শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ০৮ মে, ২০২৬, ০৪:১১ দুপুর
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হরমুজ অবরোধেও ৩–৪ মাস টিকে থাকতে পারে ইরান, বলছে মার্কিন গোপন গোয়েন্দা মূল্যায়ন

যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোপন গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের মুখেও ইরান অন্তত তিন থেকে চার মাস টিকে থাকতে পারবে। এরপরই কেবল দেশটি আরও গভীর অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে। গতকাল বৃহস্পতিবার এমন তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চারজন ব্যক্তির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টেলিজেন্স কমিউনিটি এই বিশ্লেষণ প্রস্তুত করে চলতি সপ্তাহে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে জমা দিয়েছে। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আশাবাদী বক্তব্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাম্প বলেছিলেন, তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অত্যন্ত কার্যকর।

advertisement

প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় সামরিক অবকাঠামো ও অস্ত্র স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হলেও ইরান এখনো উল্লেখযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধরে রেখেছে। এক মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য, যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় ইরানের মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযানের প্রায় ৭৫ শতাংশ এখনো অক্ষত। একইভাবে যুদ্ধপূর্ব ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের প্রায় ৭০ শতাংশ তাদের হাতে রয়ে গেছে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে যে ইরানের সরকার প্রায় সব ভূগর্ভস্থ সংরক্ষণাগার পুনরুদ্ধার ও পুনরায় চালু করতে সক্ষম হয়েছে। তারা কিছু ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র মেরামত করেছে এবং যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় প্রায় প্রস্তুত অবস্থায় থাকা কিছু নতুন ক্ষেপণাস্ত্রও জোড়া লাগিয়েছে।

advertisement

তবে বুধবার ট্রাম্প ভিন্ন ধরনের আশাবাদী মূল্যায়ন দেন। তিনি বলেন, ‘তাদের (ইরানের) ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। সম্ভবত তাদের হাতে এখন ১৮ থেকে ১৯ শতাংশ অবশিষ্ট আছে। আগের তুলনায় সেটা খুব বেশি নয়।’

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, তিন বর্তমান মার্কিন কর্মকর্তা ও এক সাবেক কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে গোয়েন্দা মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে তাঁরা নাম প্রকাশ করতে চাননি।

advertisement

পত্রিকাটিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, এই অবরোধ ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক বাহিনীর ওপর বাস্তব ও ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের অবরোধ বাস্তব ও ধারাবাহিক ক্ষতি করছে। এটি বাণিজ্য বিচ্ছিন্ন করছে, রাজস্ব গুঁড়িয়ে দিচ্ছে এবং পদ্ধতিগত অর্থনৈতিক পতনকে ত্বরান্বিত করছে। ইরানের সামরিক বাহিনী মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে, তাদের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়েছে এবং নেতারা আত্মগোপনে রয়েছেন।’

ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এখন অবশিষ্ট আছে শুধু জনগণের দুর্ভোগ দীর্ঘায়িত করার জন্য শাসকগোষ্ঠীর আগ্রহ। নিজেদের জনগণকে অনাহারের দিকে ঠেলে দিয়ে তারা এমন একটি যুদ্ধ টিকিয়ে রাখতে চাইছে, যে যুদ্ধে তারা ইতিমধ্যে হেরে গেছে।’

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত আরেক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, সিআইএর মূল্যায়নের চেয়েও দীর্ঘ সময় ধরে ইরান নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ সহ্য করতে সক্ষম হতে পারে। তিনি বলেন, ‘ইরানের নেতৃত্ব আরও কট্টর, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং ক্রমেই আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সদিচ্ছার চেয়ে বেশি সময় টিকে থাকতে পারবে। একই সঙ্গে তারা অভ্যন্তরীণ দমনপীড়নের মাধ্যমে যেকোনো প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তুলনামূলকভাবে দেখলে দেখা যায়, একই ধরনের শাসনব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ ও শুধু বিমান শক্তিনির্ভর যুদ্ধের মধ্যেও বছরের পর বছর টিকে থেকেছে।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করার পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যায়। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় হরমুজ প্রণালি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় স্থায়ী সমঝোতা হয়নি। পরে ট্রাম্প নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা ছাড়াই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ান।

এরপর ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামুদ্রিক চলাচল লক্ষ্য করে নৌ অবরোধ কার্যকর করে। মঙ্গলবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ‘নৌ স্বাধীনতা’ পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সাময়িকভাবে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করবে। তবে তিনি বলেন, আমেরিকার অবরোধ ‘পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে।’

 

  • সর্বশেষ