কাশ্মীরের রাজ্যপালের বাসভবনের বাইরে ভর্তি বাতিলের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন ডানপন্থী হিন্দু গোষ্ঠীর মহিলা সমর্থকরা ছবি: এপি
ভারতশাসিত কাশ্মীরে একটি নবস্থাপিত মেডিকেল কলেজ বন্ধ করে দিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। কলেজটিতে বিপুল সংখ্যক মুসলিম শিক্ষার্থী ভর্তির প্রতিবাদে ডানপন্থি হিন্দু গোষ্ঠীগুলোর টানা বিক্ষোভের মুখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার(১৫ জানুয়ারি) কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চিকিৎসা শিক্ষা ও চিকিৎসা কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন (এনএমসি) গত ৬ জানুয়ারি জম্মু বিভাগের রিয়াসি জেলায় অবস্থিত শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী মেডিকেল ইনস্টিটিউটের (এসএমভিডিএমআই) স্বীকৃতি বাতিল করেছে। এই পাহাড়ি জেলা জম্মুর সমতল অঞ্চলকে কাশ্মীর উপত্যকা থেকে পৃথক করেছে।
ঘটনার শুরু হয় গত বছরের নভেম্বরে যখন কলেজটির প্রথম এমবিবিএস ব্যাচে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪২ জনই ছিলেন মুসলিম এবং তাদের অধিকাংশই কাশ্মীরের বাসিন্দা। বাকিদের মধ্যে ৭ জন হিন্দু এবং একজন শিখ শিক্ষার্থী ছিলেন। যদিও ভারতের কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা নিটের মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতেই এই শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়েছিলেন।
মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলো তীব্র আন্দোলনে নামে। তাদের দাবি ছিল এই প্রতিষ্ঠানটি হিন্দু ভক্তদের দানে পরিচালিত তাই এখানে মুসলিমরা পড়তে পারবে না। কয়েক সপ্তাহ ধরে কলেজের গেটে স্লোগান ও বিক্ষোভ চলে। এমনকি বিজেপির কয়েকজন বিধায়ক সেখানে কেবল হিন্দু শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য সরকারের কাছে লিখিত দাবি জানান।
চাপের মুখে এনএমসি জানায়, সরকার নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ না করায় কলেজটির অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে। এনএমসির দাবি কলেজটিতে শিক্ষক সংকট এবং অবকাঠামোগত কিছু সমস্যা রয়েছে। তবে সমালোচকরা বলছেন এটি কট্টরপন্থি গোষ্ঠীগুলোর কাছে সরকারের এক চরম আত্মসমর্পণ। মেধার ভিত্তিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এখন গভীর অন্ধকারের মুখে পড়েছে।