শিরোনাম
◈ ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গর ঢাকা সফরে কী বার্তা দিয়ে গেলেন? ◈ সৌদির সঙ্গে আলোচনা সফল হলে হজের ভাড়া আরও কমবে: আফরোজা খানম ◈ গ্যাসের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই: পেট্রোবাংলা ◈ প্রাথমিকে ১৪ হাজার শিক্ষকের যোগদান নিয়ে সুখবর ◈ রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্ধারণের দায়িত্ব তারেক রহমানকে দিলো বিএনপি ◈ র‍্যাবের ‘আয়নাঘরে’ ৭ ‘ডেথ সেল’, মিলল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য (ভিডিও) ◈ সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় দেশজুড়ে কড়া সতর্কতা ◈ কারাতে দক্ষতার প্রদর্শন, কাঠের তক্তা ভাঙলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ (ভিডিও) ◈ দেশের সব বন্দরে ২৪ ঘণ্টা সেবা চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ◈ বাংলাদেশি হিন্দুরা অনুপ্রবেশকারী নয়, তারা শরণার্থী: শুভেন্দু

প্রকাশিত : ০২ আগস্ট, ২০২৬, ০২:৪৮ রাত
আপডেট : ০২ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‘শুধু রিলসেই ক্ষমা করবেন, নাকি মামলাও তুলবেন’

দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন চলাকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে কটুভাষা ব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করার আহ্বান জানিয়ে প্রচারিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও বার্তা নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যখন ভিডিওর মাধ্যমে কিশোরদের ক্ষমা করে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন, তখন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন—এই মানবিক ক্ষমা প্রদর্শন কি কেবল ভিডিও রিলস হাসিল করার কৌশল, নাকি আসলেই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আইনি মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হবে? 

শুক্র ও শনিবার প্রকাশিত মোদির সেলফি-স্টাইলের ভিডিওর প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে দীপকে লেখেন, ‘বন্ধু, শুধু রিলেই ক্ষমা করবেন নাকি মামলাও প্রত্যাহার করে নেবেন?’

ঘটনার সূত্রপাত দিল্লির যন্তর মন্তরে পরীক্ষা-সংক্রান্ত সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের সময়। বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে গালাগাল ও আপত্তিকর শব্দ ব্যবহারের অভিযোগে নয়ডার এক ১৫ বছর বয়সী কিশোরের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার নিজের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম ও এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে এক ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন মোদি। সেখানে এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, আজ আমার শুধু আপনাদের সঙ্গে কিছু কথা বলতে ইচ্ছে করছে। যন্তর মন্তরে কী ঘটেছে তা দেশ ও বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে। কিছু উচ্ছৃঙ্খল শিশু অত্যন্ত অশালীন ও কটুভাষা ব্যবহার করেছে, যা কোনো সভ্য সমাজের সঙ্গে মানানসই নয়। আমাকে ব্যক্তিগতভাবে গালি দেওয়া হয়েছে, এমনকি আমার প্রয়াত মাকেও গালিগালাজ করা হয়েছে। এটি সত্যিই এক জঘন্য দৃশ্য ছিল।

নিজের ভিডিও বার্তায় এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রকাশ পাওয়ার বিষয়টিকে স্বীকৃতি দিলেও মোদি জোর দিয়ে বলেন, যেসব তরুণ ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে, তাদের স্থায়ীভাবে দায়ী না করে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া উচিত। তিনি দীর্ঘমেয়াদি আইনি পদক্ষেপ বা সামাজিকভাবে কাউকে একঘরে করে রাখার বিপক্ষে মত ব্যক্ত করেন। তিনি আরও যোগ করেন, তাদের শাস্তি দেওয়া, আদালতের চত্বরে টানাটানি করা কিংবা সমাজে হয়রানি করা—এর কোনোটিই পরিস্থিতির পরিবর্তন আনবে না। আমি তাদের ক্ষমা করে দিতে চাই। সমাজেরও উচিত এই বিষয়টি মেনে নেওয়া। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের জীবনে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

তবে মোদির এই সহানুভূতির বার্তাকে সস্তা প্রচার আখ্যা দিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির প্রধান অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেন, প্রশাসন এখানে আইনের দ্বিমুখী নীতি প্রয়োগ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বিজেপিকে নিশানা করে প্রশ্ন তোলেন, শুধু গালি দেওয়ার অভিযোগে যদি মামলা করা হয়, তবে বিজেপির আইটি সেলের যেসব সদস্য বিগত বহু বছর ধরে অনলাইনে নারীদের নিয়ে কটুভাষা ব্যবহার করে আসছে, তাদের বিরুদ্ধে কখন মামলা হবে? তিনি দাবি করেন, বিজেপির সঙ্গে যুক্ত একাধিক সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী প্রতিনিয়ত নারীদের অসম্মানজনক ভাষায় আক্রমণ করে আসছে এবং তারা নিজেদের বায়োতে সগর্বে ‘ফলোড বাই পিএম মোদি’ লিখে রাখে। এদের বিরুদ্ধে কি কোনো মামলা দায়ের হবে?

ভিডিও বার্তার সঙ্গে দেওয়া পোস্টে দলটি সরাসরি প্রশ্ন তোলে, বহু বছর ধরে নারীদের উদ্দেশে গালিগালাজ ছড়ানো আইটি সেলের সদস্যদের বিরুদ্ধেও পুলিশ কি এফআইআর বা মামলা দায়ের করবে? দীপকের মতে, অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য বা বাদানুবাদের ঘটনাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে তাৎক্ষণিক মামলা দেওয়া উচিত নয়। তিনি যুক্তি দেখান, কটুভাষার অপরাধে যদি আইনি পদক্ষেপ নিতেই হয়, তবে সবচেয়ে বেশি মামলা হওয়া উচিত বিজেপি নেতৃবৃন্দ এবং তাদের আইটি সেলের বিরুদ্ধে, কারণ তাদের নেতারা বহু বছর ধরে এমনকি ভারতের জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরেও অসম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করেছেন।

উল্লেখ্য, মোদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট নিয়ে অভিজিৎ দীপকের এমন কটাক্ষ নতুন নয়। এর আগে বৃহস্পতিবার পরীক্ষা-সংক্রান্ত নতুন গৃহীত প্রশ্নফাঁসবিরোধী আইন তুলে ধরে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন নরেন্দ্র মোদি, যা পরীক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে দাবি করা হয়। সেই ভিডিওটির মন্তব্যের ঘরে দীপকে কটাক্ষ করে লিখেছিলেন, ‘দেশের ভবিষ্যতের চেয়েও আপনার গায়ের চামড়া বেশি উজ্জ্বল।’ 

সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তাকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক ও সাইবার অঙ্গনে বর্তমানে তর্ক-বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। সূত্র: নিউজ১৮

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়