স্পোর্টস ডেস্ক : টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অভিষেক শর্মাকে নিয়ে করা মন্তব্যে সমালোচনার মুখে পড়েছেন পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ আমির। এবার সেই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন তিনি। ভারতের তরুণ ওপেনারকে ‘স্লগার’ বললেও সেটি অবমাননার উদ্দেশ্যে নয়—বরং বোলারের দৃষ্টিকোণ থেকে করা বিশ্লেষণ ছিল বলে দাবি আমিরের।
রোববার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানে হেরে যায় ভারত। সেই ম্যাচে ১২ বলে ১৫ রান করেন অভিষেক। ম্যাচের পর এক পাকিস্তানি টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আমির বলেন, আমি তাকে নিয়ে বলছিলাম একজন বোলারের দৃষ্টিকোণ থেকে। মানুষ খারাপ পেয়েছে কারণ আমি স্লগার শব্দটি ব্যবহার করেছি।
আমিরের ভাষ্য, অভিষেকের টেকনিক এমন, মানসম্মত বোলিং আক্রমণ তাঁকে ফাঁদে ফেলতে পারে। উদাহরণ টেনে বলেন, ‘সে ১৪ রান করেছে এক পাশ দিয়েই। যেগুলো মেরেছে সেগুলো খারাপ বল ছিল। কিন্তু যখন কাগিসো রাবাদা ভালো জায়গায় বল করা শুরু করল, তখন সে আর বুঝে উঠতে পারেনি।
তবে সমালোচনার মাঝেও অভিষেকের প্রতিভা নিয়ে সন্দেহ নেই আমিরের, ‘সে খুব ভালো খেলোয়াড়। তিনটি শূন্য করার পরও তার মানসিকতা একই আছে। সে পিছিয়ে যায়নি, ইতিবাচকই থেকেছে। একই সঙ্গে তরুণ ব্যাটারকে বার্তাও দিয়েছেন পাকিস্তানি পেসার, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তোমার টেকনিক ধরা পড়ে যায়। ধৈর্য দেখিয়ে বলের মান অনুযায়ী খেললে আরও ভালো করবে।
গ্রুপ পর্বে পেটের সংক্রমণে ভোগা অভিষেক সুপার এইট ম্যাচে রান পেলেও ইনিংসজুড়ে ছিলেন অস্বস্তিতে। ইনিংসের শুরুতে ইশান কিষান ও তিলক ভার্মা দ্রুত আউট হয়ে গেলে চাপ বাড়ে। তবু স্ট্রাইক ঘোরানোর বদলে বড় শট খেলতেই থাকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত পঞ্চম ওভারে স্লোয়ারে ধোকা খেয়ে আউট হন মার্কো ইয়ানসেনের বলে।
দুঃসময়েও অভিষেকের পাশে আছে টিম ম্যানেজমেন্ট। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব মনে করিয়ে দিয়েছেন, ২০২৫ সালে ২১ ম্যাচে ৮৫৯ রান করে দলকে অনেক ম্যাচ জিতিয়েছিলেন এই ওপেনার। সহকারী কোচ রায়ান টেন ডেসকাটে বলেন, বিশ্বকাপের আগে খাদ্যে বিষক্রিয়ার প্রভাব তার প্রস্তুতিতে পড়েছে। কোচিং স্টাফের কাজ এখন তার আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা।