শিরোনাম
◈ সংসদে ১২টি বিল পাস ◈ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ দিন অনলাইন, ৩ দিন অফলাইনে ক্লাস: শিক্ষামন্ত্রী ◈ যুদ্ধের প্রভাবে টিকে থাকার লড়াইয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা! ◈ আবাসন খাতে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ চায় রিহ্যাব, এনবিআরের ‘না’ ◈ চাহিদা মেটাতে ১১ কার্গো এলএনজি আমদানি করছে সরকার ◈ গত দুদিনে দুবার দাম বাড়ার পর আজ আবার কমেছে স্বর্ণের দাম! ◈ এডহক ক‌মি‌টির সদস‌্যদের ম‌ধ্যে বণ্টন হলো বিসিবির স্ট্যান্ডিং কমিটি, কে পেলেন কোন দায়িত্ব ◈ বাংলা‌দেশ-ভারত সম্প‌র্কে অস্ব‌স্তির কারণ হ‌তে পা‌রে আওয়ামী লীগ! ◈ বিদেশি তারকাদের তুলোধোনা, আই‌পিএ‌লে দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সু‌নিল গাভাস্কার ◈ গ্রিনল্যান্ড দখলের ইঙ্গিত ফের দিলেন ট্রাম্প, ন্যাটোকে হুঁশিয়ারি

প্রকাশিত : ০৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:২৫ দুপুর
আপডেট : ০৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

যুদ্ধবিরতিতে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ, মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের ওপর চাপের অভিযোগ

পাকিস্তান নিজেকে শান্তির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলেও, আসলে হোয়াইট হাউসই ইসলামাবাদকে ইরানের সঙ্গে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি করাতে চাপ দিয়েছিল। এমনটাই জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। এতে বলা হয়, ইসলামাবাদ নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী ছিল না; বরং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি সুবিধাজনক মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। তার মাধ্যমে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি বাড়াচ্ছিলেন। দাবি করছিলেন তেহরান যুদ্ধবিরতির জন্য ‘অনুনয় করছে’। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প প্রশাসন ইসলামাবাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল, যাতে তারা ইরানকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করাতে পারে। শর্ত ছিল হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া। প্রতিবেদন বলছে, একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশ এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই প্রস্তাব তেহরানের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলা।

পাকিস্তানের পর্দার আড়ালের এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দেন দেশটির সেনাপ্রধান অসিম মুনির। সেই প্রচেষ্টা মঙ্গলবার রাতে ফলপ্রসূ হয়। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
এই অগ্রগতি ঘটে ট্রাম্পের সেই হুমকির কয়েক ঘণ্টা পর, যেখানে তিনি বলেছিলেন- ইরান তার শর্ত না মানলে তাদের ‘পুরো সভ্যতা ধ্বংস’ করে দেয়া হবে। তবে যুদ্ধবিরতি আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্প মূলত তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং ইরানের স্থিতিশীলতা দেখে বিস্মিত হন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২১ মার্চ ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি দেয়ার পর থেকেই ট্রাম্প ‘যুদ্ধবিরতির জন্য আগ্রহী’ ছিলেন।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর মতে, ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদ উভয়ই মনে করেছিল ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব গ্রহণে বেশি আগ্রহী হবে। মঙ্গলবার ট্রাম্পের নির্ধারিত সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির দ্রুত বিভিন্ন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। এর মধ্যে ছিলেন ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। এরপর তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে দুই সপ্তাহের প্রস্তাব নিয়ে কথা বলেন, যা পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ প্রকাশ্যে আনেন। তবে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেহবাজ শরিফ এটি প্রকাশ করার আগেই হোয়াইট হাউস বিবৃতিটি দেখে অনুমোদন দিয়েছিল। এমনকি শেহবাজ শরিফ যখন এটিকে পাকিস্তানের উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করেন, তখন ভুলবশত তার পোস্টে ‘ড্রাফট-পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বার্তা’ শিরোনামটি রয়ে যায়।

ট্রাম্প প্রথমবার হরমুজ প্রণালি খোলার আল্টিমেটাম দেয়ার পর, অসিম মুনির এবং অন্যান্য পাকিস্তানি কর্মকর্তারা ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব এবং হোয়াইট হাউসের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করতে থাকেন। তারা ইসলামাবাদকে শান্তি সম্মেলনের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে প্রস্তাব করেন। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ১৫ দফা প্রস্তাব শেয়ার করে এবং ৪৫ দিন থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদের যুদ্ধবিরতির বিকল্প তুলে ধরে। এর জবাবে ইরান ৫ ও ১০ দফা প্রস্তাব দেয়। যদিও দুই পক্ষের মধ্যে বড় ব্যবধান ছিল, সময়ের সঙ্গে ইরান কিছু শর্ত শিথিল করতে এবং ইউরেনিয়াম মজুদের ওপর সীমা মানতে আগ্রহী হয়।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আরাঘচি ও তেহরানের অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা আগেই হরমুজ প্রণালি খোলার বিনিময়ে যুদ্ধবিরতি নীতিগতভাবে মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু ইসলামি বিপ্লবী গার্ড করপস (আইআরজিসি) চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে দেরি করে। টানা মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার পর আইআরজিসির ভেতর বিভক্তি দেখা দেয়। কিছু অংশ যুদ্ধ শেষ করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ফিরতে রাজি ছিল না।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়