শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ০৭:০৬ বিকাল
আপডেট : ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ঘূর্ণিঝড় 'দিতওয়া'-র তাণ্ডব: শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা

ঘূর্ণিঝড় 'দিতওয়া'-র প্রভাবে সৃষ্ট ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যায় শ্রীলঙ্কায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে পৌঁছানোয় দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে সরকার। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কা আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বানও জানিয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনায় আরও ১৭৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) জানিয়েছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশজুড়ে ১৫ হাজারেরও বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে এবং ৭৮ হাজার মানুষকে সরকার পরিচালিত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। টানা এক সপ্তাহের প্রবল বর্ষণের পর উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে জরুরি আইন জারি করেছেন।

ডিএমসির মহাপরিচালক সম্পাথ কোটুউইগোদা জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে মোতায়েন করায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার হয়েছে। শনিবার সামরিক বাহিনী অনুরাধাপুরা জেলায় টানা ২৪ ঘণ্টার অভিযানে হেলিকপ্টার ও নৌবাহিনীর নৌকা ব্যবহার করে এক জার্মান পর্যটকসহ ৬৯ জন বাসযাত্রীকে উদ্ধার করেছে।

অন্যদিকে, দেশটির মধ্যাঞ্চলের বদুল্লা জেলার বহু সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় অনেক গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং সেখানে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো যাচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

শ্রীলঙ্কার সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হারিনি আমরাসুরিয়া কলম্বোভিত্তিক কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন এবং তাদের কাছে সহায়তা চেয়েছেন। ভারত সবার আগে সাড়া দিয়েছে এবং দুটি বিমানে করে ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও শোক প্রকাশ করে আরও সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। সরকার বিদেশে থাকা শ্রীলঙ্কানদের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য নগদ অর্থ পাঠানোর অনুরোধও জানিয়েছে।

শনিবার ঘূর্ণিঝড় 'দিতওয়া' দ্বীপদেশটির কাছ থেকে সরে গিয়ে উত্তরে ভারতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী ৪৮ ঘণ্টায় প্রবল বর্ষণ ও তীব্র বাতাস বয়ে যাওয়ার সতর্কতা জারি করেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের পর এটিই শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়