শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ০৫:৪২ বিকাল
আপডেট : ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

যুদ্ধের বোঝা বাড়ছে ইসরায়েলে, ক্ষতিপূরণ আবেদন ২৮ হাজারের বেশি

ইরান ও লেবাননের সঙ্গে চলমান দীর্ঘ ৪০ দিনের ভয়াবহ যুদ্ধে ইসরায়েলের আর্থিক ক্ষতির একটি চিত্র সামনে এসেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় এই যুদ্ধের প্রাথমিক ব্যয় প্রাক্কলন করেছে প্রায় ৫৪ বিলিয়ন শেকেল, যা মার্কিন ডলারে প্রায় ১৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন। এই ব্যয়ের অঙ্ক আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, এতে জিডিপির ক্ষতি বা দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন ব্যয় এখনো যুক্ত করা হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরাসরি সামরিক অভিযানের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ বিলিয়ন শেকেল (১২.৯ বিলিয়ন ডলার)। এই ব্যয়ের মূল ক্ষেত্রগুলো হলো:

advertisement

মারণাস্ত্র ও প্রযুক্তি: কয়েক হাজার নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র, ইন্টারসেপ্টর এবং গোলাবারুদের ব্যবহার।

বিমানবাহিনী: লেবানন ও ইরানে হামলার জন্য কয়েক হাজার উড্ডয়ন ঘণ্টা।

advertisement

রিজার্ভ সৈন্য: যুদ্ধের প্রয়োজনে সাধারণ জীবন ছেড়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া কয়েক লাখ রিজার্ভ সৈন্যের সার্ভিস ডে এবং ভাতাবাবদ বিশাল খরচ।

প্রতিরক্ষা রিজার্ভ: এ ছাড়া অপ্রত্যাশিত সামরিক পরিস্থিতির মোকাবিলায় অতিরিক্ত ৭ বিলিয়ন শেকেল (২.৩ বিলিয়ন ডলার) একটি বিশেষ তহবিলে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

advertisement

যুদ্ধের কারণে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বেসামরিক অবকাঠামোতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ধারণা করছে, সম্পত্তি করের আওতায় ক্ষতিপূরণ দিতেই ১২ থেকে ১৩ বিলিয়ন শেকেল (৩.৮-৪.২ বিলিয়ন ডলার) ব্যয় করতে হবে।

ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে অবৈতনিক ছুটির কারণে কাজ করতে অসমর্থ কর্মীদের পাওনা এবং স্থানীয় মিউনিসিপ্যালিটিগুলোর সহায়তায় ১ বিলিয়ন শেকেল ব্যয় করা হবে।

শহরভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র:

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সরকারি ক্ষতিপূরণ তহবিলে ২৮ হাজার ২৩৭টি ক্ষতিপূরণের আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ১৮ হাজার ৪০৮টি ভবনের জন্য এবং ২ হাজার ৫৯৪টি যন্ত্রপাতির ক্ষতির দাবি করা হয়েছে। ৬ হাজার ৬১৭টি যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতির আবেদনও জমা পড়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলো হলো:

তেল আবিব: ৫,১০০টি আবেদন।

বীরশেবা: ৩,৬০০টি আবেদন।

আরাদ: ২,৩৫০টি আবেদন।

পেতাহ তিকভা: ২,০০০টি আবেদন।

ডিমোনা: ১,৫০০টি আবেদন।

বেইত শেমেশ: ১,৪০০টি আবেদন।

অজানাই থেকে যাচ্ছে অর্থনীতির আসল ক্ষত

মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে, এই ১৭.৫ বিলিয়ন ডলার কেবল শুরু। যুদ্ধের কারণে ইসরায়েলের অর্থনীতি আংশিক বন্ধ থাকায় জিডিপির যে বিশাল অঙ্কের ক্ষতি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে ভেঙে পড়া ভবন ও অবকাঠামো পুনর্গঠনে যে হাজার হাজার কোটি টাকা লাগবে, তা এই হিসাবে ধরা হয়নি।

এদিকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও লেবাননের পরিস্থিতি এখনো চরম উত্তপ্ত। গত বুধবার এক দিনেই ইসরায়েলি হামলায় ২৫৪ জন লেবানিজ নিহত হওয়ার পর দেশটিতে জাতীয় শোক পালন করা হচ্ছে। এই রক্তপাত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার শান্তি প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দিয়ে পুনরায় যুদ্ধের দাবানল জ্বালিয়ে দিতে পারে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এ পর্যন্ত দুই পক্ষেই হাজার হাজার প্রাণের বিনাশ ঘটিয়েছে, যার ভার এখন শুধু রাজনীতি নয়, দুই দেশের অর্থনীতিকেও বইতে হচ্ছে।

 

  • সর্বশেষ