শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ০৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:১২ দুপুর
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

প্রতিবেশী দেশগুলায় হঠাৎ কেন হামলা বন্ধের ঘোষণা দিল ইরান?

সম্প্রতি কাতারে একটি বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার ঘটনার পর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের একটি রেকর্ডকৃত ভিডিও বার্তা নতুন করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ওই বার্তায় প্রেসিডেন্ট আশ্বস্ত করেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর মাটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা না চালানো হলে ইরানও তাদের লক্ষ্যবস্তু করবে না। তবে বাস্তব পরিস্থিতি এবং বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের কৌশলগত ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়ে প্রেসিডেন্টের হাতে আদতে কোনো কার্যকর ক্ষমতা থাকে না।

ইরানি সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ওই ভিডিওতে পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ইঙ্গিত দিলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। যখন তিনি এই শান্তির বার্তা দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই কাতার তাদের আকাশসীমায় (হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে) আসা অন্তত ১০টি ড্রোন ও দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা প্রতিহত করার দাবি করে।

advertisement

ইরানি রাজনীতি বিশ্লেষক রসুল সরদারের মতে, ইরানে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা মূলত দৈনন্দিন রাষ্ট্রীয় কাজ এবং ‘অকৌশলগত’ বিষয়গুলো পরিচালনা করেন। সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট পদমর্যাদায় দ্বিতীয় ব্যক্তি হলেও জাতীয় নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রনীতির মতো ‘কৌশলগত’ বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই বললে চলে।

ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর। বর্তমানে দেশটির সংবিধানে উল্লেখিত ‘অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব কাউন্সিল’ রাষ্ট্র পরিচালনা করছে, যার সদস্য হিসেবে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান থাকলেও ক্ষমতার প্রকৃত চাবিকাঠি এখন সামরিক বাহিনীর হাতে।

advertisement

বিশেষ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এখন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের অপারেশন পরিচালনা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এখন দেশ যখন একটি ‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’-এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন আইআরজিসির কমান্ডই চূড়ান্ত। তারা প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা করবে কি করবে না, তা সম্পূর্ণভাবে তাদের সদর দপ্তর থেকে নির্ধারিত হচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বিশেষভাবে আইআরজিসির নতুন প্রধান আহমদ ওয়াহিদির কথা উল্লেখ করেছেন। ১ মার্চ তাঁকে এই বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওয়াহিদি আইআরজিসির ইতিহাসে অন্যতম ‘কট্টরপন্থী বা র‍্যাডিক্যাল কমান্ডার’ হিসেবে পরিচিত এবং তিনি কুদস ফোর্সেরও প্রতিষ্ঠাতা কমান্ডার ছিলেন।

advertisement

ওয়াহিদির মতো একজন কট্টরপন্থী এবং ছায়াযুদ্ধের কারিগর যখন সরাসরি কমান্ডে থাকেন, তখন পেজেশকিয়ানের মতো নরমপন্থী রাজনীতিবিদদের পক্ষে দেশের নিরাপত্তা বা সামরিক নীতিতে সামান্যতম প্রভাব বিস্তার করাও কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ার কথা।

ইরানের এই ‘ফায়ার অ্যাট উইল’ বা স্বাধীনভাবে হামলা চালানোর ক্ষমতার কারণে কাতার ছাড়াও বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। যদিও পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন এবং বলেছেন যে সশস্ত্র বাহিনীকে আর হামলা না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে হামলাগুলো প্রমাণ করছে, সেই নির্দেশনার তোয়াক্কা সেনাপ্রধানেরা সম্ভবত করছেন না।

ইরানের প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক বক্তব্য একটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক স্টান্ট বা শান্তিকামী ভাবমূর্তি ধরে রাখার চেষ্টা হিসেবেও দেখা যেতে পারে। তবে তেহরানের পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপগুলো নির্ধারিত হবে মূলত আইআরজিসির সদর দপ্তর থেকে, প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে নয়। আঞ্চলিক উত্তেজনার এই চূড়ান্ত মুহূর্তে পেজেশকিয়ানের আশ্বাসের চেয়ে আইআরজিসির ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথই আসল বাস্তবতা নির্ধারণ করবে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

  • সর্বশেষ