টানা ছয় ম্যাচের হতাশা কাটিয়ে অবশেষে জয়ের মুখ দেখল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে আগে ব্যাট করে ১৪৮ রান তুলেছিল নবাগত দলটি। লক্ষ্যটা বড় না হলেও শেষ ওভারের নাটকে গিয়ে ম্যাচ জিতে নেয় নোয়াখালী—নির্ণায়ক ওভারে তিন উইকেট নিয়ে নায়ক হন হাসান মাহমুদ।
রংপুরের জয়ের জন্য শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৫ রান। উইকেটে ছিলেন শেষ স্বীকৃত ব্যাটার খুশদিল শাহ। কিন্তু প্রথম বলেই তাকে ফিরিয়ে দেন হাসান। পরের বলে এক রান নেন সুফিয়ান মুকিম। তৃতীয় বলে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন রংপুরের হ্যাটট্রিক–নায়ক মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। শেষ বলে মুস্তাফিজুর রহমানকে বোল্ড করে রংপুরের ইনিংস থামিয়ে দেন হাসান। ফলে ১৩৯ রানে গুটিয়ে যায় রংপুর এবং ৯ রানের জয় পায় নোয়াখালী। হাসান শেষ করেন ২৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে—ম্যাচের সেরা বোলার হিসেবে।
এর আগে নোয়াখালীর ইনিংস শেষ দিকে বড় ধাক্কা খায়। রংপুরের হয়ে মৃত্যুঞ্জয় শেষের আগুনে স্পেলে একে একে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, জহির খান ও বিলাল সামিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। তাতেই ১৯.৫ ওভারে ১৪৮ রানে অলআউট হয় নোয়াখালী। এর আগে মুস্তাফিজুর রহমানও হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন—তিনি জাকের আলী ও মেহেদী হাসান রানাকে আউট করেন।
ব্যাটিংয়ে নোয়াখালীর শুরু ছিল উড়ন্ত। পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেটে ৬৬ রান তুলে নেয় তারা। ওপেনিং জুটি ভাঙে ২৫ রানে—শাহাদাত হোসেন দিপু ৮ বলে ১৪ রান করে মুস্তাফিজের বলে বোল্ড হন। এরপর সৌম্য সরকার ও হাবিবুর রহমান সোহান ঝড়ো জুটি গড়ে তোলেন। পাওয়ার প্লে শেষে সোহান ১৬ বলে ৩০ রান করে আউট হন (সুফিয়ান মুকিম)। এরপর সৌম্য (৩১), মোহাম্মদ নবি (০) ও হায়দার আলী (১) দ্রুত ফিরলে চাপ বাড়ে। এক সময় স্কোর দাঁড়ায় ৮৪/৪।
মাঝে জাকের আলী সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন। ষষ্ঠ উইকেটে জাকের–অঙ্কন জুটি ৪০ বলে ৪৯ রান যোগ করে ইনিংসকে টানেন। তবে শেষদিকে ধসে বড় স্কোর গড়া হয়নি। রংপুরের বোলিংয়ে মুস্তাফিজ ১৮ রানে ৩ উইকেট, মৃত্যুঞ্জয় ৪৩ রানে ৩ উইকেট নেন; খুশদিল শাহ নেন দুটি, আর সুফিয়ান মুকিম ও নাহিদ রানার ঝুলিতে যায় একটি করে উইকেট।
সব মিলিয়ে, শেষ ওভারের তিন আঘাতে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাল নোয়াখালী—সপ্তম ম্যাচে এসে এল কাঙ্ক্ষিত জয়।