শিরোনাম
◈ বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা পাকিস্তানের ◈ রেকর্ড মুনাফার পরও পুরো ব্যাংক খাতে লোকসান দেড় লাখ কোটি টাকা: বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন ◈ বিত‌র্কিত ট‌্যাক‌লে আমার পা ভেঙে গেলেও মেসি কার্ড পেতো না’ : আলজেরিয়া ডিফেন্ডার ◈ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ইস্যুতে কূটনৈতিক সমাধানের তাগিদ জাতিসংঘের ◈ ভারতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভয়ঙ্কর ফাঁদে মুসলিম নারী, প্রচারণার জন্য যৌনতাপূর্ণ ছবি তৈরি এবং অপব্যবহার করে ◈ ঘণ্টায় ১০ লাখ ডলার খরচ করলেও ১১৪ বছরে শেষ হবে না মাস্কের সম্পদ ◈ দক্ষিণ এশিয়ার চতুর্থ শান্তিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ, পেছনে ভারত-পাকিস্তান ◈ গণভবনের সামনে যুবলীগের ঝটিকা মিছিল, দায় নিতে চায় না দুই থানা ◈ নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়ার আহ্বান ◈ কাঁঠাল দিয়ে হচ্ছে সিঙ্গারা-সমুচা-কাবাব, পুষ্টিগুণও অনেক বেশি, রপ্তানির আশা মন্ত্রীর

প্রকাশিত : ০২ মার্চ, ২০২৬, ০৪:২০ দুপুর
আপডেট : ১৮ জুন, ২০২৬, ১০:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ড্রোন থেকে হাইপারসনিক: ইরান যেসব অস্ত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে মোকাবিলা করছে

ইরানের অজ্ঞাত স্থান থেকে চতুর্থ প্রজন্মের ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য এই ক্ষেপণাস্ত্রের নাম ‘খাইবার’, যার পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটার। ছবিটি ২০২৩ সালের ২৫ মে পাওয়া। ছবি: রয়টার্স
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পরপরই ইরান দ্রুত পাল্টাজবাব দিতে শুরু করে। তেহরান জানিয়েছে, ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে তারা লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের হাতে রয়েছে একটি বিশাল ক্ষেপণাস্ত্রের ভান্ডার। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ। এই সংঘাত কি পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ইরান ও এর আঞ্চলিক সহযোগী বাহিনীগুলোর অংশগ্রহণে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে রূপ নেবে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার: প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় ও বৈচিত্র্যপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার রয়েছে ইরানের। কিছুটা পুরোনো প্রযুক্তির হলেও দেশটির হাতে অনেক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল রয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র বহু দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হাতে পারে। 

স্বল্পপাল্লার যত ক্ষেপণাস্ত্র: কাছাকাছি থাকা লক্ষ্যবস্তুতে দ্রুত আঘাত হানার জন্য ইরানের হাতে রয়েছে ১৫০ থেকে ৮০০ কিলোমিটার পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। ফতেহ ভেরিয়েন্টের ‘জুলফিকার’, ‘কিয়াম-১’ এবং ‘শাহাব-১/২’ এর মধ্যে অন্যতম। ২০২০ সালে জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যার পর ইরাকের আইন আল-আসাদ ঘাঁটিতে হামলায় ইরান এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছিল।

মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র:  ইরানের দেড় থেকে দুই হাজার কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলোই মূলত যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ‘শাহাব-৩’, ‘ইমাদ’, ‘গদর-১’, ‘খোররামশহর’ এবং ‘সেজ্জিল’-এর মতো ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েল ছাড়াও কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানতে সক্ষম। বিশেষ করে সলিড ফুয়েলের ‘সেজ্জিল’ দ্রুত মোতায়েন করার উপযোগী হওয়ায় এটি ইরানের পাল্টা হামলার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।

ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোন: ইরানের হাতে রয়েছে ‘সুমার’, ‘ইয়া-আলি’, ‘কুদস’, ‘পাভেহ’ এবং ‘রাদ’-এর মতো ক্রুজ মিসাইল। আড়াই হাজার কিলোমিটার পাল্লার ‘সুমার’ ক্ষেপণাস্ত্র মাটির খুব কাছ দিয়ে উড়ে গিয়ে রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইরানের সস্তা কিন্তু কার্যকর ড্রোন। ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন পাঠিয়ে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রেখে মিসাইল হামলা চালানো ইরানের একটি পরিচিত কৌশল।

ভূগর্ভস্থ ‘মিসাইল সিটি’: ইরান বছরের পর বছর ধরে মাটির নিচে সুরঙ্গ তৈরি করে বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার গড়ে তুলেছে। মাটির নিচের এই বাঙ্কারগুলো ‘মিসাইল সিটি’ নামে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মুখেও মাটির নিচের এই সুরক্ষিত ঘাঁটি থেকে দীর্ঘ সময় ধরে পাল্টা হামলা চালিয়ে যেতে পারবে ইরান।

হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র : ইরানের হাতে রয়েছে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, নেভাল মাইন ও ড্রোন, যা দিয়ে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালানো সম্ভব। ইরান দাবি করেছে, তাদের হাতে ‘ফাত্তাহ’ সিরিজের হাইপারসনিক মিসাইল রয়েছে, যা অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন। ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সংশ্লিষ্ট তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়