শিরোনাম
◈ ‘গণঅভ্যুত্থান নিউটনের আপেল নয়, ১৭ বছরের আন্দোলনের ফসল’ ◈ সাড়ে ছয় বছরে ১৬ হাজার মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা, নিহত ১৫ হাজার ৭১২ ◈ ‘তারেক রহমানকেও জেআইসি সেলে বন্দি রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল’ (ভিডিও) ◈ তনু হত্যা মামলায় সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর ফের গ্রেফতার ◈ জুলাই জাদুঘর থেকে সীমান্ত হত্যা ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের সেগমেন্ট সরানোর অভিযোগ নাহিদের ◈ বিদেশমুখী হতে হবে না, দেশেই উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ এমপিওভুক্ত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা অবসরভাতার টাকা পাবেন যেভাবে ◈ পলাতক আ.লীগ নেতারা ভারতে যেভাবে দিন কাটাচ্ছেন! ◈ রাশিয়ার তেল কেনায় ভারতের উপর ১০০% শুল্ক! ট্রাম্প আইন আনছেন, মার্কিন সেনেটে বিল পাস  ◈ রদ্রিকে পেতে রিয়াল-বার্সার লড়াই, শেষ পর্যন্ত কে জিত‌বে?

প্রকাশিত : ২৫ মার্চ, ২০২৬, ০৮:৫৫ রাত
আপডেট : ০২ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

তেলের দাম ১৫০ ডলারে গেলে বৈশ্বিক মন্দা আসতে পারে: আর্থিক জায়ান্ট ব্ল্যাকরকের প্রধান

যুক্তরাষ্ট্র তথা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকরক-এর প্রধান সতর্ক করেছেন, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম যদি ১৫০ ডলারে পৌঁছায়, তবে তা বৈশ্বিক মন্দার সূচনা ঘটাতে পারে। যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন। খবর বিবিসির। 

বিশ্বের এই বৃহত্তম সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ল্যারি ফিংক বলেন, যদি ইরান "হুমকি হিসেবে রয়ে যায়" এবং তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে বজায় থাকে, তাহলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে "গভীর প্রভাব" ফেলবে।

বিবিসিকে দেওয়া এই একান্ত সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলাপ করেছেন তিনি। এসময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই  খাতে বর্তমানে অতি-বিনিয়োগের ফলে কোনো 'বাবল' তৈরি হয়েছে—এমন ধারণা নাকচ করেন। তবে তিনি বলেন, নতুন প্রযুক্তির কারণে অনেক বেশি মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে, অথচ কারিগরি প্রশিক্ষণে আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কম।

ব্ল্যাকরক একটি আর্থিক মহাশক্তি, যার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে প্রায় ১৪ ট্রিলিয়ন ডলার (১০.৫ ট্রিলিয়ন পাউন্ড) মূল্যের সম্পদ। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের অনেক বড় কোম্পানির অন্যতম প্রধান বিনিয়োগকারী।

১৯৮৮ সালে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানের আটজন সহ-প্রতিষ্ঠাতার একজন ল্যারি ফিংক। প্রতিষ্ঠানটির ব্যাপক পরিসর ও প্রভাব তাকে বৈশ্বিক অর্থনীতির অবস্থা সম্পর্কে গভীর অন্তর্দৃষ্টি দেয়, আর সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এই সাক্ষাৎকারে নিজস্ব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত জ্বালানি ব্যয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করায় আর্থিক বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।

ফিংকের মতে, এই সংঘাতের চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে, তা এখনই নির্ধারণ করা কঠিন। তবে তিনি মনে করেন, এটি দুটি চরম সম্ভাবনার একটির দিকে যেতে পারে।

প্রথমত, যদি সংঘাতের সমাধান হয় এবং ইরান আবার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে, তাহলে তেলের দাম যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থার নিচে নামতে পারে।

অন্যদিকে, যদি তা না ঘটে, তাহলে "কয়েক বছর ধরে ১০০ ডলারের উপরে, এমনকি ১৫০ ডলারের কাছাকাছি" তেলের দাম থাকতে পারে—যা অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে এবং "সম্ভবত তীব্র ও গভীর মন্দা" ডেকে আনবে বলে তিনি মনে করছেন।

এদিকে জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাজ্যে কেউ কেউ যুক্তি দিচ্ছেন, দেশটির নিজস্ব তেল ও গ্যাস উৎপাদনের দিকে আরও মনোযোগ দেওয়া উচিত।

গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের জ্বালানি শিল্পখাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি সংগঠন— অফশোর এনার্জিস ইউকে সতর্ক করে বলেছে, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন না বাড়ালে বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার সময়ে দেশটি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।

এবিষয়ে ফিংক বলেন, দেশগুলোকে তাদের জ্বালানি মিশ্রণে বাস্তববাদী হতে হবে এবং সব ধরনের উৎস ব্যবহার করতে হবে। তবে সস্তা জ্বালানি সরবরাহই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জীবনমান উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।

তিনি বলেন, "জ্বালানির দাম বাড়া একটি অত্যন্ত নিপীড়নমূলক করের মতো কাজ করে। এটি ধনীদের তুলনায় দরিদ্রদের ওপর বেশি প্রভাব ফেলে।"

যুক্তরাজ্যের সৌর ও বায়ু শক্তির পাশাপাশি হাইড্রোকার্বন (জীবাশ্ম জ্বালানি) সম্পদ রয়েছে। তবে যদি তিন-চার বছর ধরে তেলের দাম ১৫০ ডলারে থাকে, তাহলে "অনেক দেশ খুব দ্রুত সৌর এবং সম্ভবত বায়ু শক্তির দিকে ঝুঁকবে" বলে ফিংক মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, কোনো দেশকে একক জ্বালানি উৎসের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

"আপনার কাছে যা (জীবাশ্ম জ্বালানির প্রাকৃতিক মজুত) আছে তা অবশ্যই ব্যবহার করুন, তবে একই সঙ্গে বিকল্প উৎসের দিকেও জোরালোভাবে এগোতে হবে," বলেন তিনি।

'২০০৭-০৮ সালের মতো কোনো মিল নেই'

কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে ২০০৭-০৮ সালের আর্থিক সংকটের আগের সময়ের সঙ্গে কিছু মিল রয়েছে।

জ্বালানির দাম বাড়ছে এবং আর্থিক ব্যবস্থায় কিছু দুর্বলতার ইঙ্গিতও দেখা যাচ্ছে। ব্ল্যাকরক নিজেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে, যারা উদ্বিগ্ন বিনিয়োগকারীদের কারণে কিছু প্রাইভেট ক্রেডিট ফান্ড থেকে অর্থ উত্তোলনে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।

তবে ফিংক দৃঢ়ভাবে বলেন, ২০০৭-০৮ সালের মতো আর্থিক বিপর্যয় পুনরাবৃত্তির কোনো সম্ভাবনা নেই। তার মতে, বর্তমানে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক বেশি শক্তিশালী।

তিনি বলেন, "আমি কোনো মিলই দেখি না। একেবারেই না।"

তিনি আরও বলেন, কিছু ফান্ডে যে সমস্যাগুলো দেখা যাচ্ছে, তা পুরো বাজারের খুবই ছোট একটি অংশ। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ এখনো শক্তিশালী রয়েছে।

ফিংক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিপুল বিনিয়োগকে ঘিরে 'অতিরঞ্জন' বা বাবলের আশঙ্কাও প্রত্যাখ্যান করেন।

তিনি বলেন, "আমি মনে করি না এখানে কোনো বাবল রয়েছে। এক-দুটি ব্যর্থতা হতে পারে—সেটা স্বাভাবিক।"

গত বছর ব্ল্যাকরক একটি কনসোর্টিয়ামের অংশ হিসেবে বিশ্বের অন্যতম বড় ডেটা সেন্টার প্রোভাইডার এলাইন্ড ডেটা সেন্টারকে ৪০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে অধিগ্রহণ করে।

ফিংক বলেন, প্রযুক্তিগত আধিপত্যের জন্য একটি প্রতিযোগিতা চলছে।

"আমরা যদি বেশি বিনিয়োগ না করি, তাহলে চীন এগিয়ে যাবে। তাই এআই সক্ষমতা জোরদার করা আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক," বলেন তিনি। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে এআই সম্প্রসারণের প্রধান বাধা হলো জ্বালানির উচ্চ ব্যয়।

চীন যেখানে সৌর ও পারমাণবিক শক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে, সেখানে ইউরোপে "কথা বেশি, কাজ কম" দেখা যাচ্ছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে, "আমরা জ্বালানিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও সৌর শক্তির দিকে আরও মনোযোগ দিতে হবে… কারণ এআই উন্নয়নের জন্য সস্তা বিদ্যুৎ প্রয়োজন।"

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়