এল আর বাদল: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল গণনায় বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি-এর অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার আভাস মিলছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে ঐতিহাসিক পালাবদল। ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের পথে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
সোমবার (৪ মে) ভোট গণনার ট্রেন্ডে ম্যাজিক ফিগার পার করে ফেলেছে গেরুয়া শিবির। এর ফলে টানা চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় ফেরার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হতে চলেছে। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই ) এ খবর জানিয়েছে।
ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজ্য বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ১৭৯টি আসনে। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে আছে ১০৭টি আসনে এবং সিপিএম এগিয়ে রয়েছে ১টি আসনে। দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনের পর গত ১৫ বছর ধরে চলা তৃণমূলের একাধিপত্য ভেঙে বিজেপির এই জয় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করল।
দলের এই অভাবনীয় সাফল্যে উচ্ছ্বসিত রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ও বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু বলেন, ১৮০টিরও বেশি আসন নিয়ে রাজ্যে সরকার গড়বে বিজেপি। তৃণমূলের ফলাফল নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, রনে দিজিয়ে। খতম, পুরা খতম।
নিজের দাবির সপক্ষে যুক্তি দিয়ে শুভেন্দু বলেন, নরেন্দ্র মোদীর পক্ষে সব হিন্দু ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। গণনার চার রাউন্ডের পরেই স্পষ্ট হয়েছে যে বিজেপি সরকার গড়ছে।
উল্লেখ্য এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ ভোটদানের রেকর্ড গড়েছে। দ্বিতীয় দফায় ৯১.৬৬ শতাংশ এবং প্রথম দফায় ৯৩.১৯ শতাংশ ভোট পড়ার পর, দুই দফা মিলিয়ে মোট ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৯২.৪৭ শতাংশ।