মনিরুল ইসলাম : পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার মেয়ে রুমী সরকার।ছোটবেলা থেকেই গান ছিল তার নেশা। স্কুলজীবনে প্রায় প্রতিটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এই শিল্পী ২০০৯ সালে এসএসসি পরীক্ষার পর পেশাদার সংগীতজগতে পা রাখেন। ধীরে ধীরে পালা গানের অঙ্গনে নিজেকে গড়ে তোলেন তিনি, হয়ে ওঠেন পরিচিত মুখ।
টেলিভিশনের বিভিন্ন আয়োজন, স্টেজ শো এবং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে নিয়মিত পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শক-শ্রোতাদের কাছে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন রুশী। তার ভাষায়, পালা গান শুধু লোকজ বিনোদন নয়—এতে থাকে সমাজ, জীবন ও আধ্যাত্মিকতার নানা বার্তা। তাই গান পরিবেশনের সময় দর্শকের সঙ্গে একটি আবেগী সংযোগ তৈরি করাই তার লক্ষ্য। রুমী সরকার মূলত পালাগানের শিল্পী হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। টেলিভিশন চ্যানেলের বিভিন্ন আয়োজনে শাহ আলম সরকারের সাথে শরিয়ত মারফত এবং শেফালি সরকারের সাথে গুরু- শিষ্য পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শকদের প্রশংসা কুড়ান।
গত কয়েক বছরে দেশ-বিদেশে একাধিক মঞ্চে গান গেয়েছেন তিনি। মালদ্বীপসহ পাঁচ থেকে সাতটি দেশে পালা গান পরিবেশন করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। বিশেষ করে ২০১৭ সালে মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে অসুস্থ শরীর নিয়েও অংশ নিয়ে গান পরিবেশন।।এটি তার সংগীতজীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
রুমী সরকার মনে করেন, লোকগানের মূল শক্তি তার বাণী ও আধ্যাত্মিকতায়। এই গান মানুষকে শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত করে, জীবনের গভীরতা উপলব্ধি করতে শেখায়। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে লোকগানকে আরও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশে অবদান রাখতে চান এই শিল্পী। তার প্রত্যাশা—সুযোগ পেলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পালা গানকে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরবেন, যাতে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের লোকসংগীতের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়।