সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত জনপ্রিয় ক্রাইম ওয়েব সিরিজ দ্য স্টেয়ারকেস দেখে একই কৌশল অনুসরণ করে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির এক সফটওয়্যার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের পর স্ত্রীর জমানো অর্থ নিয়ে পালিয়ে গেলেও তিন দিন পর তাকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ৩০ জুলাই অভিযুক্ত কমল সিং ও তার স্ত্রী কোমল সিং বাড়িতে একা ছিলেন। দুপুরে বারান্দায় কাপড় শুকানোর সময় কমল পেছন থেকে স্ত্রীর মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। প্রথম আঘাতে কোমল মারা না গেলে তিনি রান্নাঘরের দিকে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে কমল তাকে টেনে এনে কাঁচি দিয়ে একাধিকবার আঘাত করেন।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগীর চিৎকার প্রতিবেশীরা শুনলেও কেউ এগিয়ে আসেননি। হত্যার পর কমল রক্তমাখা পোশাক ও ব্যবহৃত অস্ত্র ব্যাগে ভরে গোসল করেন এবং স্কুটারে করে পালিয়ে যান। পথে একটি নির্জন স্থানে আলামত ফেলে দেন।
তদন্তে জানা গেছে, পালানোর আগে তিনি স্ত্রীর ঘর থেকে রাখা ৫ লাখ টাকা এবং দুটি ব্যাংক হিসাব থেকে আরও প্রায় ৭ লাখ টাকা তুলে নেন। সব মিলিয়ে তার কাছে ছিল প্রায় ১২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
ঘটনার দিন তাদের ২৬ বছর বয়সী ছেলে গৌরব সিং মাকে একাধিকবার ফোন করেও সাড়া পাননি। রাতে বাড়ি ফিরে তিনি মায়ের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। ঘটনাস্থল থেকে একটি কাঁচি উদ্ধার হলেও হত্যায় ব্যবহৃত অন্য অস্ত্রটি তখনও পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত নজরদারি ও ইলেকট্রনিক তথ্য বিশ্লেষণ করে কমলের গতিবিধি অনুসরণ করে। প্রথমে গোরখপুরের দিকে গেলেও পরে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করতে তিনি মোবাইল ফোন বন্ধ করে মথুরার দিকে চলে যান। শেষ পর্যন্ত তিন দিন পর মথুরা রেলস্টেশনের কাছ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার স্কুটার ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে কমল পুলিশকে জানান, ওয়েব সিরিজ দ্য স্টেয়ারকেস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি হত্যার পর আলামত নষ্ট এবং তদন্তকে বিভ্রান্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত এক বছর ধরে কমল ও কোমলের দাম্পত্য জীবনে চরম টানাপোড়েন চলছিল। মুম্বাই সফরের সময় কমল অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, যা তাদের সম্পর্কে আরও অবনতি ঘটায়। এমনকি একই বাড়িতে থাকলেও তারা আলাদাভাবে বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করতেন।
এ ছাড়া জগৎপুরীতে একটি জমি কেনা ও মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। কমল জমিটি বাবার নামে নিবন্ধন করতে চাইলেও কোমল সেখানে নিজের অংশ দাবি করায় প্রায়ই তাদের মধ্যে বিবাদ হতো।
পুলিশের ধারণা, সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ। তবে ঘটনার অন্যান্য দিকও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সূত্র : এনডিটিভি