শিরোনাম
◈ শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করতে হবে: জামায়াত ◈ বাংলাদেশ থেকে আনারস নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে পাকিস্তান সরকার ◈ ঋণের কিস্তি বকেয়া পড়লেই গ্রাহককে যখন-তখন ফোন ও হুমকি দেওয়া যাবে না: আরবিআইয়ের কঠোর নীতিমালা ◈ সৌদিকে ঘিরে ইরানি মিত্রদের সমন্বিত হামলার শঙ্কা, লক্ষ্যবস্তু জ্বালানি স্থাপনা ও বন্দর ◈ ‘আপনি কি গুপ্ত আওয়ামী লীগ’, জবাবে যা বললেন রুমিন ফারহানা ◈ রোম বিমানবন্দরে আটকা ঢাকাগামী বিমান, দুর্ভোগে আড়াই শতাধিক যাত্রী ◈ ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল জনতার, কোনো রাজনৈতিক দলের নয় : ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ◈ মিয়ানমারের সঙ্গে সীমিত বাণিজ্য শুরু, প্রাণ ফিরছে টেকনাফ স্থলবন্দরে ◈ অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি পুলিশের ◈ আরও পাঁচ প্রবাসী ফুটবলার সাফ চ‌্যা‌ম্পিয়নশীপ খেল‌তে আসছে 

প্রকাশিত : ০৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ০১:০১ দুপুর
আপডেট : ০১ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেলে কেন এত আগ্রহ ডোনাল্ড ট্রাম্পের?

স্কাই নিউজের এক্সপ্লেইনার: ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক বিস্ফোরক ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, একটি সুষ্ঠু ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন প্রশাসনই ভেনিজুয়েলা ‘পরিচালনা’ করবে। তবে এই রাজনৈতিক বার্তার আড়ালে সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি সামনে এসেছে, তা হলো ভেনিজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদ। অনুবাদ: বণিক বার্তা 

বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক না হলেও, ভেনিজুয়েলা তেলের রিজার্ভের দিক থেকে বিশ্বে প্রথম। দেশটির মাটির নিচে প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদ রয়েছে, যা বিশ্বের মোট মজুতের প্রায় ১৭ শতাংশ। ট্রাম্পের দাবি, ভেনিজুয়েলায় মার্কিন অভিযান এবং সেখানে অবস্থান করার জন্য আমেরিকার এক পয়সাও খরচ হবে না; বরং ‘মাটির নিচ থেকে আসা টাকা’ বা তেল বিক্রির অর্থ দিয়েই এই খরচ মেটানো হবে।

আমেরিকা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ। তবে এখানে একটি সূক্ষ্ম কারিগরি বিষয় রয়েছে। আমেরিকার নিজস্ব তেল মূলত ‘লাইট ক্রুড’ বা হালকা প্রকৃতির। কিন্তু আমেরিকার অধিকাংশ তেল শোধনাগার, বিশেষ করে টেক্সাস ও লুইজিয়ানার শোধনাগারগুলো তৈরি করা হয়েছে ‘হেভি ক্রুড’ বা ভারী ও ঘন তেল পরিশোধন করার জন্য।

কয়েক বিলিয়ন ডলার খরচ করে শোধনাগারগুলোর প্রযুক্তি পরিবর্তন করা অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ। তাই আমেরিকান শোধনাগারগুলো সচল রাখতে কানাডা, রাশিয়া বা ভেনিজুয়েলার ভারী তেলের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যের চেয়ে ভেনিজুয়েলা আমেরিকার অনেক কাছে হওয়ায় পরিবহন খরচ অনেক কম।

বর্তমানে ভেনিজুয়েলার তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, শেভরনের মতো বড় মার্কিন কোম্পানিগুলো সেখানে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে ‘ভেঙে পড়া অবকাঠামো’ ঠিক করবে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগের অভাবে ভেনিজুয়েলার তেল শিল্প এখন ধ্বংসের মুখে। ১৯৭০-এর দশকে যেখানে তারা দৈনিক ৩৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করত, গত বছর তা নেমে এসেছে মাত্র ১১ লাখে। এই শিল্পকে আবার সচল করতে কয়েক বছর সময় এবং কয়েক হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন।

ট্রাম্পের মতে, ভেনিজুয়েলার তেল ক্ষেত্রগুলো থেকে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে এক সময় বের করে দেয়া হয়েছিল। তিনি এখন সেই ‘চুরি হওয়া সম্পদ’ ফিরিয়ে নেয়ার কথা বলছেন। যদিও এক্সন মবিল বা শেল-এর মতো কোম্পানিগুলো এখনো তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেনি। তবে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরোকে হঠানো ট্রাম্পের জন্য যতটা না রাজনৈতিক বিজয়, তার চেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ। তেলের নিয়ন্ত্রণ হাতে থাকলে আমেরিকা কেবল নিজেদের চাহিদাই মেটাবে না, বরং বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের একক আধিপত্য আরো মজবুত করবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়