শিরোনাম
◈ সরবরাহ স্বাভাবিক, তবু বাড়ছে ডলারের দর—তদন্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ◈ আমদানি-রফতানি কমেছে, বেড়েছে বাণিজ্য ঘাটতি; স্বস্তি দিচ্ছে রেকর্ড রেমিট্যান্স ◈ স্থানীয় নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না: মির্জা ফখরুল ◈ পাঠ্যবইয়ে আসছে বড় পরিবর্তন, দুই শ্রেণিতে নতুন চার বই ◈ মিত্রদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি: বাস্তবায়ন হবে ৩১ দফা ও জুলাই সনদ ◈ ইতালির স্বপ্ন ভেঙে লিবিয়ায় বন্দিদশা, মুক্তিপণে দেড় কোটি টাকা দাবি ◈ প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ◈ মানদণ্ডে ব্যর্থ, বাজার থেকে ৮ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের ◈ আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় ওষুধের মূল্য নির্ধারণ থমকে গেছে: বাজারে আসছে না নতুন ওষুধ, হুমকিতে বিপুল বিনিয়োগ ◈ নেপালকে হারিয়ে সিরিজে ২-১এ এগি‌য়ে গে‌লো বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল

প্রকাশিত : ২০ জুলাই, ২০২৬, ০২:৫৩ দুপুর
আপডেট : ২১ জুলাই, ২০২৬, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পার্লামেন্ট অভিমুখে ককরোচ পার্টির লং মার্চ, জনসমুদ্র দিল্লিতে (ভিডিও)

ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার, প্রশ্নফাঁস ঠেকানো ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ‘লং মার্চ টু পার্লামেন্ট’ শুরু করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজিপি)। হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে পদযাত্রাটি এরই মধ্যে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।

গত প্রায় এক মাস ধরে দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে সিজিপি সদস্য ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। সোমবার (২০ জুলাই) দেশটির পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিনে এই লং মার্চের ডাক দেওয়া হলে যন্তর মন্তরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতা ও অ্যাক্টিভিস্ট একত্রিত হন।

বিক্ষোভকারীদের রোখা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় শত শত পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এই পদযাত্রার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে সিজিপি-র এক মুখপাত্র বিবিসি-কে বলেছেন, অনুমতি না থাকলেও তারা পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রা চালিয়ে যাবেন।

অভিজিৎ দীপকে নামের এক তরুণের হাত ধরে গত মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরীক্ষা সংক্রান্ত জালিয়াতি ও প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে একটি ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র যাত্রা শুরু হয়েছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি সাধারণ শিক্ষার্থী ও তরুণদের মাঝে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করে।

যন্তর মন্তরের জমকালো পরিবেশ

৩০০ বছরের প্রাচীন মানমন্দির যন্তর মন্তরে সোমবার (২০ জুলাই) ভোর থেকেই উৎসাহ-উদ্দীপনায় ভরা এক পরিবেশ তৈরি হয়। আন্দোলনকারীরা সরকারবিরোধী ও শিক্ষা সংস্কারের পক্ষে টানা স্লোগান দিচ্ছেন এবং বিভিন্ন বক্তা বক্তব্য রাখছেন। বিক্ষোভকারীদের অনেকের হাতে রয়েছে ভারতের জাতীয় পতাকা, আবার অনেকেই শান্তির প্রতীক হিসেবে হাতে প্লাস্টিক গোলাপ বহন করছেন।

সংসদ ভবন অভিমুখে পদযাত্রা রুখতে পুলিশ যন্তর মন্তরের চারপাশে সুবিশাল ব্যারিকেড তৈরি করেছে। তবে এর মধ্যেই সিজিপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বিক্ষোভকারীদের নেতৃত্ব দিয়ে মূল রাস্তার ব্যারিকেডের দিকে এগোতে শুরু করেছেন। আন্দোলনকারীরা যেন ব্যারিকেড টপকে না যান কিংবা কোনো প্রকার সহিংসতায় না জড়ান, সে বিষয়ে সিজিপির পক্ষ থেকে বারবার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

আন্দোলনকারীদের বড় একটি অংশকে রাস্তার ওপর বসে পড়তে দেখা গেছে। অন্য সদস্যরা সেখানে দাঁড়িয়ে জাতীয় পতাকা নাড়ছেন ও ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে জোরালো স্লোগান দিচ্ছেন। বিক্ষোভের অগ্রভাগে থাকা অধিকাংশ মানুষই মূলত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সিজিপি-র স্বেচ্ছাসেবকরা সবাইকে শান্ত থাকতে ও নিজেদের সুরক্ষার দিকে খেয়াল রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন।

পথেই থামানো হয় অভিজিৎ দীপকের ট্রাক

পার্লামেন্ট অভিমুখী সড়কের শেষ প্রান্তে পুলিশ ভারী ব্যারিকেড বসিয়ে আন্দোলনকারীদের পথ আটকে দেয়। একটি ট্রাকে করে বিক্ষোভকারীদের নেতৃত্ব দিতে আসা সিজিপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ও অন্যান্য আন্দোলনকারীদের সেখানেই থামিয়ে দেওয়া হয়।

এরই মধ্যে সিজিপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন যে, বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য ভারত সরকার তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা বা নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

বিক্ষোভের রাতে যেমন ছিল যন্তর মন্তর

সোমবারের লং মার্চ সামনে রেখে রোববার (১৯ জুলাই) রাতে পুরো যন্তর মন্তর এলাকা যেন এক অস্থায়ী ক্যাম্পিং গ্রাউন্ডে পরিণত হয়েছিল। ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে রাতভর সফর করে আসা শিক্ষার্থীরা যন্তর মন্তরে পৌঁছে ত্রিপলের নিচে সাধারণ ম্যাট ও পাতলা কম্বল বিছিয়ে রাত কাটান। অনেকেই না ঘুমিয়ে গান গেয়ে, আড্ডা দিয়ে কিংবা সোমবারের মার্চের জন্য প্ল্যাকার্ড এঁকে রাত পার করেন।

সকালের সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই স্বেচ্ছাসেবকরা আন্দোলনকারীদের মাঝে চা ও প্রাতরাশ বিতরণ শুরু করেন। নতুন করে আসা দূর-দূরান্তের শিক্ষার্থীদের পিঠের ব্যাগ ও স্লিপিং ব্যাগের ভিড়ে থাকার জায়গা করে দিতেও সাহায্য করেন তারা। বারবার স্থান ত্যাগ করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করা সত্ত্বেও কোনো আন্দোলনকারী যন্তর মন্তর ছাড়েননি। অনেকেই জানান, পদযাত্রা শুরু হলে তারা সবার সামনে থাকতে চান বলেই রাতে সেখানে অবস্থান নিয়েছেন।

রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম নয়, সুসংগঠিত প্রস্তুতি

বিশাল এই লং মার্চকে ঘিরে গত ২৪ ঘণ্টা ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কোনো রাজনৈতিক সংঘাতের চেয়ে মিউজিক ফেস্টিভ্যালের প্রস্তুতির সঙ্গে এর মিল ছিল বেশি। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবকরা জরুরি নির্দেশনা ও নিরাপত্তা টিপস শেয়ার করেছেন।

অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে পানির বোতল, ওআরএস স্যালাইন, শুকনো খাবার, পাওয়ার ব্যাংক, ক্যাপ, রেইনকোট, আরামদায়ক জুতো ও জরুরি ফোন নম্বর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। কোথায় কোথায় জমা হতে হবে তার মানচিত্র, আইনি সহায়তা পাওয়ার হেল্পলাইন নম্বর ও পুলিশ আটক করলে করণীয় সম্পর্কিত নির্দেশিকাও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য একটি নিয়মাবলী প্রকাশ করা হয়। সেখানে মিছিল সম্পূর্ণ শান্ত রাখার, শুধু ভারতের জাতীয় পতাকা বহন করার এবং পুলিশের সাথে কোনো প্রকার হাতাহাতি বা তর্কে না জড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়। অনেক শিক্ষার্থী খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী ভর্তি ব্যাকপ্যাক নিয়ে দীর্ঘ লড়াইয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েই পদযাত্রায় শামিল হয়েছেন।

কী চলছে ভারতীয় পার্লামেন্টে?

বিক্ষোভকারীরা যখন মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে রাস্তায় নেমে লড়াই করছেন, ঠিক তখনই ভারতের লোকসভায় (সংসদের নিম্নকক্ষ) চরম হট্টগোল দেখা গেছে। গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে আলোচনার দাবিতে বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতারা স্লোগান দেওয়া শুরু করলে অধিবেশন দুপুর পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

এর আগে অধিবেশন শুরুর মুখে সংসদ ভবনের বাইরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি তার বক্তব্যে গত শনিবার ভারতের এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রথম কক্ষপথীয় রকেট উৎক্ষেপণের প্রশংসার পাশাপাশি দেশের নতুন তেল শোধনাগার, সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্ট ও হাইড্রোজেন ট্রেনের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। তিনি সংসদ সদস্যদের গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

তবে প্রধানমন্ত্রী মোদীর দীর্ঘ বক্তব্যে পার্লামেন্ট থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে যন্তর মন্তরে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর এই আন্দোলন বা অবস্থান নিয়ে কোনো উল্লেখ ছিল না। সূত্র: বিবিসি

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়