শিরোনাম
◈ বাংলাদেশ আইএমও’র মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু মেরিন স্কলারশিপ চালু করতে চায়: প্রধানমন্ত্রী ◈ ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক এমপি মনজুর হোসেন মারা গেছেন ◈ ঈদে সাধারণ মানুষের কাছে অতিরিক্ত ভাড়া  না নেওয়ার নির্দেশ ওবায়দুল কাদেরের  ◈ জামানত হারালেন ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই ◈ দেশ এখন দুর্বৃত্ত ও মাফিয়াদের দখলে: মির্জা ফখরুল ◈ জনগণ ও দেশের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ আন্তরিকভাবে নিবেদিত: প্রধানমন্ত্রী ◈ রোহিঙ্গাদের অনিরাপদ স্থানে পাঠানোর বিরুদ্ধে জাতিসংঘের দৃঢ় অবস্থান ◈ কানাডায় বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার নাহিদা সোবহান ◈ এসএসসিতে দুই বিষয়ে ফেল করলেও ভর্তি হওয়া যাবে কলেজে ◈ এমপি আনার হত্যাকাণ্ড: মাথাসহ খণ্ডিত অংশ উদ্ধারে অভিযান চলছে  

প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল, ২০২৪, ০৩:৫৬ দুপুর
আপডেট : ১৭ এপ্রিল, ২০২৪, ০৪:২৬ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যাও বাড়তে থাকবে

শাহীন খন্দকার: [২] ডেঙ্গু এক সময় মৌসুমী রোগ হিসাবেই পরিচিত ছিলো। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে সারা বছর ধরেই প্রতিদিনই একটু একটু করে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। ডেঙ্গু রোগ ও প্রতিকার সর্ম্পকে বললেন বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, কথার দাপটে এডিস মশা মরবে না। বসবাস করতে হবে মশার সঙ্গেই।

[৩] দেশের স্বনামধন্য চিকিৎসক অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ আরও বলেন, এডিস মশার বিস্তার ঘটার কারণে  ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বৃষ্টি হলেই বিভিন্নস্থানে পানি জমবে। সেখানে এডিস মশা ডিম দিবে। মশার সংখ্যা বাড়ার কারণে সে সব মশা কামড়াচ্ছে। ফলে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। যদি এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা না যায় ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যাও বাড়তে থাকবে । সাধারণত মূল সমস্যা হচ্ছে মশার সংখ্যা বাড়ছে।

[৪] অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ বলেন, চলতি বছর মঙ্গলবার (১৬এপ্রিল) পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্তান্ত রোগী ১৮৯৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ২৩ জনের। আক্রান্তদের মধ্যে মহিলা ছিলেন, ৭০৮ জন আর পুরুষ ১১৯১ জন। নারী মারাগেছেন ১২ জন এবং পুরুষ মারাগেছেন ১১ জন। তিনি বলেন, তবে ডেঙ্গুর মৌসুম হচ্ছে মে ও জুন মাস। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত সিটি কর্পোরেশন প্রস্তুত কি না সিটি কর্পোরেশন ভালো বলতে পারবে। তারা হয়তো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছেন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ কর্পোরেশনের মধ্যে সমন্বয় করে এক সঙ্গে কাজ করে তাহলে ডেঙ্গুর মশা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

[৫] আরও বলেন, উত্তর সিটি করপোরেশন মশা মারতে শুরু করে তাহলে মশা দক্ষিণে চলে আসবে। আবার দক্ষিণে মশা মারতে শুরু করলে সেগুলো উত্তরে চলে আসবে। তাই একই সঙ্গে দুটি কর্পোরেশনে মশা মারা শুরু না করলে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যাবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জ্বর হলে অবহেলা করা যাবে না। অমুক ওষুধ খেলে জ্বর ভালো হয়ে যাবে, এজাতীয় ভাবনা যে কারো জন্যে ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

[৬] অবহেলা করে ঘরে বসে থাকা যাবে না। জ্বর হলে ডাক্তার দেখাতেই হবে। অন্তত ডেঙ্গু হয়েছে কি না তা পরীক্ষা করে নিতে হবে। জ্বর হলেই আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। এমনকি ডেঙ্গু হলেও আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই যদি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যায়।

[৭] আরেকটি বিষয় হলো, ডেঙ্গু জ্বরের সময় ভীষণ ব্যথা হয় বলে অনেকে বিভিন্ন রকমের ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে থাকেন। নিয়ম হচ্ছে এমন পরিস্থিতিতে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যাবে না। তা না হলে পরিস্থিতি বিপদজনক হতে পারে। জ্বর হলে কি ধরনের খাবার খাবেন, সে বিষয়েও ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছু করা যাবে না।

[৮] ডা. আব্দুল্লাহ বলেন, ঘরের বাইরে মশা নিয়ন্ত্রণ করা সিটি কর্পোরেশনের কাজ। আর ঘরের ভেতরের মশা নিজেদেরই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সিটি কর্পোরেশন তো ঘরে ঘরে গিয়ে মশা মারতে পারবে না। তাই নিজের ঘরের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা নিজেকেই করতে হবে। তিনি বলেন, ঘরে বা ছাদে রাখা গাছের টব, এসির নিচে, ফ্রিজের নিচে তিন থেকে পাঁচদিনের বেশি জমা পানি রাখা যাবে না। এগুলো নিজেদেরকেই মেনে চলতে হবে। অর্থাৎ জনগণের সচেতনতাও এ বিষয়ে খুব জরুরি। নিজের ঘর ও এর আশপাশের জায়গা পরিষ্কার রাখতে হবে।

[৯] নিজেকে ডেঙ্গু থেকে রক্ষা করার জন্যে আরো কিছু  নিয়ম মানতে হবে। কেউ যদি দিনের বেলায় ঘুমান তাহলেও মশারি টাঙাতে হবে। বিশেষ করে বাচ্চা ছেলেমেয়েদের ফুলহাতা জামাকাপড় পরিয়ে রাখতে হবে যাতে মশা না কামড়াতে পারে। তবে ডেঙ্গুর লক্ষণগুলি ম্যালেরিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং জিকাসহ অন্যান্য অনেক রোগের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ডেঙ্গু মূলত ছড়ায় এডিস প্রজাতির বিভিন্ন প্রজাতির স্ত্রী মশার দ্বারা , প্রধানত এডিস ইজিপ্টি । মশা নির্মূল এবং কামড় প্রতিরোধের মাধ্যমে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়।

[১০] এদিকে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের শেখের  টেকের বাসিন্দা ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, মশা মারার ওষুধের কার্যকারিতাসহ চলতি বছর এখনো কোন রকম উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। সব চেয়ে বড় কথা ওষুধ কার্যকর না হলে মশা মরবে না। ফলশ্রুতিতে মশার বংশবৃদ্ধি হবেই। সম্পাদনা: কামরুজ্জামান

এসকে/কে/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়