ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা এবং গাজায় চলমান ভয়াবহ মানবিক সংকটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পোপ লিও চতুর্দশ।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভ্যাটিকান সিটি থেকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনিদের তাদের ‘নিজেদের ভূমিতে’ শান্তিতে ও নিরাপদে বসবাসের পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর অব্যাহত হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে পোপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
মার্কিন বংশোদ্ভূত এই পোপ তার বক্তব্যে পশ্চিম তীরের বর্তমান পরিস্থিতির নিন্দা জানিয়ে বলেন, সেখানকার বেসামরিক জনসংখ্যার ওপর সহিংসতার মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, প্রতিটি মানুষের মতো ফিলিস্তিনিদেরও তাদের পিতৃপুরুষের ভিটায় শান্তি ও মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার অনস্বীকার্য।
পশ্চিম তীরের পাশাপাশি গাজার সাধারণ মানুষের মানবেতর পরিস্থিতির কথাও তিনি স্মরণ করেন এবং সেখানকার বাসিন্দাদের জন্য একটি টেকসই শান্তি ও ন্যায়বিচারপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।
পোপ লিও চতুর্দশ গত বছরের মে মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছেন। শুক্রবারের এই বার্তায় তিনি আবারও ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং নিজস্ব ভূখণ্ডে সার্বভৌমত্বের বিষয়টি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরলেন।
বিশেষ করে গাজার সংঘাতময় পরিবেশে সাধারণ নাগরিকদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে তার এই মন্তব্য বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পোপের মতে, শান্তি কেবল যুদ্ধের অনুপস্থিতি নয়, বরং এটি প্রতিটি জাতির নিজস্ব ভূমিতে ন্যায়বিচার পাওয়ার একটি অধিকার।
ভ্যাটিকান থেকে প্রচারিত এই আহ্বানে পোপ সকল পক্ষকে সংঘাত পরিহার করে আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানোর অনুরোধ জানিয়েছেন।
তিনি বিশ্বাস করেন, কেবল মানবিক সহমর্মিতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার মাধ্যমেই ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার অবসান ঘটানো সম্ভব। পোপের এই জোরালো সমর্থন ফিলিস্তিনিদের জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে নৈতিক সাহস জোগাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: এএফপি