শিরোনাম

প্রকাশিত : ১১ মে, ২০২২, ১০:২৪ দুপুর
আপডেট : ১১ মে, ২০২২, ১০:৪৪ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আদমদীঘিতে ঝড়-বৃষ্টিতে বোরোর ব্যাপক ক্ষতি

বোরো ধান

আমিনুল জুয়েল: [২] চলতি মৌসুমে কয়েক দফায় ঝড়-বৃষ্টিতে বগুড়ার আদমদীঘিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষেতের বোরো ধান পরে যাওয়ায় কাটা মাড়াইয়ের শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। শ্রমিক পাওয়া গেলেও ধান ঘড়ে তুলতে গুণতে হচ্ছে দ্বিগুণ টাকা। এবছর একবিঘা জমির ধান কাটতে কৃষকদের গুণতে হচ্ছে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। আর দিনমজুর শ্রমিক মিলছে ৮৫০-৯০০ টাকায়। অর্থ্যাৎ এক মণ ধান বিক্রির টাকায়ও মিলছে না একটি শ্রমিক। তীব্র শ্রমিক সংকটে দিশেহারা এই এলাকার বোরো চাষিরা।

[৩] আদমদীঘি উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ১২ হাজার ৫শ’হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে জিরাশাইল, ব্রি ধান-২৮, ২৯ ও উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড ধানসহ বেশ কয়েক জাতের ধান চাষ করেছেন কৃষকরা। তবে বৈশাখের শুরু থেকেই কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক কৃষকের আবাদ মাটিতে নুয়ে পরেছে। মাঠে প্রায় সবজাতের ধান পেকে গেছে। অনেক কৃষকই ধানকাটা শুরু করেছে। কিন্তু তীব্র শ্রমিক সংকটে এই উপজেলার চাষিরা পুরোদমে বোরো ধান কাটতে পারছেন না।

[৪] সরেজমিনে আদমদীঘি উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি বছর এই সময়ে ক্ষেতের প্রায় অর্ধেক ধান কৃষকের বাড়িতে আসে। কিন্তু চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় শ্রমিক সংকটে বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ শুরুই করতে পারেনি। এদিকে, কয়েক দফা ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষেতের ধান জমিতে নুয়ে পরে পচে যাচ্ছে। অন্যদিকে, ১ মণ ধানের টাকায়ও মিলছে না একজন শ্রমিক।

[৫] কৃষকরা জানান, প্রতি বছর নীলফামারী, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, নাটোর, নওগাঁসহ বেশ কয়েকটি জেলা থেকে আদমদীঘিতে ধান কাটা-মাড়াইয়ের জন্য শ্রমিকরা আসতো। কিন্তু এ বছর চাহিদার তুলনায় মাত্র কয়েকটি জেলা থেকে শ্রমিক এসেছে। এজন্য ধান কাটার শুরু থেকেই দেখা দিয়েছে শ্রমিক সংকট। শ্রমিক সংকটের ফলে এই উপজেলার কৃষকরা এখনও ধান কাটা শুরু করতে পারেনি। এদিকে মাঠে ফসল পরে থাকায় ফলন বিপর্যয়ের আশংকা করছে কৃষকরা।

[৬] সদর ইউনিয়নের ছোট জিনইর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, ‘মাঠের সবধান পেকে গেছে। শ্রমিক সংকটে ধান কাটতে পারছি না। প্রথম ঝড়ে আমার এই জমির ধান মাটিতে পড়ে যায়। এজন্য কিছুটা আধা পাকা ধানই কাটছি। তানাহলে পানিতে ডুবে ধান পচে যাবে। 

[৭] আক্ষেপ করে তিনি বলেন, সাড়ে ৪ হাজার টাকায় এই এক বিঘা জমির ধান কাটতে রাজি হয়েছে শ্রমিকরা। গত বছরের তুলনায় এ বছর ধান কাটতে দুই থেকে তিন হাজার টাকা বেশি গুণতে হবে কৃষকদের। স্থানীয় শ্রমিকদের সাথেতো কথায় বলা যায় না। ওরাতো ৬ হাজার টাকায় একবিঘা জমির ধান কাটতে চেয়েছিল।

[৮] শিয়ালসন গ্রামের স্থানীয় শ্রমিক রিয়াদ, জিহাদ ও ইদুল জানান, এবছর ধানকাটার মজুরি বেশি। বিঘাপ্রতি ছয় থেকে সাড়ে ছয় হাজার টাকা নিচ্ছি। বাহির জেলার শ্রমিক এ বছর এখনও আসতে পারেনি। এছাড়াও মাটিতে নুয়ে পড়া ধান কাটতে শ্রম ও সময় বেশি লাগে।

[৯] সদরের কুসুম্বী গ্রামের কৃষক পারেশ আলী আকন্দ জানান, এবছর তিন বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছি। তিনবিঘা ধান কাটতে প্রায় ১৭ হাজার টাকা শ্রমিকদের পরিশোধ করতে হয়েছে। বাজারে ধানের দাম নেই। ভেজা ধান ৮৫০-৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একমণ ধানের টাকায় এবছর একটি শ্রমিক মেলানো যাচ্ছে না।

[১০] কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার শ্রমিক ফিরোজ, দুলাল, আবদুর রশিদ, সাজাহান, শহিদুল ও ফয়েজ জানান, আমরা এবছর ৩০জনের একটি দল এসেছি। বিভিন্ন জেলার শ্রমিকরা এবছর কম আসছে। ফলে ধান কাটা-মাড়াইয়ের শ্রমিক সংকট। বার বার বৃষ্টি ও ঝড় হওয়ায় বেশিরভাগ ধানই মাটিতে শুয়ে গেছে। সেজন্য এবছর ধান কাটার দাম বেশি। একবিঘা ধান কাটতে এ বছর ৫ হাজার টাকা নিচ্ছি।

[১১] সান্তাহার ইউনিয়নের উথরাইল গ্রামের আরেক কৃষক রুবেল হোসেন বলেন, দফায় দফায় ঝড়-বৃষ্টির কারনে আমার জমির ধান নুয়ে পরেছিল। এবছর শ্রমিক সংকট হওয়ায় স্থানীয় শ্রমিকদের নিয়ে ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছি। এজন্য প্রতি বিঘায় দেড় থেকে ২ হাজার টাকা বেশি গুণতে হচ্ছে। এরপরেও স্থানীয় শ্রমিকরা সময় মতো ধান কাটতে পারছে না।

[১২] ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের ধান ব্যবসায়ী মিলন হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে দফায় দফায় বৃষ্টি হওয়ার কারণে ধানের দাম গত বছরের চেয়ে মণপ্রতি (ভোজা) ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কমে কেনা হচ্ছে। এখন ভেজা ধান কেনা হচ্ছে ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকা দরে। আর শুকনা ধান প্রতি মণ ১০০০ থেকে ১০৫০ টাকা। যা গত বছর ছিল ১২০০ থেকে ১২৫০ টাকা।

[১৩] আদমদীঘি উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিঠু চন্দ্র অধিকারী জানান, উপজেলায় পুরোদমে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বোরো ধান বেশি অর্জিত হয়েছে। তবে এবছর ধানের দাম কম। বার বার বৃষ্টি ও ঝড়ের কারনে ক্ষেতে ধান শুকানো যায়নি। তবে ধান ভালোভাবে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা গেলে পরে বিক্রি করে ভালো দাম পেতে পারেন কৃষকরা। এছাড়াও এই উপজেলায় শ্রমিক সংকট নিরসনের জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও জানান এই কৃষি কর্মকর্তা। সম্পাদনা: হ্যাপি

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়