শিরোনাম
◈ পশ্চিমবঙ্গ সফরে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ টেনে যা বললেন মোদী ◈ ইসির যাচাইয়ে বাতিল ২২ হাজার প্রবাসীর এনআইডি আবেদন ◈ প্রধানমন্ত্রীর প্রথম জোড়া বিদেশ সফর, ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত ◈ বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা পুনরুজ্জীবনে বিনিয়োগকারীদের পাশে থাকবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ◈ ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করল ইরান, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ ◈ ২৪ জেলার চিত্র বদলে দেবে পদ্মা ব্যারাজ ◈ স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম যেসব ঘটনায় আলোচনায় ◈ মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পের মতো খেলোয়াড় তৈরি হবে বাংলাদেশেই : প্রধানমন্ত্রী ◈ কিশোর–কিশোরীদের নিয়মিত খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী ◈ ‘যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাজি ধরলে পস্তাতে হবে না’ : মার্কিন রাষ্ট্রদূত

প্রকাশিত : ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৬:১৩ বিকাল
আপডেট : ১৭ জুন, ২০২৬, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আফগানিস্তানে বর্ণ ও দাসপ্রথার আইনি স্বীকৃতি: আলেমদের অপরাধে দায়মুক্তি

আফগানিস্তানে আদালতের জন্য নতুন ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোড চালু করেছে তালেবান সরকার। এই আইনে বর্ণভিত্তিক বিচারব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে। পাশাপাশি দাসপ্রথাকেও আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রকাশ্য রাস্তাঘাট ও বাজারে ক্রীতদাস নিয়ে চলাচলের অনুমতি মিলবে। খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির।

প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, নতুন বর্ণভিত্তিক ব্যবস্থার আওতায় একই অপরাধের জন্য ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক শ্রেণির মানুষের ক্ষেত্রে ভিন্ন শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন আইনের মাধ্যমে ক্রীতদাসকে সঙ্গে নিয়ে জনসমক্ষে চলাচলকেও বৈধতা দেওয়া হয়েছে।

নতুন আইনে আফগান সমাজকে ৪টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে ধর্মীয় আলেম ও উলামাদের। এই শ্রেণির কেউ অপরাধ করলে তাকে কেবল উপদেশ দিয়েই ছেড়ে দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণিতে রয়েছে অভিজাত শ্রেণি, যাদের ক্ষেত্রে শাস্তি হিসেবে সতর্কবার্তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তৃতীয় শ্রেণিতে মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের জন্য কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর সর্বনিম্ন শ্রেণিতে রাখা হয়েছে নিম্নবিত্ত জনগোষ্ঠীকে, যাদের ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতনের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।

আফগান মানবাধিকার সংস্থা রাওয়াদারি জানিয়েছে, তারা ১০টি অধ্যায় ও ১১৯টি ধারাসংবলিত এই আইনের একটি কপি সংগ্রহ করেছে। গত ৪ জানুয়ারি জারি হওয়া আইনটি ইতোমধ্যে দেশটির বিভিন্ন আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আইনে বলা হয়েছে, ধর্মীয় আলেম অপরাধ করলে কেবল উপদেশ দেওয়া হবে। অভিজাত শ্রেণির ক্ষেত্রেও উপদেশই শাস্তি। মধ্যবিত্তদের জন্য কারাদণ্ড এবং নিম্নবিত্তদের জন্য কারাদণ্ডের পাশাপাশি শারীরিক শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এতে ধর্মীয় নেতারা কার্যত দায়মুক্তি পাচ্ছেন, আর দরিদ্র জনগোষ্ঠী সবচেয়ে কঠোর শাস্তির মুখে পড়ছে।

নতুন আইনে ‘স্বাধীন ব্যক্তি’ ও ‘দাস’ শব্দের ব্যবহার আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। পাশাপাশি আইনজীবী পাওয়ার অধিকারসহ ন্যায়বিচারের মৌলিক সুরক্ষা বাদ দেওয়ায় নির্যাতন ও জোরপূর্বক স্বীকারোক্তির ঝুঁকি বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো আইনটির বাস্তবায়ন স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছে।

তালেবান সরকারের এমন সিদ্ধান্তে উদ্বেগ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। সরব হয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই আইন কার্যত আইনের চোখে সমতার নীতিকে বাতিল করে বৈষম্যকে রাষ্ট্রীয় বৈধতা দিয়েছে।

সূত্র: ইত্তেফাক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়