শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ০৯ মে, ২০২৬, ০৮:০৭ রাত
আপডেট : ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আরএসএস কীভাবে বদলে দিচ্ছে ভারতের রাষ্ট্রীয় আদর্শ ও রাজনীতি?

ভারতের বর্তমান রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় আদর্শের বিবর্তনে সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস (RSS)। গত কয়েক দশকে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর পরিবর্তন এবং হিন্দু জাতীয়তাবাদের প্রসারে এই সংগঠনটি পর্দার আড়াল থেকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে বলে এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনপিআর (NPR)।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি আজ বিশ্বের বৃহত্তম স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে পরিণত হয়েছে, যার সদস্য সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখেরও বেশি। ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই এই সংগঠনের একজন দীর্ঘকালীন সদস্য। ফলে আরএসএস-এর আদর্শ এখন ভারতের জাতীয় নীতি নির্ধারণে এক বিশাল প্রভাব বিস্তার করছে।

মূল লক্ষ্য ও আদর্শ : আরএসএস-এর মূল উদ্দেশ্য ভারতকে একটি ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ হিসেবে পুনর্গঠন করা। সংগঠনটির মতে, শত বছরের ব্রিটিশ এবং মুঘল শাসন ভারতীয়দের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ভুলিয়ে দিয়েছে। সকালে শরীরচর্চা, ধ্যান এবং সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে তাদের শাখাগুলোতে (Shakha) সদস্যদের হিন্দু জাতীয়তাবাদের দীক্ষা দেওয়া হয়।

বিতর্ক ও সমালোচনা : তবে আরএসএস-এর এই উত্থান ভারতের ধর্মীয় সংখ্যালঘু, বিশেষ করে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সমালোচকদের মতে, সংগঠনটি ভারতের সংবিধানের মূল ভিত্তি ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’র পরিবর্তে উগ্র হিন্দুত্ববাদ প্রচার করছে। এনপিআর-এর প্রতিবেদনে মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসের সঙ্গে আরএসএস-এর ঐতিহাসিক সম্পর্কের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও সংগঠনটি সবসময়ই দাবি করে এসেছে যে হত্যাকাণ্ডের সময় গডসে তাদের সদস্য ছিলেন না।

রাজনীতিতে প্রভাব : বর্তমানে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি (BJP)-কে আরএসএস-এর রাজনৈতিক শাখা হিসেবে গণ্য করা হয়। ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সামাজিক নীতিমালায় হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নে আরএসএস সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ভারতের বড় বড় শহরগুলোর নাম পরিবর্তন এবং অযোধ্যার রাম মন্দির আন্দোলনের নেপথ্যেও এই সংগঠনের শক্তিশালী অবস্থান ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, আরএসএস কেবল একটি সংগঠন নয়, এটি ভারতের সমাজকাঠামো পরিবর্তনের এক দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। যার প্রভাব ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে এখন বিশ্ব দরবারেও আলোচিত হচ্ছে।

  • সর্বশেষ