শিরোনাম

প্রকাশিত : ০১ অক্টোবর, ২০২২, ০৩:২৬ দুপুর
আপডেট : ০১ অক্টোবর, ২০২২, ০৩:৪৩ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যেই মারাত্মক হচ্ছে ডেঙ্গু : ডা. আব্দুল্লাহ

অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ

শাহীন খন্দকার: প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, দেশজুড়ে চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু। গত বৃহস্পতিবার ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫০৬ জন আর শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২৪০ জন।

এ নিয়ে সারাদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এক হাজার ৯১৬ জন। চলতি সেপ্টেম্বরের ৬ তারিখ একদিনে ৫ জন মারা যাওয়ার পরই ডেঙ্গু ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। তবে জ্বর বা উপসর্গ দেখা দিলেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে সহজেই এই রোগ নিরাময় সম্ভব। 

অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ  বলেন, করোনাভাইরাস ও ডেঙ্গু এই দুটি রোগে একসঙ্গে আক্রান্ত হলে জটিলতা হতে পারে। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা গেছে জুলাই মাসে।

করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণের মধ্যেই এখন মারাত্মক রূপ নিতে শুরু করেছে ডেঙ্গু জ্বর। ইদানীং এমন অনেক রোগী পাওয়া যাচ্ছে, যারা একই সাথে করোনাসহ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। ডেঙ্গু ও করোনা পরিস্থিতি সর্ম্পতে তিনি বলেন, জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরের মৌসুম।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, প্রতিদিনই ৫০০ ওপরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। যদিও করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার হিসেব করলে এই সংখ্যা অনেক কম মনে হবে। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে ২০২০ সালে ১ হাজার ৪০৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন, আর চলতি বছরের শুধু  সেপ্টেম্বর  মাসেই রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ৬৭১জন।

জুন মাসের তুলনায় জুলাই মাসে ডেঙ্গু রোগী বেড়েছে ৮ গুন বেশি। এখনো পর্যন্ত ঢাকা শহরেই মূলত এর প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে ঢাকার চারটি হাসপাতালকে শুধু ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসার জন্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

ডা. আব্দুল্লাহ আরো বলেন, এই রোগ দুটির উপসর্গের কিছু মিল রয়েছে। আক্রান্ত হওয়ার শুরুর দিকে জ্বর, মাথা ব্যথা, গলা ব্যথা, শরীর ব্যথা হলেই আমরা বলতাম করোনা টেস্ট করেন। কিন্তু বর্তমানে এ ধরনের উপসর্গ দেখলে করোনা এবং ডেঙ্গু দুটোর জন্যই পরীক্ষা করাতে বলছি। পৃথক পৃথক টেস্ট করলে তবেই বোঝা যায় করোনা না ডেঙ্গু।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে যেসব উপসর্গ ডেঙ্গুর থেকে আলাদা সেগুলো হচ্ছে, ঘ্রাণ ও স্বাদ চলে যাওয়া, পাতলা পায়খানা, ফুসফুস আক্রান্ত হওয়া, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি। অন্যদিকে ডেঙ্গুর উপসর্গে পার্থক্যে যেমন- চোখের পেছনে ব্যথা, রক্তচাপ কমে যাওয়া। ডেঙ্গু গুরুতর হলে রক্তে প্লাটিলেট কমে যায়, চোখের কোনা, দাঁতের মাড়ি বা নাক থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে। পেটের ভেতরে রক্তক্ষরণ হলে মল কালো হতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে হঠাৎ মাসিক হয়ে যেতে পারে বা মাসিকের সময় বেশি রক্ত যেতে পারে। দুটোই একসাথে হলে এক ধরণের জটিলতা হতে পারে। তিনি বলেন, ডেঙ্গুর চারটি ধরণ রয়েছে। প্রথম ধরনে আক্রান্ত ডেঙ্গু রোগীদের তেমন একটা সমস্যা হয় না। তাদের শুধু জ্বর থাকে। এর পরের গুলো হলেই লক্ষণ প্রকাশ পায় এবং তা কখনো কখনো জটিল রূপ নেয়, যেমন রক্তে প্লাটিলেটের সংখ্যা কমে যেতে পারে, রক্তক্ষরণ হতে পারে।

ডা. আব্দুল্লাহ বলেন, কেউ ডেঙ্গু আক্রান্ত এবং একইসাথে কোভিড হলে ভয়ের কারণ রয়েছে। কোভিডের কারণে যদি ফুসফুস বেশি আক্রান্ত হয়, তাতে রোগীর প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি কমে যাবে। আবার  করোনায় রক্তে যে সমস্যা তৈরি কওে, তেমনই ডেঙ্গুও রক্তে একই রকম সমস্যা তৈরি করে। যাকে বলে ভাস্কুলাইটিস। এসব কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যাবে। এই দুটি রোগের জটিলতা একসঙ্গে দেখা দিলে দুটোর জন্যে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ দেয়া হয়। তবে বেশি স্টেরয়েড দেবারও রয়েছে বাড়তি ঝুঁকি। ডেঙ্গুর কারণে রক্তে প্লাটিলেট স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি কমে যায় এবং কোভিডের কারণে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রাও ৯০ এর নিচে নেমে যায় তাহলে বিষয়টি বিপদজনক। তখন একই সাথে প্লাটিলেট এবং অক্সিজেন দিতে হবে। 

আবার করোনাভাইরাসের কারণে যদি ফুসফুস বেশি আক্রান্ত হয়, কিংবা হৃদযন্ত্রের আর্টারি আক্রান্ত হয়, তখন খুবই দুশ্চিন্তার বিষয়। এমন রোগীদের ফেরানো মুশকিল। এ ক্ষেত্রে করণীয় নির্ভর করছে রোগের উপসর্গগুলোর মাত্রা কেমন তার উপরে। যদি উপসর্গ খুব বেশি না থাকে তাহলে চিন্তার কিছু নেই। 

প্রথম কাজই হচ্ছে, উপসর্গ দেখা দিলে করোনার এবং ডেঙ্গু দুটোর জন্যই আলাদা পরীক্ষা করাতে হবে। কোভিডের ক্ষেত্রে ঘরে অক্সিমিটার দিয়ে দিনে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপতে হবে। মাত্রা ৯০ এর নিচে নেমে যায় কিনা সেটি খেয়াল করতে হবে। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা ও রক্তক্ষরণের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। ডেঙ্গুর ভাইরাস মনোসাইট নামে রক্তের একটি সেলে বৃদ্ধি লাভ করে অন্যদিকে করোনাভাইরাস শ্বাসতন্ত্রে বৃদ্ধি লাভ করে। তবে ডেঙ্গু কখনো ফুসফুস আক্রান্ত করে না।

করোনা ফুসফুসের এপিথিলিয়াল সেলে প্রদাহ তৈরি করে। শরীরের নানা অংশে এই সেলের উপস্থিতি রয়েছে তাই সেখানেও করোনাভাইরাস প্রদাহ সৃষ্টি করতে সক্ষম। ভাইরাস দুইভাবে বৃদ্ধি লাভ করে। তাই দুটো একসাথে মিলে কোন নতুন কোন রূপ বা গন্ডগোল তৈরি করবে না। তবে তিনি বলছেন, বাংলাদেশে দুটি রোগের একসাথে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নতুন। সম্পাদনা: মাজহারুল ইসলাম

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়