শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ০৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪৮ দুপুর
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শজনে নাকি লাজনা—দেখতে প্রায় একই হলেও খাওয়ার আগে জেনে নিন আসল পার্থক্য

উদ্ভিদবিদ ও গবেষক জিনিয়া নাসরিন বলেন, ‘শজনেকে যেমন কোথাও শজিনা বা মরিঙ্গা হিসেবে ডাকা হয়, অঞ্চলভেদে লাজনাকেও রাইখঞ্জন বা বহুপল্লভা বলে চেনেন কেউ কেউ। দেখতে প্রায় একই রকম হলেও এদের পার্থক্য আছে।’

প্রধান পার্থক্যগুলো

advertisement

গাছের উচ্চতা ও গঠনগত পার্থক্য

শজনে: দেশি শজনেগাছ সোজা ও লম্বা হয়, যা প্রায় ১০-১২ মিটার বা তারও বেশি উঁচু হতে পারে। এর ডালপালাও ওপরের দিকে বিস্তৃত হতে থাকে।

advertisement

লাজনা: এটি মূলত একটি ঝোপালো বা বামন প্রজাতির গাছ। এর উচ্চতা সাধারণত ৪-৬ মিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে এর রক্ষণাবেক্ষণ এবং ফল সংগ্রহ করা অনেক সহজ।

কাণ্ড ও ডালপালার বৈশিষ্ট্য

advertisement

শজনে: শজনের কাণ্ড শক্ত, বাকল বা ছাল কিছুটা মসৃণ ও পাতলা হয়। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এটি বেশ মজবুত কাষ্ঠলগাছে পরিণত হয়। শজনের ডাল কেটে মাটিতে পুঁতে দিলেই নতুন গাছ জন্মে। শজনের চাষ হয় সাধারণত ডাল রোপণের মাধ্যমে।

লাজনা: লাজনার কাণ্ড কিছুটা নরম ও মোটা হয়। খুব দ্রুত বাড়ে কিন্তু সাধারণত শজনের মতো অতটা শক্তপোক্ত হয় না। শজনের মতো লাজনাগাছও ডাল থেকে চারা করা যায়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বীজ থেকে চাষ করা হয় লাজনা।

ফুল ও ফলনের সময়

শজনে: শজনে মৌসুমি ফলনের গাছ। বছরে একবার (বসন্তের শেষ দিকে) ফুল আসে এবং একবারই ফল (ডাঁটা) দেয়। ফুলের রং সাদাটে বা অফ হোয়াইট। গাছে ফুল আসার সময় সব পাতা ঝরে যায়। ফুল থেকে ফল হয়েও তা পাতাশূন্য গাছেই ঝুলতে থাকে।  

লাজনা: বারোমাসি জাত হিসেবে পরিচিত। বছরে কমপক্ষে দুইবার (ক্ষেত্রবিশেষে সারা বছর) ফুল ও ফল দেয়। লাজনাগাছের ফুল সাজনার ফুলের চেয়ে আকারে ছোট হয়। এর রং গাঢ় ঘিয়ে।

লাজনা ফুলের পাপড়িতে লাল রঙের দাগ দেখা যায়, যা শজনের ফুলে থাকে না। ফুল এলেও লাজনাগাছের পাতা ঝরে না বললেই চলে। গাছে সারা বছরই পাতার দেখা পাওয়া যায়।

লাজনা রোপণের মাত্র ৬-৮ মাসের মধ্যেই এতে ফলন আসতে শুরু করে। যেখানে শজনে গাছ রোপণের পর ২ বছরের মতো সময় লাগে ফলন আসতে।

ডাঁটার স্বাদ ও আকার

শজনে: এর ডাঁটা কিছুটা চিকন, পাতলা এবং লম্বায় এক ফুটেরও বেশি হয়। শজনের ডাঁটা অনেক বেশি আঁশযুক্ত ও সুস্বাদু। ডাঁটা শুরু থেকে পোক্ত হওয়া পর্যন্ত একদম সবুজ সতেজ থাকে। ডাঁটাও হয় সোজা গড়নের।

লাজনা: লাজনার ডাঁটাগুলো বেশ খাটো এবং মাংসল হয়। অনেকের মতে, শজনের তুলনায় লাজনা কিছুটা কম সুস্বাদু। কখনো কখনো লাজনা কিছুটা তেতো স্বাদ টের পাওয়া যায়।

ডাঁটার রং কিছুটা ধূসর–সবুজ, তুলনামূলক মোটা আর হালকা বাঁকা গড়নের। ডাঁটার ভেতরের অংশ নরম হলেও বাইরের চামড়া বেশ শক্ত হয়।

তবে দুটিরই ঔষধি গুণ অনেক। বসন্তের বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্ত রাখে শজনে ও লাজনা।

  • সর্বশেষ