বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোর দমননীতি প্রয়োগের কারণে ইরানের ওপর যে কোনো সময় হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এমন এমন আশঙ্কার মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান টেলিফোনে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। বৃহস্পতিবার(১৫ জানুয়ারি) দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং বর্তমান আঞ্চলিক অস্থিরতা নিরসনে এই আলাপ হয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় একমত হয়েছে। ফোনালাপে আরাঘচি দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের বিষয়ে তেহরানের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
আরাঘচি দাবি করেছেন, ইরানে চলমান বিক্ষোভ মূলত শান্তিপূর্ণ অর্থনৈতিক দাবি দিয়ে শুরু হয়েছিল। পরে ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো এতে যুক্ত হয়ে সহিংসতা ছড়িয়ে দেয়। তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের উসকানিমূলক মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে একে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। যেকোনো বহিরাগত হুমকির বিরুদ্ধে সীমান্ত রক্ষায় ইরান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে তিনি সৌদি মন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রতিবেশী দেশগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।
এদিকে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কার মধ্যে সৌদি আরব এক সাহসী অবস্থান নিয়েছে। রিয়াদ স্পষ্ট জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় তারা তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না। এমনকি সৌদি ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো সামরিক অভিযানকেও তারা সমর্থন করবে না। সৌদি সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি-কে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তেহরানের কাছে ইতিমধ্যে সৌদি আরবের এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্তকে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধ এড়ানোর একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের রক্ষায় সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকি দিলেও রিয়াদ এতে অংশ নিতে নারাজ।