শিরোনাম
◈ দেশের যেসব অঞ্চলে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আশঙ্কা ◈  সরকার থেকে বরাদ্দ করলে সংসদ সদস্যদের গাড়ি আমদানির প্রয়োজন নেই: সংসদে আলোচনা ◈ ঈদে যানজট এড়াতে ডিএমপির ২২ নির্দেশনা ◈ ব্রিকসকে দেওয়ার মতো অনেক কিছু রয়েছে বাংলাদেশের: ডা. দীপু মনি ◈ পল্টনে ফাইন্যান্স টাওয়ারের আগুন নিয়ন্ত্রণে ◈ নেপিয়ার ঘাস খেয়ে মারা গেলো খামারের ২৬ গরু ◈ এমপি আনার হত্যা তদন্তে কোনো চাপ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ তারেক রহমানসহ পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ◈ সাধারণ নাগরিকের মতো করেই ড. ইউনূসের বিচার হচ্ছে: আইনমন্ত্রী ◈ ড. ইউনূসের কথা অসত্য, জনগণের জন্য অপমানজনক: আইনমন্ত্রী

প্রকাশিত : ২৮ মে, ২০২৪, ০১:১৮ দুপুর
আপডেট : ২৮ মে, ২০২৪, ০৪:২০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে ৬১ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত 

জাফর ইকবাল, খুলনা: [২] ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে উপকূলের তিন জেলায় ৬১ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু এলাকায় পুরোপুরি এবং কিছু এলাকায় আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঁধ। এতে বাঁধসংলগ্ন নিচু এলাকা উপচে লোকালয়ে নোনা পানি প্রবেশ করেছে। শত শত গ্রামে চিংড়ির ঘেরসহ ফসলি জমিতে নোনা পানি প্রবেশ করেছে। অসংখ্য ঘেরের চিংড়ি ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।

[৩] এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) খুলনার প্রধান প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার সাহা জানান, খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলায় মোট ৬১ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি স্থানে নদীর বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। খুলনার দাকোপ উপজেলার দুই স্থানে বাঁধ ভেঙেছে।

[৪] একটি তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের বটবুনিয়ার ঢাকি নদীর ডান তীরে। এখানে অন্তত ২০ মিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। একই উপজেলার পানখালী-খলসি এলাকার পশুর নদের ভাঙনে সেখানকার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাইকগাছার কামিনীবাসিয়া পুরনো পুলিশ ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় বেড়িবাঁধ খুব দুর্বল ছিল। আবার বাঁধ নিচু হওয়ায় জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। স্থানীয়রা বলছে, পাইকগাছা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ছয়টি ইউনিয়নের ২১টি স্থানে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

[৫] এ বিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহেরা নাজনীন জানান, উপজেলায় প্রায় দেড় লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২১টি স্থানে বাঁধ ভেঙেছে।
বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার বলাইবুনিয়া ইউনিয়নের শ্রেণিখালী-দৈবজ্ঞহাটিতে পানগুছি নদীর ভাঙনে বাঁধ ভেঙেছে।

[৬] বাগেরহাট সদরের দড়াটানা নদীর ভাঙনে বাঁধ ভেঙেছে। এ ছাড়া সাতক্ষীরা সার্কেলভুক্ত খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশীর হরিহরপুরে শাখবাড়ী নদীর ভাঙন এবং পাইকগাছা উপজেলার দেলুটি ইউনিয়নের ভদ্রা নদীর ভাঙনে বাঁধ ভেঙেছে।

[৭] বাঁধের ভাঙনে খুলনার কয়রা উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ভেসে গেছে শতাধিক চিংড়ির ঘের, ভেঙে গেছে কয়েক শ কাঁচা ঘরবাড়ি ও দোকানপাট। এ ছাড়া রাতজুড়ে ভারি বৃষ্টি ও ঝড়ের তাণ্ডবে উপজেলার বিপুলসংখ্যক গাছপালা উপড়ে গেছে।

[৮] স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, গত রোববার রাতে জোয়ারের পানির প্রচণ্ড চাপে মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের সিংহেরকোনা, মহারাজপুর ইউনিয়নের দশহালিয়া ও দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাল গাজীর বাড়ির সামনের বাঁধ ভেঙে গেছে।

[৯] মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, গত রোববার রাতের জোয়ারে ইউনিয়নের দশহালিয়া এলাকায় প্রায় ৫০ মিটার বাঁধ ভেঙে কপোতাক্ষ নদের পানি প্রবেশ করেছে। এতে দুটি গ্রাম ও কয়েক শ চিংড়িঘের তলিয়ে গেছে।

[১০] মহেশ্বরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারি বলেন, ইউনিয়নের সিংহেরকোনা এলাকায় বাঁধ ভেঙে গেছে। এ ছাড়া নয়ানি এলাকার বাঁধের নিচু জায়গা ছাপিয়ে সারা রাত পানি ঢুকেছে। এতে সাতটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে ও ভারি বৃষ্টিতে কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

[১১] দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী জানান, তাঁর ইউনিয়নের মাটিয়াভাঙ্গা এলাকায় রবিবার রাতের জোয়ারে বাঁধের কিছু অংশ ভেঙে গেছে। এতে পাঁচ-সাতটি গ্রামে নোনা পানি ঢুকেছে। এ ছাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় নিচু বাঁধ ছাপিয়ে এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে।

[১২] কয়রার ইউএনও এ বি এম তারিক উজ জামান বলেন, ‘কয়েকটি স্থানে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর পেয়েছি। ভারি বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় গাছপালা ও মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিনিধি/একে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়