শিরোনাম
◈ বাংলাদেশকে স্বনির্ভর ও শিল্পোন্নত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা: মির্জা ফখরুল ◈ ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশল: অর্থনীতির জন্য কতটা ইতিবাচক? ◈ ক্রিকেটার নাঈমের শারী‌রিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে চট্টগ্রামে গে‌লেন বিসিবির ফিজিওরা ◈ ব্রাজিলের এক‌টি গ্রামের অধিকাংশ মানুষ মরক্কোর বিপক্ষে জয় চান না ◈ ইংল্যান্ড দ‌লের বল ও বুটসহ অ‌নেক অনুশীলন সরঞ্জাম চুরি ◈ সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে একটি করে গাছ লাগান: প্রধানমন্ত্রী ◈ বিপ্লবের পর বাস্তবতার মুখে বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা ◈ জুলাইয়ে সমাহিত হবেন খামেনি, ঘোষণা ইরানের ◈ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধে ইরানের সঙ্গে গোপন সমঝোতা আমিরাতের? ১০-২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের তথ্য প্রকাশ করল রয়টার্স ◈ ‘দেশের মালিক ২০ কোটি মানুষ, কোনো দল বা পরিবার নয়, জনগণের সমর্থন নিয়েই দেশের ভাগ্য বদলাবে বিএনপি’

প্রকাশিত : ১৩ জুন, ২০২৬, ০৬:২৪ বিকাল
আপডেট : ১৩ জুন, ২০২৬, ১০:২৫ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিপ্লবের পর বাস্তবতার মুখে বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা

এক ধরনের বৈপরীত্যে ভরপুর দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা। সেখানে একদিকে রয়েছে ব্যাপক জনআকাঙ্ক্ষা, অন্যদিকে কাঠামোগত দুর্বলতা।

বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘জেনজি’ (জেনারেশন জেড) বিপ্লব দীর্ঘদিনের শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করতে সফল হলেও, পরবর্তীতে ক্ষমতা নেওয়া দলগুলো বুঝতে পারছে যে জনসমর্থনই অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার বিরুদ্ধে সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট নয়।

লন্ডনভিত্তিক ব্রিটিশ থিংক ট্যাংক চ্যাথাম হাউস (রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স)-এর এক বিশ্লেষণে দক্ষিণ এশিয়ায় আন্দোলননির্ভর শাসনব্যবস্থার ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়েছে।

অস্থিরতার শুরু

এই পরিবর্তনের ঢেউ শুরু হয় ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার ‘আরাগালয়া’ আন্দোলনের মাধ্যমে। এরপর আসে ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ‘মনসুন রেভল্যুশন’ এবং ২০২৫ সালে নেপালের গণঅভ্যুত্থান।

যদিও এসব আন্দোলনের পেছনের কারণ ছিল ভিন্ন- কলম্বোতে সার্বভৌম ঋণ সংকট, ঢাকায় সরকারি চাকরির কোটা ব্যবস্থা এবং কাঠমান্ডুতে ডিজিটাল সেন্সরশিপ। তবে সবার মধ্যে একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল। তা হলো, ডিজিটাল যুগের তরুণদের স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান।

তবে এসব বিপ্লবের পর নির্বাচনী ফলাফল দেখিয়েছে, পরিবর্তনের ধরন নিয়ে প্রতিটি দেশের জনগণের চাহিদা এক ছিল না। নেপাল সাবেক র‍্যাপার বালেন্দ্র শাহকে নির্বাচিত করে অপেক্ষাকৃত র‌্যাডিক্যাল পরিবর্তনের পথ বেছে নেয়। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের নেতৃত্বে মার্কসবাদী-লেনিনবাদী ধাঁচের রাজনৈতিক কাঠামোর দিকে ঝুঁকে পড়ে।

বিপরীতে বাংলাদেশ প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতার একটি রূপকে বেছে নেয় এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপিকে আবার ক্ষমতায় আনে।

প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ব্যবধান

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিপ্লব-পরবর্তী সরকারের ‘মধুচন্দ্রিমা পর্ব’ খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। কারণ তারা আন্দোলনের উদ্দীপনাকে প্রশাসনিক দক্ষতায় রূপ দিতে পারছে না।

নেপালে প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতিবিরোধী ভাবমূর্তি শুরুতেই মন্ত্রিসভার বিভিন্ন কেলেঙ্কারিতে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। একই সঙ্গে তরুণ ও শহরকেন্দ্রিক ভোটারদের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ আঞ্চলিক ও প্রজন্মগত বিভাজন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

শ্রীলঙ্কার সরকারও একই ধরনের আস্থাসংকটে পড়েছে। কঠোর মিতব্যয়ী অর্থনৈতিক নীতি এবং ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে দুর্বল ব্যবস্থাপনার অভিযোগে স্থানীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন জোটের সমর্থন ইতিমধ্যে কমতে শুরু করেছে।

এদিকে বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে সহিংস অপরাধ বৃদ্ধির কারণে। পাশাপাশি ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’-এ প্রতিশ্রুত পূর্ণাঙ্গ সংস্কার বাস্তবায়নে বিএনপির আন্তরিকতা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।

বাইরে থেকে আসা আঘাত ও ভারতের প্রভাব

শাসনসংকট আরও জটিল করে তুলেছে ইরান যুদ্ধ। এর ফলে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কাকে কঠোর জ্বালানি রেশনিংয়ের পথে যেতে হয়েছে।

এই অর্থনৈতিক চাপের কারণে জনমুখী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে।

একই সময়ে নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্কও প্রয়োজন ও উত্তেজনার এক মিশ্র বাস্তবতা তৈরি করেছে। ভারত মানবিক সহায়তা ও জ্বালানি সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলেও, আঞ্চলিক ক্ষেত্রে তার দৃঢ় অবস্থান স্থানীয় জনগণের মধ্যে অবিশ্বাসও সৃষ্টি করছে।

পশ্চিমবঙ্গে সম্প্রতি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নির্বাচনী সাফল্য ঢাকার জন্য ‘মিশ্র আশীর্বাদ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে এটি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির সমাধানে সহায়ক হতে পারে, অন্যদিকে পরিচয়ভিত্তিক অভিবাসনবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে সীমান্ত উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

অনিশ্চয়তার সংক্রমণ

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, ঢাকা ও কলম্বোয় দেখা দেওয়া তরুণনির্ভর রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও দেখা যাচ্ছে।

‘ককরোচ জনতা পার্টি’র উত্থান এবং তামিলনাড়ুতে তরুণভিত্তিক দল টিভিকের নির্বাচনী সাফল্য ইঙ্গিত দেয় যে প্রতিবেশী দেশগুলোর মতো জনমিতিক চাপ থেকে ভারতও মুক্ত নয়।

ভারতের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের রাজনীতিতে এসব পরিবর্তন শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে, বিশেষ করে মাছ ধরার অধিকার এবং তামিল সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার মতো ইস্যুতে।

সবশেষে বিশ্লেষণে সতর্ক করে বলা হয়েছে, নতুন সরকারগুলো যদি অনভিজ্ঞতা বা বহিরাগত সংকটের কারণে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে যে বিপ্লবী শক্তি তাদের ক্ষমতায় এনেছে, সেই শক্তিই একসময় তাদের বিরুদ্ধে ফিরে যেতে পারে।

সূত্র: বিডি টুডে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়