পার্সটুডে: ইসরায়েল অধিকৃত ভূখণ্ডে বৈজ্ঞানিক গবেষণা কার্যক্রম এখন গভীর সংকটের মধ্যে রয়েছে। ইসরায়েলের গবেষণা খাতের ভবিষ্যৎ দিন দিন অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
পার্সটুডে জানিয়েছে, আরবি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল রুশিয়া আল-ইয়াউম-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলে বৈজ্ঞানিক গবেষণা এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে যে, দেশটি ধীরে ধীরে বৈজ্ঞানিক অবক্ষয়ের দিকে এগোচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, গবেষণা খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়া এবং মেধা পাচার—এই তিনটি কারণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইসরায়েলের অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক দশকে দেশটিতে একাডেমিক গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগ ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০১৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই খাতে বিনিয়োগ প্রায় ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অথচ একই সময়ে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি)-এর সদস্য দেশগুলোতে গবেষণা খাতে গড় বিনিয়োগ বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।
অ্যাকাডেমির সভাপতি ডেভিড হারেল বলেন, বর্তমানে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে একটি বিচ্ছিন্ন ও একঘরে অবস্থানে চলে যাচ্ছে। তাঁর মতে, বিশ্বব্যাপী গবেষণা সহযোগিতায় ইসরায়েলের অংশগ্রহণ ও গ্রহণযোগ্যতা ক্রমেই কমে আসছে।
গাজায় চলমান যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের তীব্রতা এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে অধিকৃত ভূখণ্ডে পরিচালিত বহু আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্প স্থগিত হয়ে গেছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত ‘হরাইজন ইউরোপ’ কর্মসূচির সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গবেষকরা চরম অর্থসংকটে পড়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিজ্ঞানীদের বিদেশে চলে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে অংশগ্রহণ কমা গবেষণার জন্য বড় হুমকি। মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানের গবেষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও গবেষণা নেটওয়ার্কে ইসরায়েলি গবেষকদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের গবেষকরা, যাদের আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে এই সংকট দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর ও অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। এতে ইসরায়েলের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক অবস্থান মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট শুধু অভ্যন্তরীণ সমস্যার ফল নয়; বরং ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের নীতি ও কর্মকাণ্ডের কারণে দেশটির যে ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে, তারই একটি স্পষ্ট প্রতিফলন এই বৈজ্ঞানিক সংকট।