মুসবা তিন্নি: [২] সময়টা ছিল যুদ্ধ পরবর্তী। তখন বাংলাদেশের রক্ষণশীল সমাজে এক বিরাট আলোড়ন তৈরি হলো বেতার-টেলিভিশন এবং সিনেমা হলে প্রচারিত কিছু বিজ্ঞাপনকে ঘিরে। সে সময়ে বাংলাদেশে মাত্রই জন্মনিরোধক সামগ্রী সহজলভ্য করার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। তখনকার রক্ষণশীল সমাজে জন্ম নিয়ন্ত্রণ বা জন্ম নিরোধক সামগ্রী নিয়ে প্রকাশ্যে কথা-বার্তা বলা ছিল সাংঘাতিক লজ্জার, অনেকটা নিষিদ্ধও।
[৩] সেই সামাজিক লজ্জা আর আড়ষ্টতার অনেকটা না জেনে বা না বুঝেই এক বিরাট ভূমিকা রাখলেন পদ্মাতীরের রাজবাড়ী থেকে ঢাকায় আসা এক তরুণী। নাম তার রেণু। তার দুই চোখে রূপালি পর্দার নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন। পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করে একদিন রেণু ঢাকায় এলেন সেই স্বপ্ন পূরণে। সূত্র: বিবিসি
[৪] পুরনো ঢাকায় পাড়ার বার্ষিক নাটকে কিংবা বাণিজ্যিক ছবির একেবারেই ছোট-খাট কিছু দৃশ্যে অভিনয় করে তখন তিনি নজর কাড়ার চেষ্টা করছেন। একদিন তার কাছে একটি বিজ্ঞাপনের মডেল হওয়ার অফার আসলো। কিছু না বুঝেই সেটিতে রাজী হয়ে গেলেন তিনি। এই বিজ্ঞাপন-চিত্রের শুরুতেই লাজ-নম্র বধূর বেশে রেণুকে দেখা যাচ্ছিল বাসর ঘরে, এরপর দুই সন্তান, স্বামীসহ এক সুখী স্ত্রীর ভূমিকায়। বিজ্ঞাপনটির দারুণ জিঙ্গেল, তার সঙ্গে মডেলের মিষ্টি চেহারা- সব মিলিয়ে এটি বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলো সে সময়। তার এই বিজ্ঞাপন-চিত্রটিকে ঘিরে সেসময় বেশ বিতর্ক যেমন হয়েছে, সেই সঙ্গে এটি তার নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন পূরণের সুযোগও তৈরি করে দিয়েছিল।
[৫] জন্ম নিরোধক পিল মায়া বড়ির বিজ্ঞাপনের সেই রেণুই আজকের বাংলাদেশের খ্যাতিমান চিত্রতারকা রোজিনা। তার রেণু নামটি অবশ্য এখন ঢাকা পড়ে গেছে রোজিনা নামের আড়ালে। মায়া বড়ির যে প্যাকেটটি তখন বাজারজাত করা হয়েছিল, তার গায়েও রোজিনার ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। এর আগে পর্যন্ত প্যাকেটে হাতে আঁকা ছবি ব্যবহার করতে হতো। সম্পাদনা: ইমরুল শাহেদ
এসটি/এসএ