ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (জিএসএইচডব্লিউএ) সদস্যরা সোমবার জানান, বাংলাদেশে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের শহরের হোটেল মালিকেরা গতকাল সোমবার ১৩ মাস ধরে চলা বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছেন। প্রতিবেশী দেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের নেতাদের মধ্যে ভারতবিরোধী বক্তব্য কমে এসেছে—এই কারণ দেখিয়েই তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক উজ্জ্বল ঘোষ বলেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে তারা বাংলাদেশি নাগরিকদের হোটেলে থাকার সুবিধা দেওয়া বন্ধ করে দেন। এর পেছনে কারণ ছিল—বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সেখানে ভারতবিরোধী মনোভাব।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং নির্বাচিত সরকার গঠনের পর আমরা আজ (সোমবার) থেকে শিলিগুড়ি ও আশপাশের এলাকায় বাংলাদেশি নাগরিকদের হোটেলে থাকার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
উজ্জ্বল ঘোষ আরও জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নির্বাচন হওয়ার পর সংগঠনটি সদস্যদের মধ্যে অনলাইনে ভোট নেয়। সেখানে প্রশ্ন ছিল, বাংলাদেশি অতিথিদের আবার থাকার অনুমতি দেওয়া হবে কি না। ৭৫ শতাংশের বেশি সদস্য নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পক্ষে ভোট দেন। এরপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ঘোষের ভাষ্য, এই সংগঠনের অধীনে ১৮০ জনের বেশি হোটেল মালিক রয়েছেন। এ ছাড়া শহরজুড়ে আরও প্রায় ৫০টি হোটেল চালু আছে। আগে প্রতি মাসে প্রায় ৪০ হাজার বাংলাদেশি পর্যটক শিলিগুড়িতে যেতেন। তারা চিকিৎসা, শিক্ষা ও পর্যটনের জন্য এই শহরে যেতেন। কিন্তু হাসিনা সরকারের পতন এবং পরবর্তীতে ভারত সরকারের ভিসা সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে সেই সংখ্যা কমে মাসে ১ হাজার ২০০ জনে নেমে আসে।
পরে সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর শহরের অন্যান্য হোটেল মালিকেরাও স্বেচ্ছায় একই সিদ্ধান্ত নেন। তারা বাংলাদেশি নাগরিকদের বুকিং নেওয়া বন্ধ করে দেন। উজ্জ্বল ঘোষ বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞার কারণে হোটেল মালিকদের প্রতি মাসে প্রায় ১০ লাখ রুপি ক্ষতি হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা)। আমরা আশা করি, বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা উন্নত হলে ব্যবসা আবার ঘুরে দাঁড়াবে এবং সদস্যরা তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।’ অনুবাদ: আজকের পত্রিকা