আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চলতি বছরের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ওয়াশিংটনের এ আগ্রহে এখনই সাড়া দিতে নারাজ পিয়ংইয়ং। দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ‘চমৎকার’ হলেও বৈঠকের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপ করতে পারে উত্তর কোরিয়া। শুক্রবার (২১ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া কমানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এসব মহড়াকে উত্তর কোরিয়ার প্রতি ‘বৈরী’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এর দুই দিন পর জানান, চলতি বছরের শেষ দিকে কিমের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে।
চলতি বছরের শেষ দিকে চীনের শেনঝেনে এপিইসি সম্মেলনে যোগ দিতে পারেন ট্রাম্প। উত্তর কোরিয়া আগ্রহী হলে ওই অঞ্চলে দুই নেতার বৈঠকের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বৈঠকে পিয়ংইয়ংয়ের শর্ত
বিশ্লেষকদের মতে, কিমের সঙ্গে বৈঠক করতে হলে উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে বড় পরিবর্তন, পিয়ংইয়ংয়ের কাছে বৈরী বিষয়গুলো প্রত্যাহার এবং দেশটির পারমাণবিক শক্তির মর্যাদা মেনে নেওয়ার মতো শর্ত দিতে পারে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্য থেকে সরে যায়নি যুক্তরাষ্ট্র।
এর আগে, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে কিমের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ট্রাম্প। তবে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের বিষয়ে মতবিরোধের কারণে সেই আলোচনা ব্যর্থ হয়।
এখন চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ায় কিমের দ্রুত আলোচনায় ফেরার আগ্রহও কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে পিয়ংইয়ংয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে পুরোপুরি সংলাপ প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখছেন না তারা। বরং যুক্তরাষ্ট্রকে আরও নমনীয় অবস্থানে আনতেই এমন বার্তা দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের অনেকে।