শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৯:২৭ রাত
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যে নতুন সাগরপথে পরীক্ষা শুরু করছে চীন

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আর্কটিক অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ায় নতুন এক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পথের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চীন ও রাশিয়া এবার ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন বাঁকে নিতে চাইছে। 

রাশিয়া বরাবরই আর্কটিক অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়ে এসেছে। এবার সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে চীন আর্কটিক সাগরপথ ব্যবহার করে ইউরোপে পণ্য পাঠানোর একটি পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু করতে চলেছে।

advertisement

আগামী ২০ সেপ্টেম্বর চীনের ইস্তানবুল ব্রিজ নামের একটি কন্টেইনার জাহাজ নিংবো-ঝৌশান বন্দর থেকে যাত্রা করবে। ১৮ দিনের এই যাত্রায় জাহাজটি রাশিয়ার উত্তর উপকূল দিয়ে আর্কটিক সাগরপথ ধরে যুক্তরাজ্যের ফেলিক্সটো বন্দরে পৌঁছাবে। এই রুটে বরফ-ঢাকা পথ পাড়ি দিতে জাহাজটিকে সাহায্য করবে একটি বিশেষ ধরনের আইসব্রেকার।

আর্কটিক ইনস্টিটিউটের মাল্টে হ্যাম্পার্টের মতে, আর্কটিক অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তন সরাসরি ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দিচ্ছে। কারণ, এই অঞ্চলটি খনিজ সম্পদ এবং নতুন বাণিজ্যিক পথের কারণে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে প্রভাবিত করছে। বর্তমানে বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুয়েজ খাল, ভূমধ্যসাগর এবং সিঙ্গাপুরের মতো ঐতিহ্যবাহী পথ দিয়েই হয়ে থাকে। তবে, আর্কটিক সাগরপথ প্রচলিত পথের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম দূরত্বে পণ্য পরিবহন করতে সক্ষম। এর ফলে সময় এবং খরচ দুইই বাঁচবে।

advertisement

ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক পথগুলোতে সম্প্রতি নানা ধরনের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা গেছে। যেমন, হর্ন অফ আফ্রিকার কাছে জলদস্যুদের আক্রমণ এবং লোহিত সাগরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বাধ্য করছে। এমন পরিস্থিতিতে, আর্কটিক সাগরপথ একটি নিরাপদ এবং কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বারবার আর্কটিক অঞ্চলের উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে এই পথে বার্ষিক পণ্য পরিবহনের পরিমাণ ৭০ থেকে ১০০ মিলিয়ন টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এছাড়াও, রাশিয়া তার নিজস্ব পারমাণবিক শক্তিচালিত আইসব্রেকার দিয়ে সারা বছর এই পথে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা করতে চায়। রাশিয়ার মুরমানস্কের মতো পুরোনো বন্দরগুলোর সম্প্রসারণ এবং নতুন বন্দর নির্মাণেরও পরিকল্পনা চলছে।

advertisement

পুতিন আরও বলেছেন, আর্কটিক অঞ্চলে তেল, গ্যাস, ধাতু এবং অন্যান্য দুর্লভ খনিজের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে। তিনি চীন, ভারত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোকে যৌথ উদ্যোগে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। এই অঞ্চলকে অর্থনৈতিকভাবে আরও গতিশীল করতে তিনি আর্কটিক অঞ্চলের শহরগুলোর উন্নয়ন এবং পর্যটন প্রসারেরও ঘোষণা দিয়েছেন।

সূত্র: আরটিভি নিউজ

  • সর্বশেষ