মীয় অধিকার দাবি, মুসলিম জনগোষ্ঠীকে ডেমোগ্রাফিক হুমকি হিসেবে দেখা এবং নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে উচ্ছেদ ও দমনপীড়ন চালানোর ক্ষেত্রে ভারত ও ইসরায়েল একই ‘প্লে-বুক’ বা কৌশল অনুসরণ করছে বলে মন্তব্য করে ইয়েনি শাফাক। 

অনুবাদ : ইনকিলাব

  • সর্বশেষ