ইরানের ভূখণ্ডে হামলায় নিয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি বাতিল করেছে স্পেন। চলমান ইরান যুদ্ধে ওয়াশিংটনের সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করল মাদ্রিদ।
সোমবার (৩০ মার্চ) স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিতা রোবলেস ফার্নান্দেজ আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।
স্পেন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য স্পেনের কোনো সামরিক ঘাঁটি বা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি পাবে না ওয়াশিংটন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিতা রোবলেস এই যুদ্ধকে ‘পুরোপুরি বেআইনি এবং চরম অন্যায়’ হিসেবে অভিহিত করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইরান যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য আমরা আমাদের সামরিক ঘাঁটি বা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছি না। আমি মনে করি, স্পেনের অবস্থান এখন সবার কাছে পরিষ্কার।’
স্পেনের এই কঠোর সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের অন্য দেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে যাওয়া মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোকে এখন দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হবে। তবে মানবিক বিপর্যয় বা জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে এই নিয়মে কিছুটা শিথিলতা থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আগে থেকেই এই যুদ্ধের সরাসরি বিরোধিতা করে আসছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান—সব পক্ষকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘একটি বেআইনি কাজের জবাব আপনি আরেকটি বেআইনি কাজ দিয়ে দিতে পারেন না।’ সানচেজের এই অবস্থানে ক্ষুব্ধ হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
স্পেনের অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রী কার্লোস কুয়েরপো সোমবার জানান, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে একতরফাভাবে যে যুদ্ধ শুরু করা হয়েছে, তাতে কোনো ধরনের সহায়তা না করার পূর্ব সিদ্ধান্ত থেকেই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে স্পেনের কংগ্রেসে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছিলেন যে, জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) বিমানসহ ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো উড্ডয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করবে না স্পেন। ফলে স্পেনের রোটা ও মোরন ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ হারাচ্ছে মার্কিন বাহিনী।
তবে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইউরোপে মোতায়েন করা প্রায় ৮০ হাজার মার্কিন সেনার নিয়মিত রসদ সরবরাহ বা লজিস্টিক কাজের জন্য এই ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের সুযোগ বহাল থাকবে। কেবল ইরান যুদ্ধের সরাসরি সামরিক অভিযানে এই সুবিধা কার্যকর হবে না।