শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ১০ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৬:১৭ সকাল
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মিত্র হারিয়ে কোণঠাসা খামেনি: ভেনেজুয়েলা থেকে তেহরান—ইরানের শাসন কি শেষ অধ্যায়ে?

তেহরানের আকাশে এখন কেবল বারুদের গন্ধ নয় বরং অজানা আশঙ্কার মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত কয়েক বছরে একের পর এক বন্ধু হারিয়ে এখন প্রায় নিঃসঙ্গ। এক বছর আগে সিরিয়ার বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া থেকে রক্ষা করতে না পারার ব্যর্থতা দিয়েই এই পতনের শুরু বলে দাবি করা হয়েছে দ্য আটলান্টিকের এক নিবন্ধে।

নিবন্ধে বলা হয়েছে, এরপর ইসরায়েলি হামলায় একে একে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে ইরানের গর্ব ‘অক্ষশক্তি’ বা রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট। লেবাননের হিজবুল্লাহকে কার্যত নিরস্ত্রীকরণের পথে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু খামেনির জন্য সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় আঘাতটি এসেছে সুদূর ভেনেজুয়েলা থেকে। দীর্ঘদিনের মিত্র নিকোলাস মাদুরো যখন সিক্সথ অ্যাভিনিউয়ের কোনো আদালতকক্ষে বন্দি হিসেবে হাজির হন, তখন তেহরানের ক্ষমতার অলিন্দে কম্পন সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। 

advertisement

ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও এখন আগ্নেয়গিরির মুখে দাঁড়িয়ে। একদিকে চরম অর্থনৈতিক সংকট, অন্যদিকে রাস্তায় সাধারণ মানুষের তীব্র বিক্ষোভ; সবমিলিয়ে খামেনির শাসনের ভিত নড়বড়ে বলে দাবি করছে পশ্চিমারা। যদিও তেহরান বলছে, শত্রুর চাপে তারা মাথা নত করবে না। সবধরনের হুমকি মোকাবেলায় ইরান পুরোদস্তুর প্রস্তুত।

গত বছর ইসরায়েল ও আমেরিকার সাথে ইরানের ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ইরান নিজেদের জয়ী দাবি করেছিলো, তবে পশ্চিমা অক্ষের দাবি সম্পূর্ণ তার বিপরীত।

advertisement

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভেনেজুয়েলার অপারেশনকে সফল দাবি করে গত বছরের ইরান হামলার সাথে তুলনা করে যে হুঙ্কার দিয়েছে, তাতে ইরানের কপালে চিন্তার ভাঁজ না পড়ে উপায় নেই বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্বরাজনীতির মোড়ল হিসেবে পরিচিত রাশিয়া ও চীন এই পুরো সংকটে কার্যত নীরব ভূমিকা পালন করছে। এই নির্লিপ্ততা ইরানকে এক রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ইরানের কট্টরপন্থীরা এখন মনে করছেন, টিকে থাকতে হলে কেবল সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তির ওপর নির্ভর করতে হবে। 

advertisement

অন্যদিকে, ইরানের পশ্চিমপন্থি কথিত উদারপন্থীরা আওয়াজ তুলছেন ভিন্ন এক দাবিতে। তারা বলছেন, সরকারের বৈধতা আসতে হবে জনগণের কাছ থেকে। তাদের দাবি, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসনের ঘটনা ইরানের সাধারণ মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খামেনিবিরোধী ইরানিদের হাস্যরসেও ফুটে উঠছে ক্ষোভ। অনেকেই বলছেন, জনগণের ভোটে ক্ষমতা না ছাড়লে শেষ পর্যন্ত বিদেশি শক্তির হাতেই এই শাসনের অবসান ঘটবে।

তবে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের এই আলোচনায় এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম নির্বাসিত প্রিন্স রেজা পাহলভি। তিনি নিজেকে ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছেন। রাজপথের বিক্ষোভে তার সমর্থনে স্লোগানও শোনা যাচ্ছে। যদিও পাহলভি সরাসরি সামরিক হামলার পক্ষপাতী নন, তবে তার সমর্থক এবং ঘনিষ্ঠজনরা মার্কিন ও ইসরায়েলি তৎপরতাকে সমর্থন দিয়ে আসছেন। 

কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, আমেরিকা কি আসলেই পাহলভিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়? ভেনেজুয়েলার দৃষ্টান্ত খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। সেখানে ক্ষমতা বিরোধী দলের কাছে নয় বরং মাদুরোর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টের কাছে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। এমনকি ভয়েস অব আমেরিকার ফার্সি বিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে ইরানের বর্তমান বিরোধী দলগুলোর মধ্যে কোনো ঐক্য নেই। ফলে বিকল্প কোনো শক্তির খোঁজ সম্ভবত ইরানের ভেতরেই চলছে।

ইরানের বর্তমান প্রশাসন দাবি করছে, এই বিক্ষোভের পরিপূর্ণ উস্কানি আসছে বিদেশ থেকে। তেহরান এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গভীর ষড়যন্ত্রের ছায়া দেখছে। বিপরীতে আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করা ট্রাম্প খামেনির জন্য বড় হুমকি বলেই মানছেন আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা।

  • সর্বশেষ