শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৭:০২ বিকাল
আপডেট : ১১ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা দিলে পরমাণু চুক্তি বাতিলের হুমকি ইরানের

পরমাণু প্রকল্পকে ঘিরে জাতিসংঘ যদি ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে, তাহলে জাতিসংঘের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু অস্ত্র নিরোধ বিষয়ক চুক্তি নন-প্রলিফারেশন ট্রিটি (এনপিটি) বাতিলের হুমকি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি।

গত জুন মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের পর জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি (আইএইএ) ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে তেহরানের সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করে। ইরানের ইসলামপন্থি সরকারের পক্ষ থেকে আইএইএকে শর্ত দেওয়া হয় যে জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হবে, কিন্তু প্রতিনিধিদের পরমাণু প্রকল্প সরেজমিনে প্রদর্শনের অনুমতি দেবে না তেহরান।

advertisement

এই অবস্থায় আইএইএ এবং তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতার জন্য এগিয়ে আসে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং জার্মানি; তবে এই মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। উপরন্তু ইরানের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত জ্যাকোপা চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তোলে।

আইএইএ-এর সঙ্গে দ্বন্দ্ব এবং যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানির অভিযোগকে আমলে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত নেয় জাতিসংঘ। আগামী কাল শনিবার নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় রাত ১২ টা থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে এই নিষেধাজ্ঞা।

advertisement

এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে জাতিসংঘের উদ্দেশে পোস্ট করা এক বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি বলেন, “জাতিসংঘ যদি কোনো প্রকার নিষ্ঠুর পদক্ষেপ নেয়, তাহলে (পরমাণু প্রকল্প নিয়ে) জাতিসংঘের সঙ্গে (ইরানের) যে কার্যকর প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তা থেকে সরে আসার ব্যাপারটি বিবেচনা করবে ইরান।”

১৯৭০ সালে জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণ বিষয়ক সংস্থা আইইএ’র সঙ্গে এনপিটি চুক্তি করেছিল ইরান। সে সময় অবশ্য বর্তমান ইসলাপন্থি শাসকগোষ্ঠী দেশটিতে ক্ষমতাসীন ছিল না। ইরানের সর্বশেষ রাজা বা শাহ রেজা পাহালভী তখন ইরানের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান ছিলেন।

advertisement

আইএইএ-এর সঙ্গে এএনপিটি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ইরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে দেশটি কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি বিষয়ক প্রকল্প গ্রহণ করবে না এবং আইএইএ-কে সহযোগিতা করবে।

গত ৬ জুন আইএইএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল— ইরান যে মাত্রার বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত করেছে, তা দিয়ে অনায়াসেই পরমাণু বোমা বানানো সম্ভব। আইএইএ এই বিবৃতি দেওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় ১৩ জুন দিবাগত রাতে ইরানে বিমান অভিযান ‘দ্য রাইজিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েল। অভিযান শুরুর কিছুক্ষণ পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক ভিডিওবার্তায় বলেছিলেন, জাতিসংঘের পরমাণু সংস্থার বিবৃতিতে আমলে নিয়ে এ অভিযান শুরু হয়েছে। ১০ দিন সংঘাত চলার পর ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্রও।

১২ দিন সংঘাত চলার পর ২৬ জুন যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে তার পর থেকেই জাতিসংঘের সঙ্গে জটিলতা শুরু হয় দেশটির।

যুদ্ধবিরতির পর এক ব্রিফিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছিলেন, “ইরানে ইসরায়েলি হামলার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দিয়েছে আইএইএ।”

সূত্র : রয়টার্স

অনুবাদ: ঢাকা পোস্ট 

  • সর্বশেষ