শিরোনাম
◈ ইসরায়েলকে ‘শয়তান’ বলায় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে নেতানিয়াহুর নিন্দা ◈ একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে জামায়াতের নাম বহাল: জামুকা সংশোধন বিল পাস ◈ পুলিশে জেলাভিত্তিক বড় নিয়োগ, কোন জেলায় পদসংখ্যা কত দেখুন তালিকা ◈ দীর্ঘদিন ধরে চলমান অর্থায়নবিহীন ‘জম্বি প্রকল্প’ চিহ্নিত করে সেগুলো বাতিলের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে: সংসদে অর্থমন্ত্রী ◈ জ্বালানি খাতে বর্ধিত ব্যয় মেটাতে বাংলাদেশ ১০০ কো‌টি ডলার চাইবে আইএমএফের কাছে  ◈ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন মোড়, বরফ কি গলবে? ◈ শেরপুরে জামায়াত নেতার মৃত্যু নিয়ে গুঞ্জন, যা জানালেন আমির ◈ ইংল‌্যান্ড বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পর্বে শেষ দুই ম‌্যাচ খেল‌বে নিউ জিল্যান্ড ও কোস্টা রিকার বিরু‌দ্ধে ◈ ফুটবল লি‌গে আজ আবাহনী-মোহামেডান মু‌খোমু‌খি ◈ ভারতের মাটির নিচে ৫০০ মিলিয়ন টন ‘স্বর্ণের পাহাড়’, তবু খনন হচ্ছে না কেন?

প্রকাশিত : ০৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:২১ রাত
আপডেট : ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সংসদে কে কোথায় বসেন, আসন নির্ধারণ হয় যেভাবে

জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে টেলিভিশনের পর্দায় বা সরাসরি সংসদ কক্ষে একটি দৃশ্য প্রায় সবারই নজরে আসে—সারিবদ্ধ আসনে বসে আছেন সংসদ সদস্যরা, সামনে মন্ত্রিসভার সদস্যরা, মাঝখানে বিরোধী দল, আর একদম সামনে স্পিকার। কিন্তু এই বসার বিন্যাস কীভাবে নির্ধারণ হয়? কে কোন আসনে বসবেন—তার পেছনে রয়েছে নির্দিষ্ট নিয়ম, প্রথা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা।

সংসদে আসন বণ্টনের মূল দায়িত্ব থাকে স্পিকারের কার্যালয়ের ওপর। সংসদ সচিবালয় এ বিষয়ে কারিগরি সহায়তা দেয়। সাধারণত নির্বাচনের পর নতুন সংসদ গঠিত হলে দলীয় অবস্থান, সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং সাংবিধানিক পদ অনুযায়ী আসন নির্ধারণ করা হয়।

সংসদ কক্ষের একেবারে সামনে উঁচু মঞ্চে থাকেন স্পিকার। তার ডান পাশে বসেন প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতারা। একই সারিতে থাকেন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা। মন্ত্রিসভার সিনিয়র সদস্যরা সাধারণত সামনের সারিগুলোতেই বসেন, যাতে তারা আলোচনায় দ্রুত অংশ নিতে পারেন।

স্পিকারের বাম পাশে বসেন বিরোধী দলের নেতা এবং তার সহকর্মীরা। বিরোধী দলের আসনও দলীয় গুরুত্ব ও সিনিয়রিটির ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়। সংসদে যদি একাধিক বিরোধী দল থাকে, তাহলে তাদের আসনও আনুপাতিক হারে ভাগ করে দেওয়া হয়।

সংসদীয় কার্যক্রমের সুবিধার জন্য দলীয় হুইপের বসার সিট নির্ধারিত হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সংসদে সরকার দলীয় চিফ হুইপ বসেন প্রধানমন্ত্রীর পেছনে। আর বিরোধীদলের হুইপ বসেন বিরোধীদলীয় নেতার পেছনে।

সংসদ সদস্যদের মধ্যে যারা নবীন, তারা সাধারণত পেছনের সারিতে আসন পান। অন্যদিকে, অভিজ্ঞ, একাধিকবার নির্বাচিত বা গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সদস্যরা সামনের দিকে জায়গা পান। তবে এটি কোনও লিখিত কঠোর নিয়ম নয়—দলীয় সুপারিশ ও স্পিকারের অনুমোদনের ওপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করে।

সংসদে স্বতন্ত্র সদস্য বা ছোট দলের প্রতিনিধিদের জন্যও নির্দিষ্ট আসন রাখা হয়। তারা সাধারণত বিরোধী বেঞ্চের দিকেই বসেন, তবে তাদের অবস্থান নির্ভর করে সংখ্যার ওপর।

আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—দলীয় হুইপের ভূমিকা। প্রতিটি দল তাদের সদস্যদের জন্য প্রস্তাবিত আসনের তালিকা স্পিকারকে দেয়। সেই তালিকা অনুযায়ীই চূড়ান্ত বিন্যাস নির্ধারণ করা হয়।

সংসদ কক্ষের এই আসন বিন্যাস কেবল বসার জায়গা নির্ধারণ করে না, বরং এটি দেশের রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য, দলীয় অবস্থান এবং সাংবিধানিক কাঠামোরও প্রতিফলন। তাই কে কোথায় বসছেন, সেটি শুধু আনুষ্ঠানিক বিষয় নয়—বরং তা রাজনীতির একটি দৃশ্যমান মানচিত্র।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়