শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ২১ মে, ২০২৬, ০৯:১৮ সকাল
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চিকেনস নেকে কৌশলগত তৎপরতা বাড়াচ্ছে ভারত

চিকেনস নেক বা শিলিগুড়ি করিডর হলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের একটি সংকীর্ণ ভৌগোলিক করিডর, যা ভারতীয় মূল ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর সঙ্গে যুক্ত করে। এই করিডর মাত্র ২০-২২ কিলোমিটার প্রশস্ত এবং দেখতে অনেকটা মুরগির গলার মতো সরু। তাই এর নাম চিকেন’স নেক। অন্যতম এই স্পর্শকাতর অঞ্চলে থমকে থাকা সড়ক ও রেল সম্প্রসারণ প্রকল্পের পথ প্রশস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ওই এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাতটি জাতীয় সড়ক কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর হাতে হস্তান্তরের ছাড়পত্র দিয়েছে রাজ্য।

এই সরু করিডরটিই ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যকে যুক্ত করার একমাত্র স্থলপথ। এর পশ্চিমে নেপাল, উত্তরে ভুটান, দক্ষিণে বাংলাদেশ এবং কাছেই চীনের চুম্বি উপত্যকা অবস্থিত হওয়ায় এই অঞ্চলটিকে ভারতের অন্যতম কৌশলগতভাবে দুর্বল ও স্পর্শকাতর অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

advertisement

রাজ্যের মুখ্যসচিবের দপ্তর থেকে এই নতুন ছাড়পত্র মেলার পর, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো এখন অবিলম্বে তাদের থমকে থাকা নির্মাণ ও আধুনিকীকরণের কাজ শুরু করতে পারবে বলে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সড়কগুলো এর আগে পশ্চিমবঙ্গ গণপূর্ত দপ্তরের অধীনে ছিল, যা এখন থেকে ‘ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অব ইন্ডিয়া’ এবং ‘ন্যাশনাল হাইওয়ে অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট করপারেশন লিমিটেড’-এর নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

নতুন এই ব্যবস্থা অনুযায়ী, এনএইচএআই ৩১, ৩৩ এবং ৩১২ নম্বর জাতীয় সড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর দায়িত্ব নেবে। অন্যদিকে, এনএইচআইডিসিএল দেখাশোনা করবে সেভক-করোনেশন ব্রিজ, হাসিমারা-জয়গাঁ রুট এবং চ্যাংড়াবান্ধা করিডরের মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলো।

advertisement

মুখ্যসচিবের দপ্তরের একটি সরকারি নোটে বলা হয়েছে, এই সাতটি সড়ক এক সঙ্গে ‘সিকিম, ভুটান ও বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা সুদৃঢ় করবে এবং দার্জিলিং পাহাড়, ডুয়ার্স ও উত্তরবঙ্গকে জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করবে।’ এ ছাড়া মালদা ও মুর্শিদাবাদের মধ্য দিয়ে বিহার-বেঙ্গল করিডরের উন্নতি ঘটবে এবং মুর্শিদাবাদ, নদীয়া ও উত্তর ২৪ পরগনা হয়ে ঘোজাডাঙা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ আরও আধুনিক হবে।

সড়ক হস্তান্তরের এই সিদ্ধান্তটি এই করিডরে কেন্দ্রের একটি সুদূরপ্রসারী ও বিশদ কৌশলগত রেল সম্প্রসারণ পরিকল্পনার সঙ্গেও জড়িত। কেন্দ্র সরকার এখানকার বিদ্যমান ডাবল রেললাইনকে একটি ছয়-ট্র্যাকের রেলব্যবস্থায় রূপান্তর করার পরিকল্পনা করছে, যার মধ্যে ‘তিন মাইল হাট’ এবং ‘রাঙ্গাপানি’ স্টেশনের মাঝে একটি ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ রেল করিডরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভূপৃষ্ঠ থেকে ২০-২৪ মিটার গভীরে নির্মিতব্য এই ভূগর্ভস্থ অংশটি মূলত সম্ভাব্য বিমান হামলা, দূরপাল্লার কামানের গোলা এবং ড্রোন যুদ্ধ থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও লজিস্টিক সরবরাহব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যে ডিজাইন করা হয়েছে।

advertisement

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই শিলিগুড়ি করিডরকে একটি ভূরাজনৈতিক ‘প্রেসার পয়েন্ট’ হিসেবে দেখে আসছেন। কারণ এই সরু অংশে সামান্যতম বিঘ্ন ঘটলেই তা উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রায় ৫ কোটি মানুষকে দেশের বাকি অংশ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। সাম্প্রতিক এই সড়ক হস্তান্তরের ফলে দীর্ঘদিনের বকেয়া পরিকাঠামোগত কাজে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তার উদ্বেগ এবং যোগাযোগব্যবস্থার চাহিদা মেটাতে অত্যন্ত জরুরি।

  • সর্বশেষ