শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ২৫ মে, ২০২৬, ১১:৫২ রাত
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হালাল লাভের প্রলোভনে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে, শেষরক্ষা হলো না নওহেরার

ভারতে প্রায় ৬ হাজার কোটি রুপির (প্রায় ৭৭৩২ কোটি টাকা) এক আলোচিত পঞ্জি কেলেঙ্কারির ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন হায়দরাবাদের ব্যবসায়ী নওহেরা শেখ। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তাকে গুরগাঁওয়ের একটি হোটেল থেকে আটক করে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তদন্তকারীদের দাবি, নওহেরা শেখ ও তার পরিবারের সদস্যরা শরিয়া আইনসম্মত বা ‘হালাল’ বিনিয়োগের নামে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে টার্গেট করতেন। ইসলামি শরিয়ায় সুদ গ্রহণ নিষিদ্ধ হওয়ায়, তারা এমন সব বিনিয়োগ প্রকল্প চালু করেন যেখানে সুদের বদলে ব্যবসা ও বাণিজ্য থেকে লাভের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো।

advertisement

অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রকল্পে বছরে ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত লাভের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। শুরুতে কিছু বিনিয়োগকারীকে নিয়মিত অর্থ ফেরত দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করা হয়। এতে আরও বেশি মানুষ বিনিয়োগে উৎসাহিত হন। কিন্তু একসময় পুরো নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়লে লাখ লাখ মানুষ তাদের সঞ্চিত অর্থ হারান।

ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) এক কর্মকর্তা জানান—নওহেরা শেখ, তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং পরিবারের সদস্যরা মিলে বিশাল এক পঞ্জি চক্র পরিচালনা করছিলেন। তারা সাধারণ মানুষকে বিশ্বাস করাতে সক্ষম হন, এই বিনিয়োগ সম্পূর্ণ শরিয়াসম্মত এবং সুদভিত্তিক নয়।

advertisement

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি নওহেরা শেখের জামিন বাতিল করে তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। কিন্তু তিনি কয়েক সপ্তাহ ধরে আত্মগোপনে ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি তদন্তকারীদের দাবি, আদালতকে বিভ্রান্ত করতে তিনি হায়দরাবাদ পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণের চেষ্টা করেছিলেন বলে দাবি করেন, যদিও পুলিশ তার বক্তব্য অস্বীকার করেছে।

এদিকে ইডি ইতিমধ্যে নওহেরা শেখ ও তার সহযোগীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ৪০০ কোটির বেশি রুপির সম্পদ জব্দ করেছে। এসব সম্পদের মধ্যে রয়েছে বিলাসবহুল গাড়ি, নগদ অর্থ এবং বিভিন্ন স্থাবর সম্পত্তি। গত বছর তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ-বেঞ্জ, মাহিন্দ্রা স্করপিও, একাধিক টয়োটা ফর্চুনার এবং প্রায় ৯২ লাখ রুপি নগদ উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, এসব সম্পদ বিনিয়োগকারীদের অর্থ দিয়েই কেনা হয়েছিল।

advertisement

ঘটনার তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। নওহেরা শেখের এক সহযোগী প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের (পিএমও) কর্মকর্তা পরিচয়ে আদালতের কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ‘কল্যাণ ব্যানার্জি’ নামে পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তিকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে গ্রেপ্তার করা হয়।

ভারতের তদন্ত সংস্থাগুলো এখন জব্দ করা সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে হাজার হাজার ভুক্তভোগী এখনো তাদের কষ্টার্জিত সঞ্চয় ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

 

  • সর্বশেষ