পাকিস্তান, মিসর, তুরস্কের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিলছে। সরাসরি আলোচনা না হলেও পরোক্ষ কূটনৈতিক তৎপরতায় দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান প্রদান চলছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তিন দেশ সক্রিয়ভাবে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনে কাজ করছে। তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পৃথকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোয় সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে।
তবে এই দাবিকে নাকচ করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সরাসরি যোগাযোগ হয়নি। তাদের মতে, কিছু আঞ্চলিক দেশ উত্তেজনা কমাতে চেষ্টা চালাচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত কারণে অবস্থান বদলাচ্ছে।
এর আগে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা হিসেবে ইরানও জ্বালানি স্থাপনায় হামলার হুমকি দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। তেলের দাম ও শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা গেছে।
রবিবার মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, পাকিস্তান, তুরস্ক, কাতারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে সংঘাতের বিস্তার ঠেকানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি সংলাপ না হলেও এ ধরনের পরোক্ষ কূটনৈতিক উদ্যোগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সূত্রঃ নিউজ ১৮