মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও তার চিরাচরিত আক্রমণাত্মক ঢঙে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কাটানো এক মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করেছেন। হাউজ রিপাবলিকান সদস্যদের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, ভারত ও আমেরিকার মধ্যকার সামরিক ও বাণিজ্যিক দরকষাকষির এক পর্যায়ে মোদি নিজেই অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তার সাক্ষাত চেয়েছিলেন। ট্রাম্পের ভাষায়, প্রধানমন্ত্রী মোদি আমার কাছে এসে প্রায় আকুতি জানিয়ে বলেছিলেন— স্যার, আমি কি আপনার সঙ্গে একটু দেখা করতে পারি? আমি বলেছিলাম, হ্যাঁ, অবশ্যই।
ট্রাম্প মূলত ভারতের দীর্ঘদিনের সামরিক আকাঙ্ক্ষার কথা বোঝাতে এই প্রসঙ্গটি টেনে আনেন। তিনি জানান, নয়াদিল্লি প্রায় পাঁচ বছর ধরে ৬৮টি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের জন্য অপেক্ষা করছে। সেই সামরিক রসদ নিশ্চিত করতেই মোদি তার সঙ্গে দেখা করার জন্য এমন বিশেষ অনুরোধ করেছিলেন বলে ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। তবে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ‘খুব ভালো’ দাবি করলেও বাণিজ্যিক স্বার্থে বন্ধু মোদিকে যে তিনি মোটেও ছাড় দেননি, তা-ও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে ট্রাম্প ভারতের ওপর আরোপিত কঠোর শুল্ক নিয়ে কথা বলেন। রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর বর্তমানে মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে রেখেছে। ট্রাম্পের দাবি, এই আকাশচুম্বী শুল্কের কারণে মোদি তার ওপর মোটেও খুশি নন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, মোদি জানতেন আমি খুশি নই, আর আমাকে খুশি রাখাটা তাঁর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
ট্রাম্পের এই কড়া অবস্থানের পর ভারত এখন রাশিয়া থেকে তেল কেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন না করলে এই শুল্কের বোঝা প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হতে পারে। ট্রাম্পের এমন খোলামেলা ও অপমানজনক বক্তব্যের পর ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে নতুন করে অস্বস্তি ও আলোচনার ঝড় উঠেছে।